বহিষ্কৃত এশার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিল ঢাবি

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

  ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে নিপীড়নের অভিযোগে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভের মুখে এশাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী কবি সুফিয়া কামাল হলে রগ কাটার কোনো ঘটনা ঘটেনি। যেহেতু রগ কাটার কোনো ঘটনা ঘটেনি, তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশার সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।’

‘রগ কাটা’র অভিযোগ ছাড়া এশার বিরুদ্ধে ছাত্রী নিপীড়নের অন্য যেসব অভিযোগ এসেছে সেসব ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। এমন অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি।’

এদিকে এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ২৬ ছাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের চিন্তা করছে বিশ্ববিদ্যালয়। 

এ বিষয়ে ভিসি বলেন, ‘২৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা মারধর ও বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে বেরিয়ে এসেছে। হল কর্তৃপক্ষ শৃঙ্খলা কমিটিতে তাদের নাম জমা দিয়েছে। তাদেরকে ‘কেন বহিষ্কার করা হবেনা?’- মর্মে নোটিশ দেয়া হয়েছে। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গত ১১ এপ্রিল রাতে কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশরাত জাহান এশার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেয়ায় হলের ছাত্রীদের নিপীড়ন এবং শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোর্শেদা খানমের পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এরপরই হলের ভেতর এবং বাইরে ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়। এশার গলায় জুতার মালা পরানো হয়। 

পরে ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনায় এশাকে বিশ্ববিদ্যালয়, হল ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। রগকাটার ঘটনা মিথ্যা ও গুজব প্রমাণিত হওয়ায় এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ছাত্রলীগ। তাকে হেনস্থা করার অভিযোগে ১৬ এপ্রিল মোর্শেদা খানমসহ ২৪ ছাত্রলীগ নেত্রীকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। এই বহিষ্কারাদেশ নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকে বলছেন, কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই ২৪ ছাত্রলীগ নেত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে