কঠিন বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় বিপজ্জনক রোগের ঝুঁকিতে নগরবাসী
jugantor
কঠিন বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় বিপজ্জনক রোগের ঝুঁকিতে নগরবাসী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৩ জুন ২০২২, ২১:০৩:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের শহরগুলোতে প্রতিদিন যত বর্জ্য উৎপাদিত হয়; তার প্রায় এক-চতুর্থাংশই ঢাকা শহরের। এসব বর্জ্যের একটি বৃহত্তর অংশ থেকে যায় অসংগৃহীত, যা নিক্ষিপ্ত হচ্ছে নগরের আশপাশের রাস্তা, খাল, বিল, জলাধার, নিম্নাঞ্চল ইত্যাদি জায়গায়। ঢাকা শহরে কঠিন বর্জ্য অব্যবস্থাপনার ফলে সৃষ্ট পরিবেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, স্বল্প এবং দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকির মধ্যে থাকে। জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা, চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল ও বিপজ্জনক রোগের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: প্রান্তিক জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্যগত প্রভাব’ বিষয়ক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা কলিং প্রকল্প।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দূষণমুক্ত ঢাকা নগরী বিনির্মাণে ইউএসএআইডির আর্থিক সহযোগিতায় এবং কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের কারিগরী সহযোগিতায় প্রমোটিং অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রাইটস (পার) কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ ও ১৯নং ওয়ার্ডে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪ ও ৫৫নং ওয়ার্ডে একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঢাকা কলিং প্রকল্পটি ডিএসকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক), কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর (কাপ) ও ইনসাইটস সমন্বয় করছে।

এতে আরও বলা হয়, ক্যান্সার, জন্ডিস, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড রোগের মতো বিপজ্জনক রোগ সাধারণত অবিশুদ্ধ ও অনিরাপদ পানি খাওয়া, অনেকক্ষণ ময়লার মধ্যে থাকা ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে। ঢাকা শহরের প্রায় ৩৪ শতাংশ মানুষ নোংরা পরিবেশের কারণে এ ধরণের রোগে আক্রান্ত হন। ২৭ শতাংশ মানুষ ময়লা পানির জন্য এবং ১৯ শতাংশ জলাবদ্ধতার কারণে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে একটি গবেষণায় তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

এছাড়া গ্রামের মানুষের তুলনায় শহরের বস্তিবাসীদের শিশুমৃত্যুর হার বেশি। যেখানে বস্তিতে প্রতি হাজারে ৫৭ শিশুর মৃত্যু হয়, সেখানে গ্রামে হাজারে মারা যায় ৪৯ জন। এসব রোগ-শোকে শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। পরিবারে তাদের বোঝা বলে মনে করা হয়। ফলে অনেকেই তাদের ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত করে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রান্তিক নাগরিকরা শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যেই থাকেন না, বরং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উপরও পড়ে নেতিবাচক প্রভাব। আবার সুচিকিৎসার অভাব তাদের স্বাস্থ্যগত নানারকম জটিলতা তৈরি করে। এগুলো তাদের মানসিক অবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

বস্তি এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহসহ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনাসহ এগুলো বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। আর এসব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলো উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান সংবাদ সম্মেলনের বক্তারা।

‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত প্রভাব’ বিষয়ক গবেষণার সার সংক্ষেপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ঢাকা কলিং প্রজেক্ট ও ইনসাইটসের ট্যাকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সুমন আহসানুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ মতামত দেন- জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, হেলথ অ্যান্ড হোপ-এর চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, প্রোমোটিং অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রাইটস (পার) কর্মসূচি, কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের চিফ অব পার্টি মইনুদ্দীন আহমদ, ডিএসকের পরিচালক ওয়াস এমএ হাকিম, এনডিবিইউএসের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আক্তার।

কঠিন বর্জ্য অব্যবস্থাপনায় বিপজ্জনক রোগের ঝুঁকিতে নগরবাসী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৩ জুন ২০২২, ০৯:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের শহরগুলোতে প্রতিদিন যত বর্জ্য উৎপাদিত হয়; তার প্রায় এক-চতুর্থাংশই ঢাকা শহরের। এসব বর্জ্যের একটি বৃহত্তর অংশ থেকে যায় অসংগৃহীত, যা নিক্ষিপ্ত হচ্ছে নগরের আশপাশের রাস্তা, খাল, বিল, জলাধার, নিম্নাঞ্চল ইত্যাদি জায়গায়। ঢাকা শহরে কঠিন বর্জ্য অব্যবস্থাপনার ফলে সৃষ্ট পরিবেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, স্বল্প এবং দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকির মধ্যে থাকে। জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা, চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল ও বিপজ্জনক রোগের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: প্রান্তিক জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্যগত প্রভাব’ বিষয়ক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা কলিং প্রকল্প।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দূষণমুক্ত ঢাকা নগরী বিনির্মাণে ইউএসএআইডির আর্থিক সহযোগিতায় এবং কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের কারিগরী সহযোগিতায় প্রমোটিং অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রাইটস (পার) কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ ও ১৯নং ওয়ার্ডে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪ ও ৫৫নং ওয়ার্ডে একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঢাকা কলিং প্রকল্পটি ডিএসকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক), কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর (কাপ) ও ইনসাইটস সমন্বয় করছে।

এতে আরও বলা হয়, ক্যান্সার, জন্ডিস, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড রোগের মতো বিপজ্জনক রোগ সাধারণত অবিশুদ্ধ ও অনিরাপদ পানি খাওয়া, অনেকক্ষণ ময়লার মধ্যে থাকা ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে। ঢাকা শহরের প্রায় ৩৪ শতাংশ মানুষ নোংরা পরিবেশের কারণে এ ধরণের রোগে আক্রান্ত হন। ২৭ শতাংশ মানুষ ময়লা পানির জন্য এবং ১৯ শতাংশ জলাবদ্ধতার কারণে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে একটি গবেষণায় তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

এছাড়া গ্রামের মানুষের তুলনায় শহরের বস্তিবাসীদের শিশুমৃত্যুর হার বেশি। যেখানে বস্তিতে প্রতি হাজারে ৫৭ শিশুর মৃত্যু হয়, সেখানে গ্রামে হাজারে মারা যায় ৪৯ জন। এসব রোগ-শোকে শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। পরিবারে তাদের বোঝা বলে মনে করা হয়। ফলে অনেকেই তাদের ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত করে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রান্তিক নাগরিকরা শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যেই থাকেন না, বরং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উপরও পড়ে নেতিবাচক প্রভাব। আবার সুচিকিৎসার অভাব তাদের স্বাস্থ্যগত নানারকম জটিলতা তৈরি করে। এগুলো তাদের মানসিক অবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

বস্তি এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহসহ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনাসহ এগুলো বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। আর এসব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলো উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান সংবাদ সম্মেলনের বক্তারা।

‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত প্রভাব’ বিষয়ক গবেষণার সার সংক্ষেপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ঢাকা কলিং প্রজেক্ট ও ইনসাইটসের ট্যাকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সুমন আহসানুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ মতামত দেন- জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, হেলথ অ্যান্ড হোপ-এর চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, প্রোমোটিং অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রাইটস (পার) কর্মসূচি, কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের চিফ অব পার্টি মইনুদ্দীন আহমদ, ডিএসকের পরিচালক ওয়াস এমএ হাকিম, এনডিবিইউএসের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আক্তার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন