মিরপুরের সেই বাড়িতে এখনও গুপ্তধন পাওয়া যায়নি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ জুলাই ২০১৮, ১৯:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

মিরপুরের সেই বাড়িতে এখনও গুপ্তধন পাওয়া যায়নি
ছবি: যুগান্তর

প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় ধরে খোঁড়াখুঁড়ির পরও রাজধানীর মিরপুর-১০-এর সি ব্লকের ১৬ নম্বর রোডের ১৬ নম্বর বাড়িতে গুপ্তধনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শনিবার ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুজ্জামানের উপস্থিতিতে একতলা ওই বাড়িতে গুপ্তধন রয়েছে এমন সন্দেহে ২০ জন শ্রমিক খননকাজ শুরু করেন।

দুই কাটা জমির ওপর নির্মিত টিনশেডের ওই বাড়ির সাতটি কক্ষের মধ্যে দুটি কক্ষের প্রায় চার ফুট গভীর পর্যন্ত শাবল, কোদাল দিয়ে খনন করেন তারা। দাবি করা হয়েছিল ওই দুই কক্ষে গুপ্তধন রয়েছে। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত খননকাজ চলার পর সেখান থেকে গুপ্তধন বা মূল্যবান কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি।

বিকাল চারটার দিকে খননকাজ বন্ধ করে ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুজ্জামান বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে বাড়ি খননের ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এর আগে সকাল থেকে মিরপুরে ওই বাড়িটির দু’পাশের রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এরপর পুলিশি পাহারার মধ্য দিয়ে শুরু হয় খননকাজ। এদিকে বাড়িটি ঘিরে সকাল থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় করতে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা তৌফিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমাদের কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে। এ জন্য নজর রেখেছি সেখানে কী পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন- আমার কাছে মনে হয় ওই বাড়িটি কোনো প্রভাবশালীর নজরে পড়েছে এ জন্য দখল নিতে পাঁয়তারা করছে।’

খননকাজ বন্ধ করার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বাড়ির অবকাঠামো বেশ দুর্বল। মজবুত কাঠামোর ওপর এই বাড়ির ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়নি। এখানে খননকাজ করা হলে ঘরগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আজ খননকাজ বন্ধ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিকে বাড়িতে খননের কাজ হওয়ার পর থেকে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করে। বাড়িটি ঘিরে গত এক সপ্তাহে মিরপুরে গুঞ্জন ছড়ায়, ওই একতলা বাড়ির মাটির নিচে লুকানো রয়েছে ‘গুপ্তধন’। স্বর্ণালঙ্কার ও দামি নানান জিনিসপত্র সেখানে রয়েছে। গুঞ্জনের পালে হাওয়া লাগে যখন আবার পুলিশ দিনরাত বাড়িটি পাহারা দেয়া শুরু করে।

শেষ পর্যন্ত গুপ্তধনের রহস্য উন্মোচন করতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ও আদালতের শরণাপন্ন হয় মিরপুর থানা পুলিশ।

গুপ্তধন পাওয়া গেলেও এর প্রতি কোনো দাবি নেই বলে জানান বাড়ির মালিক মনিরুল আলম। ঘটনাস্থলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সেলিম রেজা নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০১০ সালে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাড়িটি তিনি কিনেছিলেন। বাড়ির দেখাশোনার জন্য শফিকুল ইসলাম এবং সুমন নামে দুজন তত্ত্বাবধায়ক রাখা হয়।

এ ছাড়া বাড়িটির কয়েকটি কক্ষ ভাড়া দেয়া হয়। সম্প্রতি বাড়িটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হবে জানিয়ে ভাড়াটেদের চলে যেতে বলা হয়। এরপর ১২ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দুজন লোক বাড়িটিতে ঢোকার চেষ্টা করেন। তারা তত্ত্বাব৪ধায়কদের ঢোকার জন্য আর্থিক প্রলোভনও দেখান। পরে তারা এই বাড়ির মাটির নিচে গুপ্তধন রয়েছে বলে জানান।

তাদের মধ্যে আবু তৈয়ব নামের এক ব্যক্তি ছিলেন। মনিরুল আলম বলেন, ‘গুপ্তধন পাওয়া গেলে সরকারি কোষাগারে জমা হোক এটাই আমি চাই। এর প্রতি আমার কোনো দাবি নেই।’

মিরপুর থানার ওসি মো. দাদন ফকির বলেন, মিরপুরের এই বাড়িতে গুপ্তধন আছে জানিয়ে ১০ জুলাই আবু তৈয়ব নামের এক ব্যক্তি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর পর ১৪ জুলাই বাড়িটির বর্তমান মালিক মনিরুল আলম থানায় আরও একটি জিডি করেন। বিষয়টি ঢাকা জেলা প্রশাসনকে জানানোর পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বাড়ির মাটি খননকাজ চালানো হয়। কিছু না পাওয়ায় শনিবার বিকাল ৪টার পর সেটি বন্ধ করা হয়।

মিরপুর থানা সূত্রে জানা যায়, ১৪ জুলাই বাড়িটির বর্তমান মালিক দাবিদার মনিরুল আলম মিরপুর থানায় একটি জিডি করেন। সেখানে তিনি বলেন, তার বাসার মাটির নিচে গুপ্তধন রয়েছে বলে এলাকার লোকজনের মধ্যে জনশ্রুতি রয়েছে। এ কারণে বাড়িটির সামনে প্রতিদিন লোকজন ভিড় করছে। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

বাড়িটি দুই কাঠা জমির ওপর নির্মিত। আপাতত কোনো ভাড়াটিয়া নেই। দুজন নিরাপত্তারক্ষী বাড়িটি দেখভাল করেন। যেহেতু জনশ্রুতি আছে বাসার মাটির নিচে গুপ্তধন রয়েছে, তাই বাড়ি খননে তার কোনো আপত্তি নেই। খননের খরচও তিনি বহন করবেন। যদি গুপ্তধন পাওয়া যায়, তাহলে তা বেওয়ারিশ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে।

এ ছাড়া বিধি মোতাবেক তা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। জিডির কথা উল্লেখ করে পুলিশের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরকে চিঠি দেয়া হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : মিরপুরে গুপ্তধন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter