দুর্ঘটনার সময় নিহতদের কে গাড়ির কোথায় ছিলেন
jugantor
দুর্ঘটনার সময় নিহতদের কে গাড়ির কোথায় ছিলেন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৬ আগস্ট ২০২২, ০২:২৭:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরায় গার্ডারের নিচে চাপা পড়া প্রাইভেটকারের চালকের আসনে ছিলেন রুবেল (৫০)। নবদম্পতি হৃদয় ও রিয়া ছিলেন জানালার সাইডে। ফাহিমা (৪০) ও ঝর্ণা (২৮) ছিলেন বিপরীত দিকে। ঝর্ণার দুই মেয়েরও ছিল সেখানেই।

নিহতদের স্বজন জাহিদ হাসান শুভ এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি নববধূ রিয়ার মামা। তিনি প্রাইভেটকারটির পেছনের গাড়িতে ছিলেন। ঘটনার পরপরই তিনি গার্ডারের নিচে পড়ে থাকা প্রাইভেটকারটির সামনে গিয়েছিলেন। স্বজনদের এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলছেন তিনি।

জাহিদ হাসান শুভ বলেন, আমার ভাগ্নির বিয়ে ছিল গত শনিবার। আমাদের বাড়ি আশুলিয়ায়। আমার ভগ্নীপতির বাড়ি কাওলায়। আজকে (সোমবার) বৌ-ভাত হয়েছে। ভাগ্নির জামাইকে নিজেদের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। বরের বাবা (রুবেল) ড্রাইভিং সিটে ছিলেন। আমার ভাগ্নি ও তার স্বামী জানালার সাইডে ছিল। আমার দুই বোন ও ছোট ভাগনে-ভাগ্নি বিপরীত দিকে ছিল। আমার বোন ও ভাগনে-ভাগ্নিরা স্পট ডেড।

দুর্ঘটনার চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ক্রেন দিয়ে গার্ডার ওঠানোর কাজ করা হচ্ছিল। রাস্তায় কোনো ব্যারিকেড ছিল না। কিছুই ছিল না। এমন কাজ করছে, আমাদের পরিবারের ক্ষতি হয়েছে। আমার বোন-ভাগ্নি চলে গেছে।

তিনি বলেন, রাস্তায় ব্যারিকেড থাকলে আমরা বিপরীত রাস্তা দিয়ে যেতাম। পুরোটাই প্রজেক্টের গাফিলতি। সাড়ে তিনটায় ঘটনা ঘটে, কোনো লোক আসে নাই। চার ঘণ্টা ধরে এই অবস্থা ছিল।

ঘটনার পরের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি এসে দেখি আমার বোন-ভাগ্নে জীবিত, শ্বাস চলছে। আমার বেয়াই ড্রাইভ করছিলেন, তার হাত কাঁপছিল।

প্রশাসনের দিকে ইঙ্গিত করে শুভ বলেন, উনারা কিছুই করেন নাই। সবাই ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

তিনি বলেন, আমি ঘটনার ১০ মিনিট পর আসি। এর আগে এক পুলিশ আমাদের ফোন দিয়ে বলেন, আপনাদের গাড়ি অ্যাকসিডেন্ট করেছে। আমরা এয়ারপোর্ট থেকে দৌড়ে আসি। দেখি গাড়ি চাপা পড়ে আছে। আমার ভাগ্নি ও তার স্বামীকে গাড়ি থেকে বের করে বসিয়ে রাখি। গাড়ির ভিতর মোট সাতজন ছিল। পাঁচজন মারা গেছে। কাওলা থেকে আশুলিয়া যাচ্ছিলাম আমরা।

প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন শুভর ভাগ্নি জামাই হৃদয়ের বাবা রুবেল। সঙ্গে ছিলেন বরের শাশুড়ি ফাহিমা বেগম, তার বোন ঝর্ণা বেগম ও তার দুই সন্তান জাকারিয়া এবং জান্নাত। সৌভাগ্যক্রমে হৃদয় ও তার স্ত্রী রিয়ামনি প্রাণে বেঁচে যান।


দুর্ঘটনার সময় নিহতদের কে গাড়ির কোথায় ছিলেন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৬ আগস্ট ২০২২, ০২:২৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরায় গার্ডারের নিচে চাপা পড়া প্রাইভেটকারের চালকের আসনে ছিলেন রুবেল (৫০)। নবদম্পতি হৃদয় ও রিয়া ছিলেন জানালার সাইডে। ফাহিমা (৪০) ও ঝর্ণা (২৮) ছিলেন বিপরীত দিকে। ঝর্ণার দুই মেয়েরও ছিল সেখানেই।

নিহতদের স্বজন জাহিদ হাসান শুভ এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি নববধূ রিয়ার মামা। তিনি প্রাইভেটকারটির পেছনের গাড়িতে ছিলেন। ঘটনার পরপরই তিনি গার্ডারের নিচে পড়ে থাকা প্রাইভেটকারটির সামনে গিয়েছিলেন। স্বজনদের এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলছেন তিনি।

জাহিদ হাসান শুভ বলেন, আমার ভাগ্নির বিয়ে ছিল গত শনিবার। আমাদের বাড়ি আশুলিয়ায়। আমার ভগ্নীপতির বাড়ি কাওলায়। আজকে (সোমবার) বৌ-ভাত হয়েছে। ভাগ্নির জামাইকে নিজেদের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। বরের বাবা (রুবেল) ড্রাইভিং সিটে ছিলেন। আমার ভাগ্নি ও তার স্বামী জানালার সাইডে ছিল। আমার দুই বোন ও ছোট ভাগনে-ভাগ্নি বিপরীত দিকে ছিল। আমার বোন ও ভাগনে-ভাগ্নিরা স্পট ডেড।

দুর্ঘটনার চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ক্রেন দিয়ে গার্ডার ওঠানোর কাজ করা হচ্ছিল। রাস্তায় কোনো ব্যারিকেড ছিল না। কিছুই ছিল না। এমন কাজ করছে, আমাদের পরিবারের ক্ষতি হয়েছে। আমার বোন-ভাগ্নি চলে গেছে। 

তিনি বলেন, রাস্তায় ব্যারিকেড থাকলে আমরা বিপরীত রাস্তা দিয়ে যেতাম। পুরোটাই প্রজেক্টের গাফিলতি। সাড়ে তিনটায় ঘটনা ঘটে, কোনো লোক আসে নাই। চার ঘণ্টা ধরে এই অবস্থা ছিল। 

ঘটনার পরের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি এসে দেখি আমার বোন-ভাগ্নে জীবিত, শ্বাস চলছে। আমার বেয়াই ড্রাইভ করছিলেন, তার হাত কাঁপছিল।

প্রশাসনের দিকে ইঙ্গিত করে শুভ বলেন, উনারা কিছুই করেন নাই। সবাই ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

তিনি বলেন, আমি ঘটনার ১০ মিনিট পর আসি। এর আগে এক পুলিশ আমাদের ফোন দিয়ে বলেন, আপনাদের গাড়ি অ্যাকসিডেন্ট করেছে। আমরা এয়ারপোর্ট থেকে দৌড়ে আসি। দেখি গাড়ি চাপা পড়ে আছে। আমার ভাগ্নি ও তার স্বামীকে গাড়ি থেকে বের করে বসিয়ে রাখি। গাড়ির ভিতর মোট সাতজন ছিল। পাঁচজন মারা গেছে। কাওলা থেকে আশুলিয়া যাচ্ছিলাম আমরা।

প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন শুভর ভাগ্নি জামাই হৃদয়ের বাবা রুবেল। সঙ্গে ছিলেন বরের শাশুড়ি ফাহিমা বেগম, তার বোন ঝর্ণা বেগম ও তার দুই সন্তান জাকারিয়া এবং জান্নাত। সৌভাগ্যক্রমে হৃদয় ও তার স্ত্রী রিয়ামনি প্রাণে বেঁচে যান।


 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন