‘গণহত্যা ১৯৭১ পঞ্চ-ভাস্করের যাত্রা’ শীর্ষক ভাস্কর্য প্রদর্শনীর যাত্রা
jugantor
‘গণহত্যা ১৯৭১ পঞ্চ-ভাস্করের যাত্রা’ শীর্ষক ভাস্কর্য প্রদর্শনীর যাত্রা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২১ মে ২০২২, ২০:৩৬:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

গণহত্যা জাদুঘরের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী কক্ষে শুক্রবার বিকাল ৪টায় ‘গণহত্যা ১৯৭১ পঞ্চ-ভাস্করের যাত্রা’ শীর্ষক ভাস্কর্য প্রদর্শনী উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী হাশেম খান। সভাপতিত্ব করেন গণহত্যা জাদুঘরের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেন, ভাস্কর্য কেবল সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশই নয়, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বাহনও বটে। মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে এই ভ‚খণ্ডের জনগণের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এই যুদ্ধ কেবলই বিজয়ের ইতিহাস নয়; গণহত্যা ও নিপীড়নের ইতিহাসও। যুদ্ধকালীন নানা ঘটনা, গণহত্যা, নির্যাতন, নারী নিপীড়ন ও অনুভূতিকে কেন্দ্র করে পাঁচজন ভাস্কর এই ভাস্কর্যগুলো নির্মাণ করেছেন। এমন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য গণহত্যা জাদুঘরকে ধন্যবাদ।

প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়তে হলে শিল্প সংস্কৃতিতে এমন নানা সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন পাঁচজন ভাস্করের কাজ নিয়ে বলেন, পঞ্চভাস্কর নির্বস্তুকতার পথে হাঁটেন নি, দর্শকদের সঙ্গে যাতে যোগাযোগ করা যায় তাই এমন বিন্যাস বা গঠন বেছে নিয়েছেন যা দর্শকদের কাছে অচেনা ঠেকবে না। আমার মনে হয়েছে প্রদর্শিত ৩০টি ভাস্কর্য দেখলে দর্শকরা ১৯৭১ সালের গণহত্যা-নির্যাতনের বেদনা মর্মে মর্মে অনুভব করবেন। পাঁচজন ভাস্করের অধিকাংশই নারী। একেতো ভাস্কর্যের ওপর এক ধরণের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আছে তারপর নারীরা ভাস্কর্য করছে এটি সাধারণ সমাজের পক্ষে মেনে নেওয়া কষ্টকর। কিন্তু সম্মিলিতভাবে অলিখিত বাধা নিষেধ তারা ভেঙ্গেছেন চমৎকার সব কাজ নিয়ে। বাংলাদেশের ভাস্কর্যে এরা এক নতুন ধারার নবজোয়ার সৃষ্টি করলেন যে জোয়ার অনেককে ভাসিয়ে নেবে।

গণহত্যাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করে এবং গণহত্যার ইতিহাস সংরক্ষণ ও গবেষণা করার লক্ষ্যে গণহত্যা জাদুঘর ২০১৪ সালের ১৭ মে যাত্রা শুরু করে। অজস্র গবেষণামূলক ও সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে এই বছর জাদুঘর ৮ম বছর পূর্ণ করেছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণহত্যা জাদুঘর নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। ভাস্কর্য প্রদর্শনী অন্যতম প্রধান আয়োজন।
ভাস্কর রেহানা ইয়াসমিন, ভাস্কর রবিউল ইসলাম, ভাস্কর ফারজানা ইসলাম মিলকি, ভাস্কর মুক্তি ভৌমিক ও ভাস্কর সিগমা হক অংকন গণহত্যা জাদুঘরের অধীনে পরিচালিত গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের ফেলোশিপের আওতায় ভাস্করগুলো নির্মাণ করেছেন। উলে­খ্য গবেষণা কেন্দ্র গণহত্যা বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের গবেষণা ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহ প্রদানে নিয়মিত বিভিন্ন ফেলোশিপ প্রদান করে থাকে।

নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী কক্ষে প্রদর্শনীটি চলবে ২০ মে থেকে ২৭ মে ২০২২ পর্যন্ত। দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। ভাস্কর্য প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে একটি স্মরণিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। পাঁচজন ভাস্করের পরিচয় ও তাদের অনুভূতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

‘গণহত্যা ১৯৭১ পঞ্চ-ভাস্করের যাত্রা’ শীর্ষক ভাস্কর্য প্রদর্শনীর যাত্রা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২১ মে ২০২২, ০৮:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গণহত্যা জাদুঘরের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী কক্ষে শুক্রবার বিকাল ৪টায় ‘গণহত্যা ১৯৭১ পঞ্চ-ভাস্করের যাত্রা’ শীর্ষক ভাস্কর্য প্রদর্শনী উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী হাশেম খান। সভাপতিত্ব করেন গণহত্যা জাদুঘরের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেন, ভাস্কর্য কেবল সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশই নয়, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বাহনও বটে। মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে এই ভ‚খণ্ডের জনগণের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এই যুদ্ধ কেবলই বিজয়ের ইতিহাস নয়; গণহত্যা ও নিপীড়নের ইতিহাসও। যুদ্ধকালীন নানা ঘটনা, গণহত্যা, নির্যাতন, নারী নিপীড়ন ও অনুভূতিকে কেন্দ্র করে পাঁচজন ভাস্কর এই ভাস্কর্যগুলো নির্মাণ করেছেন। এমন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য গণহত্যা জাদুঘরকে ধন্যবাদ। 

প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়তে হলে শিল্প সংস্কৃতিতে এমন নানা সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন পাঁচজন ভাস্করের কাজ নিয়ে বলেন, পঞ্চভাস্কর নির্বস্তুকতার পথে হাঁটেন নি, দর্শকদের সঙ্গে যাতে যোগাযোগ করা যায় তাই এমন বিন্যাস বা গঠন বেছে নিয়েছেন যা দর্শকদের কাছে অচেনা ঠেকবে না। আমার মনে হয়েছে প্রদর্শিত ৩০টি ভাস্কর্য দেখলে দর্শকরা ১৯৭১ সালের গণহত্যা-নির্যাতনের বেদনা মর্মে মর্মে অনুভব করবেন। পাঁচজন ভাস্করের অধিকাংশই নারী। একেতো ভাস্কর্যের ওপর এক ধরণের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আছে তারপর নারীরা ভাস্কর্য করছে এটি সাধারণ সমাজের পক্ষে মেনে নেওয়া কষ্টকর। কিন্তু সম্মিলিতভাবে অলিখিত বাধা নিষেধ তারা ভেঙ্গেছেন চমৎকার সব কাজ নিয়ে। বাংলাদেশের ভাস্কর্যে এরা এক নতুন ধারার নবজোয়ার সৃষ্টি করলেন যে জোয়ার অনেককে ভাসিয়ে নেবে।

গণহত্যাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করে এবং গণহত্যার ইতিহাস সংরক্ষণ ও গবেষণা করার লক্ষ্যে  গণহত্যা জাদুঘর ২০১৪ সালের ১৭ মে যাত্রা শুরু করে। অজস্র গবেষণামূলক ও সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে এই বছর জাদুঘর ৮ম বছর পূর্ণ করেছে। 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণহত্যা জাদুঘর নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। ভাস্কর্য প্রদর্শনী অন্যতম প্রধান আয়োজন। 
ভাস্কর রেহানা ইয়াসমিন, ভাস্কর রবিউল ইসলাম, ভাস্কর ফারজানা ইসলাম মিলকি, ভাস্কর মুক্তি ভৌমিক ও ভাস্কর সিগমা হক অংকন গণহত্যা জাদুঘরের অধীনে পরিচালিত গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের ফেলোশিপের আওতায় ভাস্করগুলো নির্মাণ করেছেন। উলে­খ্য গবেষণা কেন্দ্র গণহত্যা বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের গবেষণা ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহ প্রদানে নিয়মিত বিভিন্ন ফেলোশিপ প্রদান করে থাকে। 

নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী কক্ষে প্রদর্শনীটি চলবে ২০ মে থেকে ২৭ মে ২০২২ পর্যন্ত। দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। ভাস্কর্য প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে একটি স্মরণিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। পাঁচজন ভাস্করের পরিচয় ও তাদের অনুভূতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।  

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন