কালো পাহাড়ের দাম ১০ লাখ টাকা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৯ জুলাই ২০২০, ২৩:৫৮:২২ | অনলাইন সংস্করণ

হাটের বেপারীরা গরুর দাম চাইছে চড়া। সে কারণে ক্রেতারা গরু কিনছে কম। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাট দনিয়া কলেজ মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গার পশুর হাটে এমনটিই দেখা মেলে।

হাটে ১২ থেকে ১৫ হাজার গরু উঠেছে। তারপরও খামারিরা বলছে অন্যান্য বছরের তুলনায় হাটে গরু কম। ঈদের বাকি আছে আরও ২ দিন। শেষের দিকে গরুর সংকট দেখা দিতে পারে। সে জন্য বেশি দরে বিক্রির আশায় গরু বিক্রি করছে না।

দনিয়া পশুর হাটে ১৩০০ কেজি ওজনের গরু উঠেছে। নাম রাখা হয়েছে কালো পাহাড়। এ বিশাল আকৃতির গরুর মূল্য হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। গরুর মালিক আবুল শেখ। মাদারীপুরের শিবচর থেকে এ গরু নিয়ে হাটে আসেন। তবে হাটে এই গরু কেনার উল্লেখযোগ্য তেমন ক্রেতা নেই। ক্রেতারা কেউ ৩ আবার কেউ সাড়ে ৩ লাখ টাকা দাম বলছেন।

আবুল শেখ যুগান্তরকে বলেন, সিনজি ইন্ডিয়ান জাতের গরু এটি। চালের কুড়া, গমের ভুষি, মসুরের ভুষি খাইয়ে গরুটি পালন করা হয়েছে।

হাটে ৫৬০ কেজি ওজনের আরেকটি গরু হাটে আনেন যাত্রাবাড়ীর খামারি মোস্তফা। তিনি গরুটির মূল্য হাঁকছেন ৫ লাখ। ক্রেতারা সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত গরুর দাম বলেছেন।

এ দিকে ক্রেতারা বলছেন, করোনাভাইরাসের দুর্যোগের কারণে মানুষের হাতে তেমন টাকা-পয়সা নেই। অনেকে সংসার পরিচালনা করতে হিম শিম খাচ্ছেন। সে কারণে হাটে ক্রেতা কম। এর মধ্যে বেপারীরা গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন। অযাচিত দাম চাইলে কিনব কেমন করে? হাতে আরও দুইদিন সময় আছে।

৪ দিন হয়েছে ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে ১৮ গরু নিয়ে আসেন তৈয়বুর রহমান। বিক্রি করেছেন ১টি। তিনি ১টি গরু বিক্রি করেও খুশি। ভালো টাকা লাভ হয়েছে। বেপারী বলেন, গ্রামে গরু নেই। বন্যার কারণে সব গরু শহরে নিয়ে আসা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ থেকে বাবুলসহ ৬ জন খামারি ৩৯টি গরু হাটে আনেন শনিবার। এ পর্যন্ত ৩টি গরু বিক্রি হয়েছে। একটির মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ২টি গরু বিক্রি করেছে ২ লাখ ২০ হাজার টাকায়।

মতিঝিল থেকে সুজন গরু কিনতে আসেন দনিয়া কলেজ মাঠ হাটে। সকাল থেকে হাটে গরু দেখছেন তিনি। ২টি মাঝারি সাইজের গরু ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলেছেন। খামারি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার নিচে বেচবে না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কষাকষি চলছে।

সাজাহানপুর থেকে এসেছেন মনির হোসেন। সঙ্গে রয়েছে ৮ বছরের তার মেয়ে। তিনি দনিয়া গরু হাটে গরু ক্রয় করতে আসেন। ২টি মাঝারি সাইজের গরু ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলেছেন তিনি। কিন্তু খামারি দিচ্ছে না।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে টাকা-পয়সা তেমন নেই। গরু কিনতে গিয়ে দেখা মেলে খামারিরা অধিক মূল্য চাইছেন।

দনিয়া কলেজ মাঠ কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদার কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, শুরুতে করোনার কারণে অনেক বেপারীরা হাটে গরু নিয়ে আসতে রাজি ছিলেন না। পরে বিভিন্ন জেলার গরু এসেছে। হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণে গরু উঠেছে।

বেচাকেনা কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, শহরের লোকজনের গরু রাখার জায়গা কম। যাদের জায়গা আছে ও ভিড় এড়াতে চান তারা এখন গরু কিনছেন। বাকিরা কিনবেন শেষ দিকে।

স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে কামরুজ্জান বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে হাটে মাস্ক পরে সে জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। তাছাড়া ভলান্টিয়াররা দেখভাল করছে। বেপারী ও খামারিদের পশু রাখতে যাতে কোনো প্রকার সমস্যা না হয়, সে জন্য তাঁবু টানিয়ে দিয়েছি। নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। জাল টাকা নির্ধারণের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত