রাজধানীতে গৃহবধূর লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ
jugantor
রাজধানীতে গৃহবধূর লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:২৪:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িল

রাজধানীর ভাটারার প্রগতি সরণি এলাকায় এক গৃহবধূর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

সোমবার বিকালে এ অবরোধ করেন তারা। এর আগে রোববার রাতে স্বামীর বাসায় রহস্যজনক মৃত্যু হয় তানিয়া আক্তার আঁখি নামে ওই নারীর। স্বজনরা বলছেন, তাকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। আর পুলিশ বলছে, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় নিহতের স্বামীকে গ্রেফতার দেখিয়ে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এদিকে মামলার অপর আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

আঁখির চাচা রহিম আহমেদ আকাশ যুগান্তরকে বলেন, কুড়িল এলাকার তমিজ উদ্দিনের মেয়ে তানিয়া আক্তার আঁখিকে প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে দেওয়া হয়। স্বামী তালহাকে নিয়ে তিনি ভাটারার আই ব্লকে ভাড়া থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে তালহা তাকে নির্যাতন করত।

আকাশের অভিযোগ, গুলশানে মানিএক্সেঞ্জের ব্যবসা করেন তালহা। আকাশের মা জাহেরা বেগম বিয়ের পর থেকেই তার নাতনিকে বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা করতেন। মানি এক্সেঞ্জের ব্যবসার সব বিনিয়োগ ছিল জাহেরা বেগমের। দুই বছর আগে জাহেরা বেগম মারা গেলে টাকাপয়সার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ দিতে থাকেন তালহা। কিন্তু আগের মতো টাকাপয়সা দিতে না পারায় আঁখির সংসারে ঝগড়াঝাটি আরও বাড়তে থাকে। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার সালিশও হয়েছে। মাসতিনেক আগেও তালহা আঁখিকে মারধর করে। তার পায়ে হাতুড়িপেটার দাগ রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে রোববার রাত ৮টার দিকে স্বজনরা খবর পান আঁখি মারা গেছে। তবে আঁখির স্বামী ও তার স্বজনরা জানান, আঁখি ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এদিকে আঁখির স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ মর্গে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। কিন্তু আঁখি আত্মহত্যা করতে পারে এমনটা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, আঁখিকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পরপরই ওই বাড়ির লোকজন আঁখির স্বামী তালহাকে আটক করে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালহাকে আটক দেখিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরে আঁখির বাবা তমিজ উদ্দিন ভাটারা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আঁখির স্বামী তালহা এবং তার বোন লাকীকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে আঁখির লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা কুড়িল এলাকায় নিয়ে আসে। এরপর তালহার ফাঁসির দাবিতে লাশ নিয়ে বিকাল সোয়া ৫টা থেকে সোয়া ৬টা পর্যন্ত প্রগতি সরণির সড়ক অবরোধ করেন তার স্বজনরা ও এলাকাবাসী। এ সময় তারা স্লোগান দেন-আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাইরে।

ভাটারা থানার ওসি মুক্তারুজ্জামান বলেন, সড়ক অবরোধ করার পর আমরা লোকজনকে বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তালহাকে দুদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে এবং পুলিশি অনুসন্ধানের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে আঁখির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

রাজধানীতে গৃহবধূর লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কুড়িল
ছবি: যুগান্তর

রাজধানীর ভাটারার প্রগতি সরণি এলাকায় এক গৃহবধূর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। 

সোমবার বিকালে এ অবরোধ করেন তারা। এর আগে রোববার রাতে স্বামীর বাসায় রহস্যজনক মৃত্যু হয় তানিয়া আক্তার আঁখি নামে ওই নারীর। স্বজনরা বলছেন, তাকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। আর পুলিশ বলছে, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় নিহতের স্বামীকে গ্রেফতার দেখিয়ে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এদিকে মামলার অপর আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। 

আঁখির চাচা রহিম আহমেদ আকাশ যুগান্তরকে বলেন, কুড়িল এলাকার তমিজ উদ্দিনের মেয়ে তানিয়া আক্তার আঁখিকে প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে দেওয়া হয়। স্বামী তালহাকে নিয়ে তিনি ভাটারার আই ব্লকে ভাড়া থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে তালহা তাকে নির্যাতন করত। 

আকাশের অভিযোগ, গুলশানে মানিএক্সেঞ্জের ব্যবসা করেন তালহা। আকাশের মা জাহেরা বেগম বিয়ের পর থেকেই তার নাতনিকে বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা করতেন। মানি এক্সেঞ্জের ব্যবসার সব বিনিয়োগ ছিল জাহেরা বেগমের। দুই বছর আগে জাহেরা বেগম মারা গেলে টাকাপয়সার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ দিতে থাকেন তালহা। কিন্তু আগের মতো টাকাপয়সা দিতে না পারায় আঁখির সংসারে ঝগড়াঝাটি আরও বাড়তে থাকে। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার সালিশও হয়েছে। মাসতিনেক আগেও তালহা আঁখিকে মারধর করে। তার পায়ে হাতুড়িপেটার দাগ রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। 

এদিকে রোববার রাত ৮টার দিকে স্বজনরা খবর পান আঁখি মারা গেছে। তবে আঁখির স্বামী ও তার স্বজনরা জানান, আঁখি ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এদিকে আঁখির স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ মর্গে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। কিন্তু আঁখি আত্মহত্যা করতে পারে এমনটা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, আঁখিকে হত্যা করা হয়েছে। 

এদিকে ঘটনার পরপরই ওই বাড়ির লোকজন আঁখির স্বামী তালহাকে আটক করে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালহাকে আটক দেখিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরে আঁখির বাবা তমিজ উদ্দিন ভাটারা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আঁখির স্বামী তালহা এবং তার বোন লাকীকে আসামি করা হয়েছে। 

এদিকে সোমবার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে আঁখির লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা কুড়িল এলাকায় নিয়ে আসে। এরপর তালহার ফাঁসির দাবিতে লাশ নিয়ে বিকাল সোয়া ৫টা থেকে সোয়া ৬টা পর্যন্ত প্রগতি সরণির সড়ক অবরোধ করেন তার স্বজনরা ও এলাকাবাসী। এ সময় তারা স্লোগান দেন-আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাইরে। 

ভাটারা থানার ওসি মুক্তারুজ্জামান বলেন, সড়ক অবরোধ করার পর আমরা লোকজনকে বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তালহাকে দুদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে এবং পুলিশি অনুসন্ধানের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  সোমবার সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে আঁখির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

 
আরও খবর