ধর্ষণ মামলার এজহারে মামুন-নুরের বিরুদ্ধে যা জানালেন ঢাবি ছাত্রী
jugantor
ধর্ষণ মামলার এজহারে মামুন-নুরের বিরুদ্ধে যা জানালেন ঢাবি ছাত্রী

  অনলাইন ডেস্ক  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:২১:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ধর্ষণ মামলায় আসামি ভিপি নুর ও প্রধান আসামি হাসান আল মামুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৬ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী।

গত ৩ জানুয়ারি ধর্ষণ এবং এতে সহযোগিতার অভিযোগ এনে রোববার লালবাগ থানায় তাদের নামে এ মামলা করা হয়।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুনকে।

ধর্ষণে সহযোগী হিসেবে ভিপি নুরসহ আরও ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ভিপি নুর ছাড়া অপর চার আসামি হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান ও মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকী।

সোমবার যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আশরাফ উদ্দিন বলেন, বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। মামলার এজহারে হাসান আল মামুন নামে একই বিভাগের শিক্ষার্থীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজহারে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেছেন, হাসান আল মামুন আমার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সুবাদে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে মামুনের সঙ্গে আমি প্রেমের সম্পর্কে জড়াই। প্রেম চলাকালীন ম্যাসেঞ্জার, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আমাকে শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয় মামুন। গত ৩ জানুয়ারি দুপুরে হাসান আল মামুন আমাকে তার রাজধানীর নবাবগঞ্জের মসজিদ রোডের ১০৪ নম্বর বাসায় যেতে বলে। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মামুন আমাকে ধর্ষণ করে।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর ৪ জানুয়ারি আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। ১২ জানুয়ারি মামুনের বন্ধু সোহাগ আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। ওই সময় মামুন ও সোহাগের কারণে আমি ক্যাম্পাসের গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। এর আগে মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রথমে রাজি হলেও পরে সে আমাকে এড়িয়ে যেতে শুরু করে।

মামলায় ভিপি নুরকে আসামি করার বিষয়ে ওই ছাত্রীর অভিযোগ, উপায় না দেখে ২০ জুন বিষয়টি ভিপি নুরকে জানাই। তিনি মামুনের সঙ্গে বসে একটা সুব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এর চার দিন পর ভিপি নুর নীলক্ষেতে আমার সঙ্গে দেখা করেন কিন্তু তিনি মীমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে আমাকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। বাড়াবাড়ি করলে তার ভক্তদের দিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের ১.১ মিলিয়ন সদস্যের ফেসবুক গ্রুপে আমার নামে কুৎসা রটাবেন বলে হুমকি দেন। ওই সময় নুর আরও জানান তার একটি লাইভে আমার সব সম্মান চলে যাবে। ইতোমধ্যে মামলার চার নম্বর আসামি সাইফুল ইসলাম আমার নামে কুৎসা রটিয়েছে এবং ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে লাগিয়ে দেয় কুৎসা রটাতে। তারা ম্যাসেঞ্জার চ্যাট গ্রুপে আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করাসহ সম্মিলিতভাবে চক্রান্ত করে।

জানুয়ারির ঘটনায় সাড়ে ৮ মাসের বেশি সময় পরে মামলা করার বিষয় ওই ছাত্রী জানান, তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়ায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।

ধর্ষণ মামলার এজহারে মামুন-নুরের বিরুদ্ধে যা জানালেন ঢাবি ছাত্রী

 অনলাইন ডেস্ক 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ধর্ষণ মামলায় আসামি ভিপি নুর ও প্রধান আসামি হাসান আল মামুন
ধর্ষণ মামলায় আসামি ভিপি নুর ও প্রধান আসামি হাসান আল মামুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৬ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। 

গত ৩ জানুয়ারি ধর্ষণ এবং এতে সহযোগিতার অভিযোগ এনে রোববার লালবাগ থানায় তাদের নামে এ মামলা করা হয়।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুনকে।

ধর্ষণে সহযোগী হিসেবে ভিপি নুরসহ আরও ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ভিপি নুর ছাড়া অপর চার আসামি হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান ও মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকী।

সোমবার যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আশরাফ উদ্দিন বলেন, বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। মামলার এজহারে হাসান আল মামুন নামে একই বিভাগের শিক্ষার্থীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজহারে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেছেন, হাসান আল মামুন আমার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সুবাদে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে মামুনের সঙ্গে আমি প্রেমের সম্পর্কে জড়াই। প্রেম চলাকালীন ম্যাসেঞ্জার, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আমাকে শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয় মামুন। গত ৩ জানুয়ারি দুপুরে হাসান আল মামুন আমাকে তার রাজধানীর নবাবগঞ্জের মসজিদ রোডের ১০৪ নম্বর বাসায় যেতে বলে। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মামুন আমাকে ধর্ষণ করে।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর ৪ জানুয়ারি আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। ১২ জানুয়ারি মামুনের বন্ধু সোহাগ আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। ওই সময় মামুন ও সোহাগের কারণে আমি ক্যাম্পাসের গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। এর আগে মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রথমে রাজি হলেও পরে সে আমাকে এড়িয়ে যেতে শুরু করে।

মামলায় ভিপি নুরকে আসামি করার বিষয়ে ওই ছাত্রীর অভিযোগ, উপায় না দেখে ২০ জুন বিষয়টি ভিপি নুরকে জানাই। তিনি মামুনের সঙ্গে বসে একটা সুব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এর চার দিন পর ভিপি নুর নীলক্ষেতে আমার সঙ্গে দেখা করেন কিন্তু তিনি মীমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে আমাকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। বাড়াবাড়ি করলে তার ভক্তদের দিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের ১.১ মিলিয়ন সদস্যের ফেসবুক গ্রুপে আমার নামে কুৎসা রটাবেন বলে হুমকি দেন। ওই সময় নুর আরও জানান তার একটি লাইভে আমার সব সম্মান চলে যাবে। ইতোমধ্যে মামলার চার নম্বর আসামি সাইফুল ইসলাম আমার নামে কুৎসা রটিয়েছে এবং ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে লাগিয়ে দেয় কুৎসা রটাতে। তারা ম্যাসেঞ্জার চ্যাট গ্রুপে আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করাসহ সম্মিলিতভাবে চক্রান্ত করে।

জানুয়ারির ঘটনায় সাড়ে ৮ মাসের বেশি সময় পরে মামলা করার বিষয় ওই ছাত্রী জানান, তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়ায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।
 

 

ঘটনাপ্রবাহ : ভিপি নুরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০