৫০ টাকারও গরুর মাংস বিক্রি হয়!
jugantor
৫০ টাকারও গরুর মাংস বিক্রি হয়!

  এমরান হোসাইন  

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:৪৮:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

মিরপুর

বাজারে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া- এমন সময়েও রাজধানীর মিরপুরে দুই ভাই ৫০ টাকার গরুর মাংস বিক্রি করছেন। মিরপুর-১২ নম্বরের ই-ব্লকের ৩৩ নম্বর সড়কের পশ্চিম দিকে বিহারি পট্টিতে ছোট একটি মাংসের দোকান। সেখানে গেলেই চোখে পড়ে ‘ভাতিজা শাহিদ ও শরিফের দোকান’ নামের দোকানটি। এখানেই গরু ও মুরগির মাংস বিক্রি করেন দুই ভাই শরিফ ও নবাব। সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে বিকিকিনি।

প্রতিদিন দোকানটিতে ১৩-১৪ হাজার টাকার মাংস বিক্রি করেন দুই ভাই। তারা সাত ভাই ও এক বোন। সঙ্গে রয়েছেন বাবা ও মা। থাকেন বিহারী পট্টিতে। বড় দুই ভাই বয়সে কিশোর হলেও সংসারের হাল তারাই ধরেছেন। দোকানটিতে কোনো ক্রেতা গেলেই যেকোনো পরিমাণের মাংস কিনতে পারেন। তারা ৫০ টাকারওগরুর মাংস বিক্রি করেন। কেউ চাইলে যে কোনো অংকের টাকায় কলিজা বা মুরগির মাংসও কিনতে পারেন। দুই ভাইয়ের নিজেদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলেও গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি রয়েছে মানবিকতা।

কথা হয় মাংস বিক্রেতা শরিফের সঙ্গে। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, গরুর মাংসের দাম যেখানে ৫৭০ টাকা কেজি, সেখানে তিনি কিভাবে ৫০ টাকার মাংস বিক্রি করেন। এর জবাবে তিনি জানান, যাদের মাংস খেতে খুব ইচ্ছে করে কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারেন না-মূলত তারাই এখানে মাংস কেনেন। ১৫ বছর ধরে তাদের এই দোকানটি। তার বাবা এক সময় দোকানটি চালাতেন। তখন থেকে তিনিও এভাবে মাংস বিক্রি করতেন। গত ৫ বছর ধরে দুই ভাই দোকানটি পরিচালনা করেন। তারাও বাবার দেখানো পথে এভাবে মাংস বিক্রি করেন।

শরিফ জানান, যে কেউ যে কোনো পরিমাণে মাংস কিনতে পারেন। এতে তাদের লাভ হয় না। কারণ এসব মাংসে তারা হাড় দেন না। তবুও গরিব মানুষের জন্য তারা এ ব্যবস্থাটি রেখেছেন।

এক বৃদ্ধ লোক নিয়মিত গরুর মাংসের ক্রেতা। তবে তিনি ৫০ টাকার মাংস কেনেন। সে মাংসের টুকরা ছোট ছোট করে কেটে দেন শরিফ। এভাবেই কিছু ক্রেতার কাছে মাংস বিক্রি করেই নাকি তিনি তৃপ্তি পান।

৫০ টাকারও গরুর মাংস বিক্রি হয়!

 এমরান হোসাইন 
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৭:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মিরপুর
নিজেদের দোকানে ক্রেতাদের জন্য মাংস নিয়ে অপেক্ষায় দুই ভাই শরিফ ও নবাব। ছবি: যুগান্তর

বাজারে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া- এমন সময়েও রাজধানীর মিরপুরে দুই ভাই ৫০ টাকার গরুর মাংস বিক্রি করছেন। মিরপুর-১২ নম্বরের ই-ব্লকের ৩৩ নম্বর সড়কের পশ্চিম দিকে বিহারি পট্টিতে ছোট একটি মাংসের দোকান। সেখানে গেলেই চোখে পড়ে ‘ভাতিজা শাহিদ ও শরিফের দোকান’ নামের দোকানটি। এখানেই গরু ও মুরগির মাংস বিক্রি করেন দুই ভাই শরিফ ও নবাব। সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে বিকিকিনি।

প্রতিদিন দোকানটিতে ১৩-১৪ হাজার টাকার মাংস বিক্রি করেন দুই ভাই। তারা সাত ভাই ও এক বোন। সঙ্গে রয়েছেন বাবা ও মা। থাকেন বিহারী পট্টিতে। বড় দুই ভাই বয়সে কিশোর হলেও সংসারের হাল তারাই ধরেছেন। দোকানটিতে কোনো ক্রেতা গেলেই যেকোনো পরিমাণের মাংস কিনতে পারেন। তারা ৫০ টাকারও গরুর মাংস বিক্রি করেন। কেউ চাইলে যে কোনো অংকের টাকায় কলিজা বা মুরগির মাংসও কিনতে পারেন।  দুই ভাইয়ের নিজেদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলেও গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি রয়েছে মানবিকতা।

কথা হয় মাংস বিক্রেতা শরিফের সঙ্গে। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, গরুর মাংসের দাম যেখানে ৫৭০ টাকা কেজি, সেখানে তিনি কিভাবে ৫০ টাকার মাংস বিক্রি করেন। এর জবাবে তিনি জানান, যাদের মাংস খেতে খুব ইচ্ছে করে কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারেন না-মূলত তারাই এখানে মাংস কেনেন। ১৫ বছর ধরে তাদের এই দোকানটি। তার বাবা এক সময় দোকানটি চালাতেন। তখন থেকে তিনিও এভাবে মাংস বিক্রি করতেন। গত ৫ বছর ধরে দুই ভাই দোকানটি পরিচালনা করেন। তারাও বাবার দেখানো পথে এভাবে মাংস বিক্রি করেন।

শরিফ জানান, যে কেউ যে কোনো পরিমাণে মাংস কিনতে পারেন। এতে তাদের লাভ হয় না। কারণ এসব মাংসে তারা হাড় দেন না। তবুও গরিব মানুষের জন্য তারা এ ব্যবস্থাটি রেখেছেন।

এক বৃদ্ধ লোক নিয়মিত গরুর মাংসের ক্রেতা। তবে তিনি ৫০ টাকার মাংস কেনেন। সে মাংসের টুকরা ছোট ছোট করে কেটে দেন শরিফ। এভাবেই কিছু ক্রেতার কাছে মাংস বিক্রি করেই নাকি তিনি তৃপ্তি পান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন