স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও নিয়মিত হাঁটলে কমে যাবে রোগব্যাধি
jugantor
ন্যাচারাল মেডিসিন নিয়ে রাজধানীতে সায়েন্টিফিক সেমিনার
স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও নিয়মিত হাঁটলে কমে যাবে রোগব্যাধি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:৫৫:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সায়েন্টিফিক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান ও  ড. এম মজিবুল হক। ছবি: যুগান্তর

বর্তমান বিশ্বেবেশিরভাগমানুষইনানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।ডায়াবেটিস, ওজন বেড়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন তারা। কারণ মানুষ হাঁটছে না। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে। এজন্য পরিমিত খেতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। ব্যায়াম করতে হবে।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ধানমণ্ডিরএকটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সায়েন্টিফিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যেএসব কথা বলেনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান।

তিনি বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের তিনটি দিক-মেডিকেল ব্যবস্থাপত্র, ফার্মাসিস্ট ও নার্স। তার সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন বা সাপ্লিমেন্টারি মেডিসিন। তার পাশাপাশি পুষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এখন। আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) পুষ্টির ওপর বেশ জোর দিয়েছে।

ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ড্রাস্টি লিমিটেডের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান আরওবলেন, সব রোগীর জন্য ন্যাচারাল মেডিসিন নয়। যাদের বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন তাদেরকে সেই চিকিৎসাই করাতে হবে। যারা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা সেই অনুযায়ীই করতে হবে। আবার কিছু রোগন্যাচারাল মেডিসিন দিয়েই ভালো উপকার হয়। এটা আমাদের বুঝতে হবে কোন পদ্ধতিটা কোন রোগীর ওপর প্রয়োগ করা হবে। সেই অনুযায়ীই চিকিৎসা করাতে হবে। এখানে সবাই মিলেই একটা সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই রোগীরা উপকৃত হবে।

ইবনে সিনার ন্যাচারাল মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসা বিজ্ঞানীআমেরিকানসেন্টার অব রিজেনারেটিভ হেলথের কনসালটেন্ট ড. এম মজিবুল হক।

তিনি বলেন, প্রত্যেকের শরীরে একশটা বডি সেল আছে। এই বডি সেলগুলো প্রতি মুহূর্তে রিজেনারেটেড হয়। আজ আমার একটা অর্গান বা অঙ্গ অসুস্থ হলে যদি আমরা রি জেনারেটেড খাবার দেই তাহলে সেটা সুস্থ হবে। আর যদি ভালো খাবার না দিই তাহলে সুস্থ অঙ্গও অসুস্থ হবে। আমাদের শরীর একটা ভাঙা-গড়ার মধ্যে যায়।

অধ্যাপক ড. আবু খুলদুন আল মাহমুদের সভাপতিত্বে রিজেনারেটিভ হেলথ উইথ নিউট্রিশন অ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিন শীর্ষক সেমিনারেআরও বক্তব্য রাখেন দেশের প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার আলো, ইবনে সিনা স্পেশালাইজড হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান অ্যান্ড নিউট্রিশনিস্ট কনসালটেন্ট সুমাইয়া শাহানাজ, প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ ইশরাত জাহান, পুষ্টিবিদ সিরাজাম মুনিরা,ইবনে সিনার স্ট্রাটেজিক মার্কেটিং বিভাগের এক্সিকিউটিভ আবু সালমান রানা প্রমুখ।

ড. এম মজিবুল হক বলেন, আজ ৭০ ভাগ মানুষ ক্রনিক বা দুরারোগ্য ব্যধিতে ভুগছে। পৃথিবীর ৭৫ ভাগ মানুষকে কোনো না কোনো মেডিসিন নিতে হয়। পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকে। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মাঝে ৯ কোটি মারা যাবে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে। আমাদের কার্ডিলজিস্টের কি অভাব রয়েছে? গ্যাপটা কোথায়? সেটা হলো পুষ্টি।

ড. মুজিবুল হক বলেন, আমেরিকার বড় বড় অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়েছে, ফ্যাট বা চর্বির সঙ্গে হার্ট ডিজিজের কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে আমরা কেন কম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার জন্য বলছি। এখন সময় এসেছে এসব কিছু প্রমাণের।

তিনি বলেন, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের মেডিকেল চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে এর পাশাপাশি পরীক্ষিত পুষ্টির সমন্বয় রিজেনারেটিভ মেডিকেল থেরাপি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ন্যাচারাল মেডিসিন এবং সর্বোপরি লাইফস্টাইল মডিফিকেশন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. মুজিবুল হক আরও বলেন, ওষুধ আমাদেরকে সাময়িকভাবে সুস্থতা দান করলেও দীর্ঘমেয়াদী এর নানাবিধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমতাবস্থায় গতানুগতিক ওষুধের পরিমাণ যথাসম্ভব কমিয়ে ন্যাচারাল মেডিসিন তথা স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া প্রয়োজন। মানুষ অধিক খাবারের ফলে সুস্থ হয় না বা স্বাস্থবান হয় না বরং অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সেই খাবারটি যদি স্বাস্থ্যসম্মত না হয় তবে তো এর ভয়াবহতা আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে। এজন্যফাস্টফুড তথা জাঙ্ক ফুড পরিহার করে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাবার খেতে হবে,কেমিক্যালমুক্ত খাবার খেতে হবে।

ন্যাচারাল মেডিসিন নিয়ে রাজধানীতে সায়েন্টিফিক সেমিনার

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও নিয়মিত হাঁটলে কমে যাবে রোগব্যাধি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সায়েন্টিফিক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান ও  ড. এম মজিবুল হক। ছবি: যুগান্তর
রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সায়েন্টিফিক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান ও ড. এম মজিবুল হক। ছবি: যুগান্তর

বর্তমান বিশ্বে বেশিরভাগ মানুষই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ডায়াবেটিস, ওজন বেড়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন তারা। কারণ মানুষ হাঁটছে না। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে। এজন্য পরিমিত খেতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। ব্যায়াম করতে হবে।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ধানমণ্ডির একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সায়েন্টিফিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান। 

তিনি বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের তিনটি দিক-মেডিকেল ব্যবস্থাপত্র, ফার্মাসিস্ট ও নার্স। তার সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন বা সাপ্লিমেন্টারি মেডিসিন। তার পাশাপাশি পুষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এখন। আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) পুষ্টির ওপর বেশ জোর দিয়েছে।

ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ড্রাস্টি লিমিটেডের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান আরও বলেন, সব রোগীর জন্য ন্যাচারাল মেডিসিন নয়। যাদের বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন তাদেরকে সেই চিকিৎসাই করাতে হবে। যারা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা সেই অনুযায়ীই করতে হবে। আবার কিছু রোগ ন্যাচারাল মেডিসিন দিয়েই ভালো উপকার হয়। এটা আমাদের বুঝতে হবে কোন পদ্ধতিটা কোন রোগীর ওপর প্রয়োগ করা হবে। সেই অনুযায়ীই চিকিৎসা করাতে হবে। এখানে সবাই মিলেই একটা সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই রোগীরা উপকৃত হবে।

ইবনে সিনার ন্যাচারাল মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসা বিজ্ঞানী আমেরিকান সেন্টার অব রিজেনারেটিভ হেলথের কনসালটেন্ট ড. এম মজিবুল হক।

তিনি বলেন, প্রত্যেকের শরীরে একশটা বডি সেল আছে। এই বডি সেলগুলো প্রতি মুহূর্তে রিজেনারেটেড হয়। আজ আমার একটা অর্গান বা অঙ্গ অসুস্থ হলে যদি আমরা রি জেনারেটেড খাবার দেই তাহলে সেটা সুস্থ হবে। আর যদি ভালো খাবার না দিই তাহলে সুস্থ অঙ্গও অসুস্থ হবে। আমাদের শরীর একটা ভাঙা-গড়ার মধ্যে যায়। 

অধ্যাপক ড. আবু খুলদুন আল মাহমুদের সভাপতিত্বে রিজেনারেটিভ হেলথ উইথ নিউট্রিশন অ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিন শীর্ষক সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন দেশের প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার আলো, ইবনে সিনা স্পেশালাইজড হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান অ্যান্ড নিউট্রিশনিস্ট কনসালটেন্ট সুমাইয়া শাহানাজ, প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ ইশরাত জাহান, পুষ্টিবিদ সিরাজাম মুনিরা, ইবনে সিনার স্ট্রাটেজিক মার্কেটিং বিভাগের এক্সিকিউটিভ আবু সালমান রানা প্রমুখ।

ড. এম মজিবুল হক বলেন, আজ ৭০ ভাগ মানুষ ক্রনিক বা দুরারোগ্য ব্যধিতে ভুগছে। পৃথিবীর ৭৫ ভাগ মানুষকে কোনো না কোনো মেডিসিন নিতে হয়। পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকে। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মাঝে ৯ কোটি মারা যাবে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে। আমাদের কার্ডিলজিস্টের কি অভাব রয়েছে? গ্যাপটা কোথায়? সেটা হলো পুষ্টি। 

ড. মুজিবুল হক বলেন, আমেরিকার বড় বড় অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়েছে, ফ্যাট বা চর্বির সঙ্গে হার্ট ডিজিজের কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে আমরা কেন কম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার জন্য বলছি। এখন সময় এসেছে এসব কিছু প্রমাণের। 

তিনি বলেন, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের মেডিকেল চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে এর পাশাপাশি পরীক্ষিত পুষ্টির সমন্বয় রিজেনারেটিভ মেডিকেল থেরাপি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ন্যাচারাল মেডিসিন এবং সর্বোপরি লাইফস্টাইল মডিফিকেশন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। 

ড. মুজিবুল হক আরও বলেন, ওষুধ আমাদেরকে সাময়িকভাবে সুস্থতা দান করলেও দীর্ঘমেয়াদী এর নানাবিধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমতাবস্থায় গতানুগতিক ওষুধের পরিমাণ যথাসম্ভব কমিয়ে ন্যাচারাল মেডিসিন তথা স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া প্রয়োজন। মানুষ অধিক খাবারের ফলে সুস্থ হয় না বা স্বাস্থবান হয় না বরং অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সেই খাবারটি যদি স্বাস্থ্যসম্মত না হয় তবে তো এর ভয়াবহতা আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে। এজন্য ফাস্টফুড তথা জাঙ্ক ফুড পরিহার করে  প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাবার খেতে হবে, কেমিক্যালমুক্ত খাবার খেতে হবে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন