জুরাইন রেলক্রসিং যেন মৃত্যুফাঁদ
jugantor
জুরাইন রেলক্রসিং যেন মৃত্যুফাঁদ

  যাত্রাবাড়ি (ঢাকা) প্রতিনিধি  

০৪ আগস্ট ২০২২, ২৩:১৩:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর জুরাইন রেলক্রসিং যেন মৃত্যুফাঁদ। দীর্ঘদিন যাবৎ রেলক্রসিংয়ে ২টি বেরিয়ার নেই, রেললাইন ঘেঁষে রয়েছে ৫শতাধিক অবৈধভাবে দোকানপাট ও সিএনজি স্ট্যান্ড।

অরক্ষিত রেললাইন দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে যানবাহন ও পথচারী। নিয়ম না মানা বা অসাবধানতার কারণে রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। তারপরও কার্যকর কোনো প্রদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

গত ৫ মে (বৃহস্পতিবার) ৪০জন যাত্রী নিয়ে আনন্দ পরিবহন নামের একটি বাস রেল লাইনের ওপর বন্ধ হয়ে যায়। ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগের টি আই বিপ্লব ভৌমিকের কর্মতৎপরতায় বাসের যাত্রীরা ওইদিন বেঁচে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, জুরাইন রেলক্রসিংয়ে রাজধানী ঢাকায় প্রবেশপথের পশ্চিম পাশের সড়কটি আগের চেয়ে প্রশস্ত করা হয়েছে। সেখানে ৪টি বেরিয়ার বা প্রতিবন্ধক প্রয়োজন, আছে ৩টি। ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথে ২টি বেরিয়ার দরকার সেখানে আছে একটি। দীর্ঘদিন যাবৎ বেরিয়ার দুইটি না থাকার কারণে ট্রেন আসার সংকেত পাওয়ার পরও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদেরকে ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পারাপার হতে দেখা যায়।

এসময় গেইটকিপাররা বাঁধা দিলে তাদের সঙ্গে ঝগড়া বকাবকি, ধাক্কাধাক্কিও করে থাকেন চালক ও পথচারীরারা।

এদিকে রেললাইনের জায়গায় অধৈভাবে দখল করে রেললাইনের পশ্চিম ও পূর্ব পাশে মুরগী, মাছ, শাকসবজি, ফল, কাপড়সহ হরেক প্রকারের প্রায় ৫ শতাধিক অবৈধ দোকানপাট রয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই ক্রেতা-বিক্রেতাদের বেঁচা-কেনা করতে দেখা যায়। এসব দোকানের কারণে ট্রেন আসলেও দেখা যায়না। যার ফলে গেইটকিপার ট্রেনের চালককে সিগনাল বা সংকেত দিতে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে।

এছাড়া রেললাইন ঘেষে রয়েছে অবৈধ সিএনজি স্টান্ড। গেইটকিপার বেরিয়ার ফালানোর পর রাইদাবাসের ও সিএনজি চালকরা জোড় করে বেরিয়ার উঠিয়ে তাদের গাড়ি পারাপার করে। গেইটকিপার বাঁধা দিলে তাদেরকে গালিগালাজ ও ধাক্কাধাক্কি করেন।

রেললাইন সুত্রে জানা যায়, জুরাইন রেলক্রসিংয়ে ১২জন গেইটকিপার রয়েছে। ৪জনের চাকুরী স্থায়ী করা হয়েছে, বাকী ৮ জন ৯ বছর ধরে মাস্টার রোলে কাজ করছে। তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হবে বলে ৯ বছর পার করা হয়েছে। ১২জন গেইটকিপার ৩শিফটে ৮ ঘন্টা করে কাজ করেন। সেখানে আরও ৩জন গেইটকিপার দরকার।

জুরাইন রেলক্রসিংয়ের একাধিক গেইটকিপার যুগান্তরকে বলেন, জুরাইন রেলক্রসিং সংলগ্ন রাস্তা প্রশস্ত করার পর ঢাকায় প্রবেশ পথে পশ্চিম পাশে একটি পাশ খোলা থাকে। অপরদিকে পূর্ব পাশে ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথে রংসাউডে বেরিয়ার নেই। যার ফলে পথচারীসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পারাপার হয়। আমরা বাধা দিলেও মানতে চায়না। আমাদেরকে বকাবকি ধাক্কাধাক্কি করে।

তারা আরও বলেন, আমাদের কোন বাথরুম না থাকায় দুরের কোথাও বাথরুম সারতে গেলে রেল আসার পর দুর্ঘটনার আশংকা থাকে। পানির ব্যবস্থা নেই, ছোট যে ঘরে বসে কাজ করি সেই ঘরে বিদ্যুৎ নেই। দীর্ঘদিন ধরে টিএন্ডটি ফোন লাইনটি বিকল থাকার কারণে ফোনের মাধ্যমে ট্রেন আসার সংকেত পেতে সমস্যা হচ্ছে। প্রতি শিফটে ৪জন করে কাজ করি। এতে সামাল দিতে কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে আবার ২টি বেরিয়ার না থাকায় আরও সমস্যা হচ্ছে।

ডিএমপির ট্রাফিক ওয়ারী জোনের টিআই বিপ্লব ভৌমিক যুগান্তরকে বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-মাওয়া-পদ্মা সেতু সড়কে প্রচুর যানবাহনের চাপ বেড়েছে। জুরাইন রেলক্রসিং স্থানটিতেও যানবাহন ও পথচারীদের চাপ অধিকহারে বেড়েছে। জুরাইন রেলক্রসিংয়ে ২টি বেরিয়ার জরুরী ভিত্তিতে স্থাপন করা দরকার। তাছাড়া রেললাইনের সঙ্গে রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।

জুরাইন রেলক্রসিং যেন মৃত্যুফাঁদ

 যাত্রাবাড়ি (ঢাকা) প্রতিনিধি 
০৪ আগস্ট ২০২২, ১১:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর জুরাইন রেলক্রসিং যেন মৃত্যুফাঁদ। দীর্ঘদিন যাবৎ রেলক্রসিংয়ে ২টি বেরিয়ার নেই, রেললাইন ঘেঁষে রয়েছে ৫শতাধিক অবৈধভাবে দোকানপাট ও সিএনজি স্ট্যান্ড। 

অরক্ষিত রেললাইন দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে যানবাহন ও পথচারী। নিয়ম না মানা বা অসাবধানতার কারণে রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। তারপরও কার্যকর কোনো প্রদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। 

গত ৫ মে (বৃহস্পতিবার) ৪০জন যাত্রী নিয়ে আনন্দ পরিবহন নামের একটি বাস রেল লাইনের ওপর বন্ধ হয়ে যায়। ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগের টি আই বিপ্লব ভৌমিকের কর্মতৎপরতায় বাসের যাত্রীরা ওইদিন বেঁচে যায়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, জুরাইন রেলক্রসিংয়ে রাজধানী ঢাকায় প্রবেশপথের পশ্চিম পাশের সড়কটি আগের চেয়ে প্রশস্ত করা হয়েছে। সেখানে ৪টি বেরিয়ার বা প্রতিবন্ধক প্রয়োজন, আছে ৩টি। ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথে ২টি বেরিয়ার দরকার সেখানে আছে একটি। দীর্ঘদিন যাবৎ বেরিয়ার দুইটি না থাকার কারণে ট্রেন আসার সংকেত পাওয়ার পরও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীদেরকে ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পারাপার হতে দেখা যায়। 

এসময় গেইটকিপাররা বাঁধা দিলে তাদের সঙ্গে ঝগড়া বকাবকি, ধাক্কাধাক্কিও করে থাকেন চালক ও পথচারীরারা।

এদিকে রেললাইনের জায়গায় অধৈভাবে দখল করে রেললাইনের পশ্চিম ও পূর্ব পাশে মুরগী, মাছ, শাকসবজি, ফল, কাপড়সহ হরেক প্রকারের প্রায় ৫ শতাধিক অবৈধ দোকানপাট রয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই ক্রেতা-বিক্রেতাদের বেঁচা-কেনা করতে দেখা যায়। এসব দোকানের কারণে ট্রেন আসলেও দেখা যায়না। যার ফলে গেইটকিপার ট্রেনের চালককে সিগনাল বা সংকেত দিতে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছে।

এছাড়া রেললাইন ঘেষে রয়েছে অবৈধ সিএনজি স্টান্ড। গেইটকিপার বেরিয়ার ফালানোর পর রাইদাবাসের ও সিএনজি চালকরা জোড় করে বেরিয়ার উঠিয়ে তাদের গাড়ি পারাপার করে। গেইটকিপার বাঁধা দিলে তাদেরকে গালিগালাজ ও ধাক্কাধাক্কি করেন।  

রেললাইন সুত্রে জানা যায়, জুরাইন রেলক্রসিংয়ে ১২জন গেইটকিপার রয়েছে। ৪জনের চাকুরী স্থায়ী করা হয়েছে, বাকী ৮ জন ৯ বছর ধরে মাস্টার রোলে কাজ করছে। তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হবে বলে ৯ বছর পার করা হয়েছে। ১২জন গেইটকিপার ৩শিফটে ৮ ঘন্টা করে কাজ করেন। সেখানে আরও ৩জন গেইটকিপার দরকার। 

জুরাইন রেলক্রসিংয়ের একাধিক গেইটকিপার যুগান্তরকে বলেন, জুরাইন রেলক্রসিং সংলগ্ন রাস্তা প্রশস্ত করার পর ঢাকায় প্রবেশ পথে পশ্চিম পাশে একটি পাশ খোলা থাকে। অপরদিকে পূর্ব পাশে ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথে রংসাউডে বেরিয়ার নেই। যার ফলে পথচারীসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পারাপার হয়। আমরা বাধা দিলেও মানতে চায়না। আমাদেরকে বকাবকি ধাক্কাধাক্কি করে।

তারা আরও বলেন, আমাদের কোন বাথরুম না থাকায় দুরের কোথাও বাথরুম সারতে গেলে রেল আসার পর দুর্ঘটনার আশংকা থাকে। পানির ব্যবস্থা নেই, ছোট যে ঘরে বসে কাজ করি সেই ঘরে বিদ্যুৎ নেই। দীর্ঘদিন ধরে টিএন্ডটি ফোন লাইনটি বিকল থাকার কারণে ফোনের মাধ্যমে ট্রেন আসার সংকেত পেতে সমস্যা হচ্ছে। প্রতি শিফটে ৪জন করে কাজ করি। এতে সামাল দিতে কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে আবার ২টি বেরিয়ার না থাকায় আরও সমস্যা হচ্ছে।

ডিএমপির ট্রাফিক ওয়ারী জোনের টিআই বিপ্লব ভৌমিক যুগান্তরকে বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-মাওয়া-পদ্মা সেতু সড়কে প্রচুর যানবাহনের চাপ বেড়েছে। জুরাইন রেলক্রসিং স্থানটিতেও যানবাহন ও পথচারীদের চাপ অধিকহারে বেড়েছে। জুরাইন রেলক্রসিংয়ে ২টি বেরিয়ার জরুরী ভিত্তিতে স্থাপন করা দরকার। তাছাড়া রেললাইনের সঙ্গে রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন