ক্ষণে ক্ষণে কেঁদে উঠছেন বেঁচে যাওয়া নবদম্পতি
jugantor
ক্ষণে ক্ষণে কেঁদে উঠছেন বেঁচে যাওয়া নবদম্পতি

  উত্তরা (ঢাকা) রিপোর্টার  

১৬ আগস্ট ২০২২, ০৮:৫৩:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরায় প্রাইভেটকারে বিআরটির গার্ডার চাপায় বেঁচে যাওয়া নবদম্পতি অক্ষত আছেন। তাদের উত্তরারই একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার রাত ৯টার দিকে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, নতুন বিয়ে করা হৃদয় এবং নববধূ রিয়া মনিকে ঘিরে রয়েছেন স্বজনরা। তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এন আলম মাসুদ জানান, শুধু হৃদয়ের ডান পায়ে সামান্য আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া দুজনেই অক্ষত আছেন। তাদের শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। তবে মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।

চিকিৎসক মাসুদ বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম তাদের রিলিজ দেব। কিন্তু পরে রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী এবং ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম তাদের দেখতে এসেছিলেন। তারা ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও কিছু সময় হাসপাতালে রাখতে বলেছেন। দুজনকে এখন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণ কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, হৃদয় ও রিয়া মনিকে ঘিরে রয়েছেন স্বজনরা। তারা বেশিরভাগ সময়ই অন্যমনস্ক থাকছেন। ক্ষণে ক্ষণে হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন। হৃদয়ের মা, ভাই ও স্বজনরা মিলে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জসীমউদ্দীন মোড়সংলগ্ন সড়কে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) স্থাপনা প্রকল্পের একটি গার্ডার প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে। এতে পাঁচ আরোহী নিহত হন। আহত হন আরও দুই আরোহী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রকল্পের কাজ চলাকালীন একটি গার্ডার ক্রেন দিয়ে তোলা হচ্ছিল। হঠাৎ ক্রেনটি গার্ডারসহ কাত হয়ে যায় এবং নিচ দিয়ে যাওয়া একটি প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

প্রাইভেটকারে আরোহী ছিলেন সাতজন। ছিলেন নববিবাহিত হৃদয়ের বাবা রুবেল (৬০), হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা (৪০), কনে রিয়া মনির খালা ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুধু বেঁচে আছেন হৃদয় ও রিয়া।

ঘটনার পর গার্ডার সরিয়ে প্রাইভেটকার থেকে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করেন ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। লিভার দিয়ে উঁচু করার চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় সাড়ে ৬টার দিকে আনা হয় একটি এক্সক্যাভেটর। সেটি দিয়ে কাত হয়ে থাকার ক্রেনটি সোজা করে সেটি দিয়েই প্রাইভেটকারের ওপর থেকে গার্ডার সরানো হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বজনরা জানান, শুক্রবার হৃদয় ও রিয়ার বিয়ে হয়। তারা সোমবার ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। হৃদয়ের পরিবার দক্ষিণখান থানার কাওলা আফিল মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। আর কনে রিয়া মনির বাড়ি আশুলিয়ার খেজুরবাগানের আসরাফউদ্দিন চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায়।

ক্ষণে ক্ষণে কেঁদে উঠছেন বেঁচে যাওয়া নবদম্পতি

 উত্তরা (ঢাকা) রিপোর্টার 
১৬ আগস্ট ২০২২, ০৮:৫৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর উত্তরায় প্রাইভেটকারে বিআরটির গার্ডার চাপায় বেঁচে যাওয়া নবদম্পতি অক্ষত আছেন। তাদের উত্তরারই একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার রাত ৯টার দিকে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, নতুন বিয়ে করা হৃদয় এবং নববধূ রিয়া মনিকে ঘিরে রয়েছেন স্বজনরা। তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এন আলম মাসুদ জানান, শুধু হৃদয়ের ডান পায়ে সামান্য আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া দুজনেই অক্ষত আছেন। তাদের শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। তবে মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।

চিকিৎসক মাসুদ বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম তাদের রিলিজ দেব। কিন্তু পরে রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী এবং ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম তাদের দেখতে এসেছিলেন। তারা ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও কিছু সময় হাসপাতালে রাখতে বলেছেন। দুজনকে এখন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণ কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, হৃদয় ও রিয়া মনিকে ঘিরে রয়েছেন স্বজনরা। তারা বেশিরভাগ সময়ই অন্যমনস্ক থাকছেন। ক্ষণে ক্ষণে হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন। হৃদয়ের মা, ভাই ও স্বজনরা মিলে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জসীমউদ্দীন মোড়সংলগ্ন সড়কে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) স্থাপনা প্রকল্পের একটি গার্ডার প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে। এতে পাঁচ আরোহী নিহত হন। আহত হন আরও দুই  আরোহী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রকল্পের কাজ চলাকালীন একটি গার্ডার ক্রেন দিয়ে তোলা হচ্ছিল। হঠাৎ ক্রেনটি গার্ডারসহ কাত হয়ে যায় এবং নিচ দিয়ে যাওয়া একটি প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। 

প্রাইভেটকারে আরোহী ছিলেন সাতজন। ছিলেন নববিবাহিত হৃদয়ের বাবা রুবেল (৬০), হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা (৪০), কনে রিয়া মনির খালা ঝরনা (২৮), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুধু বেঁচে আছেন হৃদয় ও রিয়া। 

ঘটনার পর গার্ডার সরিয়ে প্রাইভেটকার থেকে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করেন ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। লিভার দিয়ে উঁচু করার চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় সাড়ে ৬টার দিকে আনা হয় একটি এক্সক্যাভেটর। সেটি দিয়ে কাত হয়ে থাকার ক্রেনটি সোজা করে সেটি দিয়েই প্রাইভেটকারের ওপর থেকে গার্ডার সরানো হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বজনরা জানান, শুক্রবার হৃদয় ও রিয়ার বিয়ে হয়। তারা সোমবার ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। হৃদয়ের পরিবার দক্ষিণখান থানার কাওলা আফিল মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। আর কনে রিয়া মনির বাড়ি আশুলিয়ার খেজুরবাগানের আসরাফউদ্দিন চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন