ফেসবুকে লেখালেখি না করার শর্তে মুক্তি পেয়েছি: আশরাফ মাহাদী

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ আগস্ট ২০২০, ১২:৫৩:১০ | অনলাইন সংস্করণ

আশরাফ মাহাদী। ছবি-ফেসবুক

তুলে নেয়ার দুদির পর ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত ফজলুল হক আমিনীর নাতি আশরাফ মাহাদীকে ছেড়ে দিয়েছে অপরহরণকারীরা।

গত শনিবার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে অপহরণকারীরা তাকে ফেলে যায়। একই জায়গা থেকে গত ৬ জুলাই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন আশরাফ মাহাদী।

মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশরাফ মাহাদী নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, ফেসবুকে লেখালেখি না করার শর্তেই তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

তবে কারা তাকে অপহরণ করেছে সে ব্যাপারে খোলাসা করে কিছু তিনি বলেননি।

আশরাফ মাহাদী ফেসবুকে লেখেন, দুদিন তারা আমাকে একটা কথাই বুঝিয়েছে, ফেসবুকে লেখালেখি বন্ধ করতে হবে। লেখালেখি না করার শর্তেই আজ মুক্তি পেয়েছি। আপাতত এর থেকে বেশি কিছু লেখার মত শক্তি নেই।

পরে অবশ্য আরেকটি স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ লেখালেখি থেকে আপাতত দূরে থাকবেন তিনি।

তার পিতা মাওলানা জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, আশরাফ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জসিম উদ্দিন লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। গত ২৫ জুলাই আশরাফ মিসরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। বাংলাদেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ দুবাই থেকে তাকে ফিরিয়ে আনে। তার ছেলের নামে দলেরই আরেকটি ছেলে মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় তাকে চট্টগ্রামের একটি আদালতে উপস্থাপন করা হয় গত ২৮ জুলাই। ওই দিনই আদালত তাকে জামিন দেন। ওই মামলায় আসামি ছিলেন নয়জন। তাদের মধ্যে শুধু আশরাফকেই গ্রেফতার করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, যাদের হস্তক্ষেপে আশরাফ মাহাদীকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তারাই তার ছেলেকে অপহরণ করেছিলেন।

গত ৬ জুলাই রাতে আশরাফ মাহাদী লালবাগে তার নানির সঙ্গে দেখা করে রিকশায় ফিরছিলেন। রাত ১১টা ২৭ মিনিটে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেন তাকে কেউ অনুসরণ করছে। তার কিছু হলে দায়ী হবেন ফয়জুল্লাহ-আলতাফ গং। তারপর তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই সময় আশরাফের অবস্থান ছিল মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে। ৮ জুলাই বেড়িবাঁধের কাছেই অপহরণকারীরা তাকে ফেলে রেখে যায়। একটি মোবাইলের দোকান থেকে তিনি যোগাযোগ করলে জসিম উদ্দিন গিয়ে তাকে নিয়ে আসেন। সকালে তারা পুলিশের সঙ্গে দেখা করেন।

জসিম উদ্দিন আরও বলেন, দুদিনের অজ্ঞাতবাসে অপহরণকারীরা আশরাফের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করেছেন যে তিনি আর ফেসবুকে লেখালেখি করবেন না। লেখালেখির সূত্র ধরে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের একটি অংশের সঙ্গে বাহাস চলছিল আশরাফের।

লালবাগ থানার ওসি কেএম আশরাফ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, আশরাফ মাহাদীর ফেরত আসার কথা তারা জেনেছেন। তবে কেন অপহরণ করা হয়েছে জানেন না।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত