ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের ইন্তেকাল 
jugantor
ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের ইন্তেকাল 

  যুগান্তর প্রতিবেদন   

২০ জানুয়ারি ২০২২, ২২:৩৮:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

বায়ান্নর ভাষাসৈনিক রেজাউল করিম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন তিনি।

তিনি দুই কন্যা, এক পুত্রসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের জানাজা বৃহস্পতিবার বাদ আসর শ্যামলীতে অনুষ্ঠিত হয় এবং বাদ মাগরিব রাজধানীর আজিমপুর গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, ভাষাসৈনিক মো. রেজাউল করিম ১৯৩৭ সালে ৪ এপ্রিল বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার নারচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদা মৌলভী রাজিবউদ্দিন তরফদার ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন জোরালো কন্ঠস্বর। তিনি একাধারে ৩৩ বছর বঙ্গীয় ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য (এমএলএ) ছিলেন। রেজাউল করিম ১৯৪৪ সালে নারচি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন।

১৯৫০ সালে আজিমপুর ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং এই স্কুল থেকে ১৯৫৫ সালে ম্যাট্রিক (বর্তমানে এসএসসি) পাশ করেন। ১৯৫৬ সালে চট্টগ্রাম নাইট কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৫৯ সালে এসএসসি এবং ৬২ সালে বিএ পাশ করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ল’কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু দুই বছর অধ্যয়ন করার পরে নানা জটিলতার কারণে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। অদম্য এই ভাষাসৈনিক তার শিক্ষা জীবন থামিয়ে রাখেননি।

তিনি ১৯৫২ সালের আন্দোলনে অংশ নেন এবং ঐতিহাসিক আমতলা সভায় অংশ নিয়ে ১৪৪ ধারা ভাঙার মিছিলে অংশ নেন। সেখানে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের শিকার হয়ে আহত হন। এছাড়াও পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি হরতালের আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন তিনি। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি ১৯৬৩ সালে বহুজাতিক কোম্পানি লিভার ব্রাদারস লিমিটেডে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। এর কিছু পূর্বে এমএম ইস্পাহানিতে চাকরিতে ছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে (সিআইপি) কর্মরত থাকাকালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

পরে ১৯৭৩ সালে বদলি বিসিআইসির অধীনে ঘোড়াশাল ও আশুগঞ্জ কারখানার ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে ফেন্সুগঞ্জ কারখানার মহাব্যবস্থাপকের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। অবসর গ্রহণ করার পরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভাষাসৈনিক রেজাউল করিম। শেরেবাংলা পদক, ভাষাসৈনিক ড. জসীমউদ্দিন স্মারক পদক, ভাষাসৈনিক মিলন মেলার ক্রেস্টসহ বহু পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের ইন্তেকাল 

 যুগান্তর প্রতিবেদন  
২০ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বায়ান্নর ভাষাসৈনিক রেজাউল করিম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন তিনি।

তিনি দুই কন্যা, এক পুত্রসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের জানাজা বৃহস্পতিবার বাদ আসর শ্যামলীতে অনুষ্ঠিত হয় এবং বাদ মাগরিব রাজধানীর আজিমপুর গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
 
উল্লেখ্য, ভাষাসৈনিক মো. রেজাউল করিম ১৯৩৭ সালে ৪ এপ্রিল বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার নারচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদা মৌলভী রাজিবউদ্দিন তরফদার ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন জোরালো কন্ঠস্বর। তিনি একাধারে ৩৩ বছর বঙ্গীয় ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য (এমএলএ) ছিলেন। রেজাউল করিম ১৯৪৪ সালে নারচি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। 

১৯৫০ সালে আজিমপুর ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং এই স্কুল থেকে ১৯৫৫ সালে ম্যাট্রিক (বর্তমানে এসএসসি) পাশ করেন। ১৯৫৬ সালে চট্টগ্রাম নাইট কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৫৯ সালে এসএসসি এবং ৬২ সালে বিএ পাশ করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ল’কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু দুই বছর অধ্যয়ন করার পরে নানা জটিলতার কারণে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। অদম্য এই ভাষাসৈনিক তার শিক্ষা জীবন থামিয়ে রাখেননি। 

তিনি ১৯৫২ সালের আন্দোলনে অংশ নেন এবং ঐতিহাসিক আমতলা সভায় অংশ নিয়ে ১৪৪ ধারা ভাঙার মিছিলে অংশ নেন। সেখানে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের শিকার হয়ে আহত হন। এছাড়াও পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি হরতালের আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন তিনি। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি ১৯৬৩ সালে বহুজাতিক কোম্পানি লিভার ব্রাদারস লিমিটেডে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। এর কিছু পূর্বে এমএম ইস্পাহানিতে চাকরিতে ছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে (সিআইপি) কর্মরত থাকাকালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। 

পরে ১৯৭৩ সালে বদলি বিসিআইসির অধীনে ঘোড়াশাল ও আশুগঞ্জ কারখানার ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে ফেন্সুগঞ্জ কারখানার মহাব্যবস্থাপকের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। অবসর গ্রহণ করার পরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভাষাসৈনিক রেজাউল করিম। শেরেবাংলা পদক, ভাষাসৈনিক ড. জসীমউদ্দিন স্মারক পদক, ভাষাসৈনিক মিলন মেলার ক্রেস্টসহ বহু পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন