তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আইন ও নীতি সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ
jugantor
তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আইন ও নীতি সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২১ জানুয়ারি ২০২১, ১৪:৫৯:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের জনগণের স্বাস্থ্য উন্নয়নের সঙ্গে সে দেশের প্রচলিত আইন ও নীতিগুলোর সম্পর্ক নিবিড়। স্বার্থান্বেষী কিছু গোষ্ঠী এ সব নীতিকে তাদের স্বার্থে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে থাকে। এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোর মাঝে তামাক কোম্পানি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে তামাক নিয়ন্ত্রণকে আরো অধিক গুরুত্ব প্রদান এবং রাষ্ট্রে প্রচলিত অন্যান্য আইন থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে এ ধরনের বিধানগুলো যুগোপযোগী করা জরুরি।

মঙ্গলবার ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের কৈর্বত্য সভাকক্ষে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আইন ও নীতি সংক্রান্ত গবেষনা প্রতিবেদন প্রকাশ’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ বাচাঁও আন্দোলন (পবা) এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, দি ইউনিয়ন এর কারিগরী পরামর্শক এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. ফরহাদ রেজা, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল হেলাল আহমেদ, সিটিএফকে এর সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার আতিউর রহমান মাসুদ, ডাস এর উপদেষ্টা আমিনুল ইসলাম বকুল।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান।

সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলকে শক্তিশালী করে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রের আইন ও নীতি সুরক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আবু নাসের খান বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্যই কাম্য। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগের নামে যেন তামাকের স্বাস্থ্যহানিকর পণ্যে উৎসাহ প্রদান না করা হয়; সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কিছু আইনে প্রত্যক্ষভাবে সমস্যা তৈরি না করলেও পরোক্ষভাবে তামাক কোম্পানিকে সুযোগ দেবার বিষয়টি রয়ে গেছে। রাষ্ট্রের কল্যাণেই এগুলোকে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক ও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।

এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, ১৯৯০ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপের কারণে এটি সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

‘এ ঘটনার ১৫ বছর পর বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সব তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এ দীর্ঘ সময়ের মাঝে হাজার হাজার তরুণকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ধূমপানে আকৃষ্ট করার সুযোগ পেয়েছে কোম্পানিগুলো। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক কোম্পানিগুলোর এ ধরনের সুযোগ বন্ধ করা জরুরি।’

ডা. ফরহাদ রেজা বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল কার্যক্রম চলছে। এ সময় বাংলাদেশের অন্যান্য আইনগুলো তামাক নিয়ন্ত্রণে কি ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে এমন একটি গবেষণায় দেশের তামাক নিয়ন্ত্রণকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আইন ও নীতি সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২১ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের জনগণের স্বাস্থ্য উন্নয়নের সঙ্গে সে দেশের প্রচলিত আইন ও নীতিগুলোর সম্পর্ক নিবিড়। স্বার্থান্বেষী কিছু গোষ্ঠী এ সব নীতিকে তাদের স্বার্থে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে থাকে। এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোর মাঝে তামাক কোম্পানি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে তামাক নিয়ন্ত্রণকে আরো অধিক গুরুত্ব প্রদান এবং রাষ্ট্রে প্রচলিত অন্যান্য আইন থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে এ ধরনের বিধানগুলো যুগোপযোগী করা জরুরি। 

মঙ্গলবার ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের কৈর্বত্য সভাকক্ষে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আইন ও নীতি সংক্রান্ত গবেষনা প্রতিবেদন প্রকাশ’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। 

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ বাচাঁও আন্দোলন (পবা) এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, দি ইউনিয়ন এর কারিগরী পরামর্শক এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. ফরহাদ রেজা, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল হেলাল আহমেদ, সিটিএফকে এর সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার আতিউর রহমান মাসুদ, ডাস এর উপদেষ্টা আমিনুল ইসলাম বকুল। 

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান।
 
সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলকে শক্তিশালী করে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রের আইন ও নীতি সুরক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।  

আবু নাসের খান বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্যই কাম্য। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগের নামে যেন তামাকের স্বাস্থ্যহানিকর পণ্যে উৎসাহ প্রদান না করা হয়; সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কিছু আইনে প্রত্যক্ষভাবে সমস্যা তৈরি না করলেও পরোক্ষভাবে তামাক কোম্পানিকে সুযোগ দেবার বিষয়টি রয়ে গেছে। রাষ্ট্রের কল্যাণেই এগুলোকে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক ও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।

এড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, ১৯৯০ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপের কারণে এটি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। 

‘এ ঘটনার ১৫ বছর পর বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সব তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এ দীর্ঘ সময়ের মাঝে হাজার হাজার তরুণকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ধূমপানে আকৃষ্ট করার সুযোগ পেয়েছে কোম্পানিগুলো। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক কোম্পানিগুলোর এ ধরনের সুযোগ বন্ধ করা জরুরি।’ 

ডা. ফরহাদ রেজা বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল কার্যক্রম চলছে। এ সময় বাংলাদেশের অন্যান্য আইনগুলো তামাক নিয়ন্ত্রণে কি ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে এমন একটি গবেষণায় দেশের তামাক নিয়ন্ত্রণকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন