মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দেয় রাইদা, পেছন থেকে চাপা দেয় অনাবিল
jugantor
মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দেয় রাইদা, পেছন থেকে চাপা দেয় অনাবিল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ নভেম্বর ২০২১, ০২:২৭:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দেয় রাইদা, পেছন থেকে অনাবিল চাপা দেয় মাইনুদ্দিনকে

রাজধানীর রামপুরায় অনাবিল পরিবহণের একটি বাসচাপায় একএসএসসি পরীক্ষার্থীর নিহতের ঘটনার জেরে কমপক্ষে ৯টি বাসে অগ্নিসংযোগ ও তিনটি বাস ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। ভাঙচুর করা ও আগুন দেওয়া বাসের বেশিরভাই অনাবিল পরিবহণের।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডিআইটি রোডে সোনালী ব্যাংকের সামনে বাসচাপায় মাইনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয় (১৬) নামের ওই এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হন।

মাইনুদ্দিনের নিহত হওয়ার বিষয়ে রাকিব নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা ৪-৫ জন রামপুরার ওই সড়কের পাশেই ছিলাম। দেখলাম যে রাইদা পরিবহনের একটি বাস রামপুরা থেকে মালিবাগের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে একটি ছেলে রাইদা বাসে উঠতে চেষ্টা করে। বাসে ওঠার পর কোনো কারণে সঙ্গে সঙ্গে নামিয়ে দেওয়া হয়।

বাঁ পাশ দিয়েই বেপরোয়া গতিতে অনাবিল পরিবহনের একটি বাস আসছিল। বাসটি ওই ছেলেকে চাপা দেয়। এরপর আমরা বন্ধুরাসহ মোট ২০-২২ জন বাসটিকে রামপুরা থেকে মালিবাগের দিকে ধাওয়া করি। প্রায় এক কিলোমিটার যাওয়ার পর আমরা বাসটি আটকে দিই। পরে জানালা দিয়ে চালক ও দরজা দিয়ে হেল্পার পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, রাইদা ও অনাবিল উভয় বাসের চালকরা ফাঁকা রাস্তা পেয়ে প্রতিযোগিতা করে বাস চালাচ্ছিল। এটা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। দুই বাসই বেপরোয়া ছিল।

এদিকে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথমে দায়ী বাসটিতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বাস থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আহত এক ব্যক্তিকে জনতা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

এরপর ওই সড়কে সামনে পড়া একে একে আরও ৮টি বাসে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ জনতা।

ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন এবং নিরাপদ সড়কসহ ঘাতক চালককের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। যে কারণে ঘটনার পর থেকেই ডিআইডি সড়কসহ আশপাশের এলাকার যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।

নিহত মাইনুদ্দিন পূর্ব রামপুরার বাসিন্দা। তিনি রামপুরা একরামুন্নেসা বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। রামপুরার তিতাস রোডে ভাড়া বাসায় থেকে চায়ের দোকান চালান মাঈনুদ্দিনের বাবা।

ঘটনার বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সোমবার রাত ১১টার পর রামপুরা বাজারের কাছে আব্দুল্লাহপুর থেকে সায়েদাবাদগামী অনাবিল বাসের ধাক্কায় একজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা সড়ক অবরোধ করে বাসে আগুন দিয়েছে।

মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দেয় রাইদা, পেছন থেকে চাপা দেয় অনাবিল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ নভেম্বর ২০২১, ০২:২৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দেয় রাইদা, পেছন থেকে অনাবিল চাপা দেয় মাইনুদ্দিনকে
নিহত মাইনুদ্দিন ও সড়ক অবরোধ করে জনতার বিক্ষোভ। ছবি: যুগান্তর

রাজধানীর রামপুরায় অনাবিল পরিবহণের একটি বাসচাপায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর নিহতের ঘটনার জেরে কমপক্ষে ৯টি বাসে অগ্নিসংযোগ ও তিনটি বাস ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। ভাঙচুর করা ও আগুন দেওয়া বাসের বেশিরভাই অনাবিল পরিবহণের।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডিআইটি রোডে সোনালী ব্যাংকের সামনে বাসচাপায় মাইনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয় (১৬) নামের ওই এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হন।

মাইনুদ্দিনের নিহত হওয়ার বিষয়ে রাকিব নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, আমরা ৪-৫ জন রামপুরার ওই সড়কের পাশেই ছিলাম। দেখলাম যে রাইদা পরিবহনের একটি বাস রামপুরা থেকে মালিবাগের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে একটি ছেলে রাইদা বাসে উঠতে চেষ্টা করে। বাসে ওঠার পর কোনো কারণে সঙ্গে সঙ্গে নামিয়ে দেওয়া হয়।

বাঁ পাশ দিয়েই বেপরোয়া গতিতে অনাবিল পরিবহনের একটি বাস আসছিল। বাসটি ওই ছেলেকে চাপা দেয়। এরপর আমরা বন্ধুরাসহ মোট ২০-২২ জন বাসটিকে রামপুরা থেকে মালিবাগের দিকে ধাওয়া করি। প্রায় এক কিলোমিটার যাওয়ার পর আমরা বাসটি আটকে দিই। পরে জানালা দিয়ে চালক ও দরজা দিয়ে হেল্পার পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, রাইদা ও অনাবিল উভয় বাসের চালকরা ফাঁকা রাস্তা পেয়ে প্রতিযোগিতা করে বাস চালাচ্ছিল। এটা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। দুই বাসই বেপরোয়া ছিল। 

এদিকে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথমে দায়ী বাসটিতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বাস থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় আহত এক ব্যক্তিকে জনতা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। 

এরপর ওই সড়কে সামনে পড়া একে একে আরও ৮টি বাসে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ জনতা। 

ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন এবং নিরাপদ সড়কসহ ঘাতক চালককের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।  যে কারণে ঘটনার পর থেকেই ডিআইডি সড়কসহ আশপাশের এলাকার যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।

নিহত মাইনুদ্দিন পূর্ব রামপুরার বাসিন্দা। তিনি রামপুরা একরামুন্নেসা বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। রামপুরার তিতাস রোডে ভাড়া বাসায় থেকে চায়ের দোকান চালান মাঈনুদ্দিনের বাবা।

ঘটনার বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সোমবার রাত ১১টার পর রামপুরা বাজারের কাছে আব্দুল্লাহপুর থেকে সায়েদাবাদগামী অনাবিল বাসের ধাক্কায় একজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা সড়ক অবরোধ করে বাসে আগুন দিয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন