রাজধানীতে ইয়াবা বিক্রিতে ‘পাঠাও’ চালক

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ জুন ২০১৮, ২০:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

আটক
উত্তরা থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৪। ছবি-যুগান্তর

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেই রাজধানীর উত্তরা থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। র‌্যাব জানায়, আটকৃতদের মধ্যে একজন রাইড শেয়ারিং অ্যাপস ‘পাঠাও’ চালক। তিনি মোটরসাইকেলের মাধ্যমে স্থানীয় গ্রাহকদের কাছে ইয়াবা পৌঁছে দিতেন।

রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে র‌্যাব জানায়, শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১২নং সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ১১ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা, ৮টি মোবাইল ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কক্সবাজারের ইফতেখারুল ইসলাম (২৫), উত্তরার ওই ভবনের কেয়ারটেকার অলি আহম্মেদ (২৪), ওষুধ কোম্পানির ইনফরমেশন অফিসার মোস্তফা কামাল এবং পাঠাও চালক রানা আহম্মেদ ওরফে রাজু (২৫)।

র‌্যাব-৩ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান জানান, কক্সবাজারের উখিয়া থেকে মাদকের বড় একটি চালান নিয়ে আসা হয়েছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার উত্তরার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকায় ঢাকার মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবার চালান আনতে কক্সবাজার যেতে চায় না। মাদক ব্যবসায়ী ও ক্যারিয়ারদের চলাচলও সীমিত হয়েছে। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী কক্সবাজারের উখিয়া থেকে ইয়াবার একটি চালান এনে ঢাকার উত্তরায় একটি ফ্ল্যাটে মজুত করেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ইফতেখার জানিয়েছেন, তিনি উখিয়ার একটি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উখিয়ার স্থানীয় কিছু যুবকের বিলাসবহুল জীবনযাপন দেখে তিনিও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি নিজে মাদক ব্যবসা করার পাশাপাশি কক্সবাজারের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় যুবক ও রোহিঙ্গাদের ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করতো। কক্সবাজার থেকে রাজধানীর উত্তরা ও আশপাশের মাদক ব্যবসায়ীদের ইয়াবা সরবরাহের কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন ইফতেখার। আটককৃত অলি আহম্মেদের বাড়ি উখিয়ার রাজাপালং গ্রামে। উত্তরার ফজিলত প্রোপার্টিজ নামে একটি নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন তিনি। অলি যে ভবনে কেয়ারটেকারের কাজ করেন সেখানে ইয়াবা রাখতেন বলে জানিয়েছেন। এরপর মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে তা তিনি পৌঁছে দিতেন।

মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় শরীফ ফার্মাসিউটিক্যালসের মেডিকেল ইনফরমেশন অফিসার হিসেবে কাজ করেন তিনি। মোটা অঙ্কের টাকার লোভে তিনি ইয়াবা পরিবহনের কাজেও যুক্ত হয়ে পড়েন। কক্সবাজার থেকে ইয়াবার ঢাকায় একটি চালান পৌঁছাতে পারলেই তিনি পেতেন ২০ হাজার টাকা। আর রানা আহম্মেদ রাইড শেয়ারিং অ্যাপস পাঠাও-এর একজন রাইডার। তিনি ইয়াবা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা এমরানুল হাসান বলেন, কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকার কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর যোগসাজশের তথ্য পেয়েছি। তাদের নামও জেনেছি। তদন্তসাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

তিনি বলেন, পাঠাও চালকদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার তথ্যও আমরা পেয়েছি। তাদের ব্যাপারে তথ্য পেতে আমরা পাঠাওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করব। মাদক পরিবহনে পাঠাও চালক ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের ব্যবহারের তথ্য পাওয়ায় এ সংক্রান্ত মামলাটি র‌্যাব-৩ তদন্ত করবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×