ফেসবুক লাইভে এসে ডিএনসিসি কাউন্সিলরের যত অভিযোগ
jugantor
ফেসবুক লাইভে এসে ডিএনসিসি কাউন্সিলরের যত অভিযোগ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ জুলাই ২০২১, ২৩:১১:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম

এলাকার দুর্ভোগ নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম।আনিছুর রহমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক। দলীয় সমর্থন নিয়ে দক্ষিণখান, আশকোনা এলাকার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে একটি নর্দমার পাশে দাঁড়িয়ে ফেসবুক লাইভে আনিছুর রহমান বলেন, ‘সুয়ারেজের পানি, এটা ড্রেন না রাস্তা বোঝার কোনো উপায় নেই। মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে করতে, বাপ-মার বকা খাইতে খাইতে ঘরে থাকতে পারছি না। এই যদি হয় একটা রাস্তা এবং এগুলো যদি দেখার কেউ না থাকে। ফেসবুকে, টুইটারে সবাই বাহবা নেওয়ার জন্য বসে থাকে। এই রাজধানী ঢাকায় আমরা কীভাবে বসবাস করি একটু দেখে যান।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কিসের ট্যাক্স দেব আমরা? কিসের সিটি করপোরেশনের অধিবাসী?’

১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে কাউন্সিলর বলেন, ‘আমাদের (ডিএনসিসি) চিফ ইঞ্জিনিয়ার মহোদয় এখানে এসেছিলেন। মেয়র মহোদয় আপনি বারবার আশ্বাস দিচ্ছেন। আমরা তো বাঁচতে চাই। আমাদের বাঁচার একটা ব্যবস্থা করেন। বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ জানাই, আমরা কারও বিরুদ্ধে না।’

একপর্যায়ে কাউন্সিলর বলেন, ‘আমরা সামান্য একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে কী করতে পারি। মানুষের বকা খাওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই। কিসের ট্যাক্স দেব আমরা? কিসের সিটি করপোরেশনের অধিবাসী? গ্রামকে গ্রাম উন্নয়ন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ঘরছাড়া মানুষকে ঘর দিচ্ছেন। বড় বড় রাস্তা, হাইওয়ে তৈরি হচ্ছে। অথচ রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে আমাদের এই ওয়ার্ড।’

ভিডিওর শেষ দিকে কাউন্সিলর আনিছুর রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া ১৮টি নতুন ওয়ার্ডের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ১৮টি ওয়ার্ডের জনগণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছে। আবার ভোট এলে তাদের কাছে ভোট চাইতে হবে। তিনি বলেন, ‘মানুষ জান দিয়া দিবে আবার যদি ভোট চাইতে আসি এখানে। সুতরাং আমরা ঝাড়ুর বাড়ি খাইতে চাই না। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বিপ্লবের অংশীদার হতে চাই।’

এ বিষয়ে কাউন্সিলর আনিছুর রহমান একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি নিজের প্রতিই বিরক্ত। ভুল-শুদ্ধ যা-ই হোক, মনের আবেগ থেকে বলেছি। দুই দফায় কাউন্সিলর হলাম, কিছুই করতে পারছি না। এলাকায় গেলে মানুষ পেছন থেকে বাপ-মা তুলে গালিগালাজ করে।

ফেসবুক লাইভের প্রতিক্রিয়া কী জানতে চাইলে আনিছুর রহমান বলেন, মেয়র ফোন করে বলেছেন, এর দায় আমার এবং তোমারও। তবে মেয়র তাকে এভাবে বলতে নিরুৎসাহিত করেছেন। কারণ, এভাবে বললে মানুষ আরও হতাশ হয়ে যাবে।

ফেসবুক লাইভে এসে ডিএনসিসি কাউন্সিলরের যত অভিযোগ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ জুলাই ২০২১, ১১:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম। ছবি: সংগৃহীত

এলাকার দুর্ভোগ নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম।আনিছুর রহমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক। দলীয় সমর্থন নিয়ে দক্ষিণখান, আশকোনা এলাকার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে একটি নর্দমার পাশে দাঁড়িয়ে ফেসবুক লাইভে আনিছুর রহমান বলেন, ‘সুয়ারেজের পানি, এটা ড্রেন না রাস্তা বোঝার কোনো উপায় নেই। মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে করতে, বাপ-মার বকা খাইতে খাইতে ঘরে থাকতে পারছি না। এই যদি হয় একটা রাস্তা এবং এগুলো যদি দেখার কেউ না থাকে। ফেসবুকে, টুইটারে সবাই বাহবা নেওয়ার জন্য বসে থাকে। এই রাজধানী ঢাকায় আমরা কীভাবে বসবাস করি একটু দেখে যান।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কিসের ট্যাক্স দেব আমরা? কিসের সিটি করপোরেশনের অধিবাসী?’

১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে কাউন্সিলর বলেন, ‘আমাদের (ডিএনসিসি) চিফ ইঞ্জিনিয়ার মহোদয় এখানে এসেছিলেন। মেয়র মহোদয় আপনি বারবার আশ্বাস দিচ্ছেন। আমরা তো বাঁচতে চাই। আমাদের বাঁচার একটা ব্যবস্থা করেন। বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ জানাই, আমরা কারও বিরুদ্ধে না।’

একপর্যায়ে কাউন্সিলর বলেন, ‘আমরা সামান্য একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে কী করতে পারি। মানুষের বকা খাওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই। কিসের ট্যাক্স দেব আমরা? কিসের সিটি করপোরেশনের অধিবাসী? গ্রামকে গ্রাম উন্নয়ন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ঘরছাড়া মানুষকে ঘর দিচ্ছেন। বড় বড় রাস্তা, হাইওয়ে তৈরি হচ্ছে। অথচ রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে আমাদের এই ওয়ার্ড।’

ভিডিওর শেষ দিকে কাউন্সিলর আনিছুর রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া ১৮টি নতুন ওয়ার্ডের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ১৮টি ওয়ার্ডের জনগণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছে। আবার ভোট এলে তাদের কাছে ভোট চাইতে হবে। তিনি বলেন, ‘মানুষ জান দিয়া দিবে আবার যদি ভোট চাইতে আসি এখানে। সুতরাং আমরা ঝাড়ুর বাড়ি খাইতে চাই না। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বিপ্লবের অংশীদার হতে চাই।’

এ বিষয়ে কাউন্সিলর আনিছুর রহমান একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি নিজের প্রতিই বিরক্ত। ভুল-শুদ্ধ যা-ই হোক, মনের আবেগ থেকে বলেছি। দুই দফায় কাউন্সিলর হলাম, কিছুই করতে পারছি না। এলাকায় গেলে মানুষ পেছন থেকে বাপ-মা তুলে গালিগালাজ করে।

ফেসবুক লাইভের প্রতিক্রিয়া কী জানতে চাইলে আনিছুর রহমান বলেন, মেয়র ফোন করে বলেছেন, এর দায় আমার এবং তোমারও। তবে মেয়র তাকে এভাবে বলতে নিরুৎসাহিত করেছেন। কারণ, এভাবে বললে মানুষ আরও হতাশ হয়ে যাবে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন