লাখে মাসে ২ হাজার টাকার ফাঁদ, গ্রাহকদের পথে বসিয়েছে কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস 
jugantor
লাখে মাসে ২ হাজার টাকার ফাঁদ, গ্রাহকদের পথে বসিয়েছে কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস 

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৪২:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মালিক জসীম উদ্দিন

এক লাখে মাসে দুই হাজার টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার প্রভোলন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে মাল্টিপারপাসটির ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাবের একটি দল। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক জসীম উদ্দিনসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে। জসীম উদ্দিন যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে র‌্যাব।

কর্ণফুলী মাল্টিা পারপাসে অভিযানের বিষয়ে মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাব-৪–এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কোম্পানি লিমিটেড নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা রাখত। এক লাখ টাকা জমা রাখলে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত তারা। আর যে গ্রাহক জোগাড় করে দিত, তাকে দেওয়া হতো এক হাজার টাকা। আবার সঞ্চয়ী হিসাবও চালু করেছিল তারা।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে, কেউ যদি মাসে ১ হাজার টাকা জমা দিত, তাহলে পাঁচ বছর পর তাঁকে ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টাকা ভেঙে ভেঙে প্রথম কয়েক মাস দু-চার হাজার টাকা করে দিলেও পরে তারা ঘোরাতে শুরু করে।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, সমবায় সমিতির নামে প্রতিষ্ঠানটির মালিক জসীম উদ্দিন ২৫-৩০ হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের ১১০ কোটি টাকা লোপাট করেছে। বর্তমানে তাদের অ্যাকাউন্টে আছে ৮০ লাখ টাকার মতো।

ভুক্তভোগীরা পোশাককর্মী, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, অটোচালক, সবজি-ফল ব্যবসায়ী, গৃহকর্মীসহ সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ। কাগজে–কলমে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যসংখ্যা পাঁচ শতাধিক।

র‌্যাব জানায়, ভুক্তভোগীদের মূলধনের পুরোটাই হাতিয়ে নিয়েছেন জসীম উদ্দিন। পরে এই টাকা দিয়ে জসীম মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কর্ণফুলী রিয়েল এস্টেট লি., জসীম ইন্টারন্যাশনাল ওভারসিস লিমিটেড, জসীম স্টুডেন্টস কনসালটেন্সি ফার্ম লিমিটেড, জসীম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, জসীম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও জসীম নিট কম্পোজিট লিমিটেডের মালিক হন। তাঁর দুই স্ত্রীর একজন বসুন্ধরায় ও অন্যজন গ্রিন রোডে থাকেন। জসীমের একটি প্রাডো গাড়ি রয়েছে, গাজীপুরের মাওনায় প্লট ও তিনতলা বাড়ি, মিরপুরে বাড়ি, ঢাকার বাইরে কয়েক একর জমির সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় জসীম উদ্দিনের স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালক ও শ্যালিকা আছেন বলেও জানায় র‌্যাব।

সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ১০ জনকে গ্রেফতার করে। মিরপুরের নান্নু মার্কেট এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে ১৭টি মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব বই, ২৬টি চেক বই, ২টি হিসাব বই, ৩টি সিল, ১২০টি সঞ্চয়ী হিসাবের বই, পাসপোর্ট, টাকাসহ বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার করেছে।

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জসীম উদ্দিন একজন অলৌকিক, ভৌতিক চরিত্র। সমিতির সদস্যদের তিনি দেখা দেন না। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দেশেই আছেন। আমরা সব বন্দরকে জানিয়ে দেব, তিনি যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন।’

লাখে মাসে ২ হাজার টাকার ফাঁদ, গ্রাহকদের পথে বসিয়েছে কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস 

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মালিক জসীম উদ্দিন
কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মালিক জসীম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

এক লাখে মাসে দুই হাজার টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার প্রভোলন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে মাল্টিপারপাসটির ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাবের একটি দল। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক জসীম উদ্দিনসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে। জসীম উদ্দিন যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে র‌্যাব। 

কর্ণফুলী মাল্টিা পারপাসে অভিযানের বিষয়ে মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাব-৪–এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কোম্পানি লিমিটেড নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা রাখত। এক লাখ টাকা জমা রাখলে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত তারা। আর যে গ্রাহক জোগাড় করে দিত, তাকে দেওয়া হতো এক হাজার টাকা। আবার সঞ্চয়ী হিসাবও চালু করেছিল তারা।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে, কেউ যদি মাসে ১ হাজার টাকা জমা দিত, তাহলে পাঁচ বছর পর তাঁকে ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টাকা ভেঙে ভেঙে প্রথম কয়েক মাস দু-চার হাজার টাকা করে দিলেও পরে তারা ঘোরাতে শুরু করে।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, সমবায় সমিতির নামে প্রতিষ্ঠানটির মালিক জসীম উদ্দিন ২৫-৩০ হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের ১১০ কোটি টাকা লোপাট করেছে। বর্তমানে তাদের অ্যাকাউন্টে আছে ৮০ লাখ টাকার মতো।

ভুক্তভোগীরা পোশাককর্মী, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, অটোচালক, সবজি-ফল ব্যবসায়ী, গৃহকর্মীসহ সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ। কাগজে–কলমে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যসংখ্যা পাঁচ শতাধিক।

র‌্যাব জানায়, ভুক্তভোগীদের মূলধনের পুরোটাই হাতিয়ে নিয়েছেন জসীম উদ্দিন। পরে এই টাকা দিয়ে জসীম মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কর্ণফুলী রিয়েল এস্টেট লি., জসীম ইন্টারন্যাশনাল ওভারসিস লিমিটেড, জসীম স্টুডেন্টস কনসালটেন্সি ফার্ম লিমিটেড, জসীম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, জসীম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও জসীম নিট কম্পোজিট লিমিটেডের মালিক হন। তাঁর দুই স্ত্রীর একজন বসুন্ধরায় ও অন্যজন গ্রিন রোডে থাকেন। জসীমের একটি প্রাডো গাড়ি রয়েছে, গাজীপুরের মাওনায় প্লট ও তিনতলা বাড়ি, মিরপুরে বাড়ি, ঢাকার বাইরে কয়েক একর জমির সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। 

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় জসীম উদ্দিনের স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালক ও শ্যালিকা আছেন বলেও জানায় র‌্যাব।

সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ১০ জনকে গ্রেফতার করে। মিরপুরের নান্নু মার্কেট এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে ১৭টি মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব বই, ২৬টি চেক বই, ২টি হিসাব বই, ৩টি সিল, ১২০টি সঞ্চয়ী হিসাবের বই, পাসপোর্ট, টাকাসহ বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার করেছে।

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জসীম উদ্দিন একজন অলৌকিক, ভৌতিক চরিত্র। সমিতির সদস্যদের তিনি দেখা দেন না। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দেশেই আছেন। আমরা সব বন্দরকে জানিয়ে দেব, তিনি যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন