এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না রাকিবুলের
jugantor
এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না রাকিবুলের

  মিরপুর প্রতিনিধি  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:৪৭:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না রাকিবুলের

কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিবুলের আর পরীক্ষা দেওয়া হলো না। হাসপাতালের বেডে শুয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তার।

রাকিবুল মিরপুর ১২ নম্বরের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ আদর্শ বিদ্যাপীঠের এসএসসি পরীক্ষার্থী। এ বছর সে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। গত শুক্রবার মিরপুর ১২ নম্বরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয় এই শিক্ষার্থী। পর দিন শনিবার বেলা ১১টায় অ্যাম্বুলেন্সে করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসে রাকিবুল।

পরীক্ষা চলাকালে একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে ওই দিনই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন এই শিক্ষার্থী।

শনিবার এ ঘটনায় রাকিবুলের বাবা আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলো- রমজান, আল আমিন, বিজয়, ছোট রমজান, পপকন, হাসিবসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জন।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাকিবুল মিরপুর ১২ নম্বর সি ব্লকের ১০ নম্বর রোড দিয়ে যাওয়ার সময় রমজান ও আল আমিনসহ অন্য আসামিদের হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। একপর্যায়ে রাকিবুলের পিঠে চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা।

স্থানীয়রা জানান, আল আমিন ও রমজান পুলিশের তালিকাভুক্ত কিশোরগ্যাং। গ্যাং সদস্যরা পল্লবীর ১২ নম্বর সি ব্লকের ৬ নম্বর রোড থেকে ১১ নম্বর রোডের মাঝামাঝি (কাটা) অংশে সরাক্ষণ আড্ডা দেয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় রাস্তার ওই অংশে তাদের উৎপাত থাকে। এরা প্রতিনিয়ত চুরি ছিনতাই ও মারামারি করে। মাঝে মাঝে অস্ত্র হাতে মহড়াও দেয়।

এ ঘটনার একটি ভিডিও যুগান্তরের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা ১০-১২ জন হামলাকারীরা প্রকাশ্যে রাকিবুলকে রাস্তায় ফেলে পেটাচ্ছে। একপর্যায়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা।

রাকিবুলের মা রাবেয়া বলেন, আমার ছেলের অবস্থা ভালো না। মেরুদন্ড মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। শরীরের নিচের অংশ পুরোপুরি অবশ হয়ে গেছে। তার পায়খানা প্রশ্রাব বন্ধ। এবার এসএসসি পরীক্ষায় ৩ বিষয়ে অংশ গ্রহণ করেছে। শনিবার পরীক্ষার হলে নিয়ে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করি। সে আর পরীক্ষা দিতে পারেনি। ডাক্তার বলেছে আগে ছেলেকে বাঁচান এরপর পড়াশুনা।

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা বেশিরভাগ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না রাকিবুলের

 মিরপুর প্রতিনিধি 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না রাকিবুলের
প্রতীকি ছবি

কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিবুলের আর পরীক্ষা দেওয়া হলো না।  হাসপাতালের বেডে শুয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তার।    

রাকিবুল মিরপুর ১২ নম্বরের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ আদর্শ বিদ্যাপীঠের এসএসসি পরীক্ষার্থী। এ বছর সে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। গত শুক্রবার মিরপুর ১২ নম্বরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয় এই শিক্ষার্থী। পর দিন শনিবার বেলা ১১টায় অ্যাম্বুলেন্সে করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসে রাকিবুল।

পরীক্ষা চলাকালে একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে ওই দিনই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।  বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে  জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন এই শিক্ষার্থী। 
 
শনিবার এ ঘটনায় রাকিবুলের বাবা আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলো- রমজান, আল আমিন, বিজয়, ছোট রমজান, পপকন, হাসিবসহ  অজ্ঞাত ১০-১২ জন।   

মামলার অভিযোগে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাকিবুল মিরপুর ১২ নম্বর সি ব্লকের ১০ নম্বর রোড দিয়ে যাওয়ার সময় রমজান ও আল আমিনসহ অন্য আসামিদের হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। একপর্যায়ে রাকিবুলের পিঠে চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা।  

স্থানীয়রা জানান, আল আমিন ও রমজান  পুলিশের তালিকাভুক্ত কিশোরগ্যাং। গ্যাং সদস্যরা পল্লবীর ১২ নম্বর সি ব্লকের ৬ নম্বর রোড থেকে ১১ নম্বর রোডের মাঝামাঝি (কাটা) অংশে সরাক্ষণ আড্ডা দেয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় রাস্তার ওই অংশে তাদের উৎপাত থাকে। এরা প্রতিনিয়ত চুরি ছিনতাই ও মারামারি করে। মাঝে মাঝে অস্ত্র হাতে মহড়াও দেয়। 

এ ঘটনার একটি ভিডিও যুগান্তরের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা ১০-১২ জন হামলাকারীরা প্রকাশ্যে রাকিবুলকে রাস্তায় ফেলে পেটাচ্ছে। একপর্যায়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা। 

রাকিবুলের মা রাবেয়া বলেন, আমার ছেলের অবস্থা  ভালো না। মেরুদন্ড মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। শরীরের নিচের অংশ পুরোপুরি অবশ হয়ে গেছে।  তার পায়খানা প্রশ্রাব  বন্ধ।  এবার এসএসসি পরীক্ষায় ৩ বিষয়ে অংশ গ্রহণ করেছে। শনিবার পরীক্ষার হলে নিয়ে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করি। সে  আর পরীক্ষা দিতে পারেনি। ডাক্তার বলেছে আগে ছেলেকে বাঁচান এরপর পড়াশুনা।  

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা বেশিরভাগ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন