রাজধানীজুড়ে বাস ভাঙার মহোৎসব, তীব্র যানজট

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০১৮, ১৯:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  রীনা আকতার তুুলি

বাস ভাঙছে শিক্ষার্থীরা, ছবি যুগান্তর

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা।এ সময় বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়।যানজটের ফলে বিপাকে পড়ে সাধারণ মানুষ। 

সরেজমিনে সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীজুড়ে সড়ক অবরোধ করে ও বাস ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য জাবালে নূর বাসের ড্রাইভার ও বাস কর্তৃপক্ষ দায়ী হলে আন্দোলনের সময় রেহাই পায়নি অন্য পরিবহনগুলো। রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে শাতাধিক বাস ভাঙচুর করেছে শিক্ষার্থীরা।এছাড়া বাস ভাঙচুরে নৈরাজ্য ঠেকাতে মহাসড়কে র‌্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের তৱপরতা লক্ষ করা গেছে। এ সময় বাস ভাঙা ঠেকাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে এখনো শতাধিক ভাঙা বাস পড়ে আছে।

 


রাজধানীর উত্তরা থেকে বাড্ডায় যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীর তোপের মুথে পড়ে সু-প্রভাত, অনাবিল, তুরাগ, রাইদাসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাস।সু-প্রভাতের একটি বাস ভাঙচুরের সময় বাস থেকে দ্রুত নামছিলেন নামজা বেগম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, মেয়েটাকে নিয়ে কোনো মতে জীবনে বাঁচিয়ে বাস থেকে বের হলাম। পুরো বাস কাচ চূর্ণচূর্ণ করা হয়েছে। এ সময় আমার ও আমাদের মেয়ের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় কেটে গেছে। মাথায় আঘাতও পেয়েছি। 

ওই নারী বলেন, আমরা সাধারণ মানুষের সব সময় ভোগান্তির শিকার হই দেখার কেউ নেই। আর ড্রাইভার হেলপার তো নারীদের গাড়িতে তুলতে চায় না। আর তুলেও খারাপ ব্যবহার করে। 


বিমানবন্দর সড়ক ধরে লাগেজ হাতে এয়ারপোর্টের দিকে ঢুকছিলেন নূর। তিনি মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের কাজ করেন। রাতে ফ্লাইট হলেও রাস্তায় এই ভয়াবহ অবস্থা দেখে তিনি রওনা হয়েছেন আগেই। তিনি বলেন, ফ্লাইট যেন মিস না হয় এ জন্য আগেই রওনা হয়েছি। ভাই দেশে না থাকাই ভালো। বিপদের শেষ নেই। 


রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বাস ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা।তবে সকাল থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিকালের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

এ বিষয়ে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) রেজাউল আলম যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীজুড়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের ট্রাফিক বিভাগ যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। তবে অনেক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। যারা করেছে তাদের রিরুদ্ধে আইন অনুযাযী ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

তিনি বলেন, শুধু ছাত্ররা নয় এই আন্দোলনে উসকানি দিয়েছে অছাত্ররাও। তারা উসকানি দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমরা এদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। 


গতকাল রোববার (২৯ জুলাই) দুপুরে কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়েছিল। জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় মুখেই দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে আরেকটি দ্রুতগতি সম্পন্ন জাবালে নূরের বাস ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিমিষেই ওঠে পড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর। চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় দুজন। এছাড়া আহত হন আরও ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী।

মারা যাওয়া দুইজন হলেন- শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।

ওই ঘটনায় গতকাল রোববার রাতেই নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং৩৩। এ ঘটনায় জাবালে নূরের তিন বাসের দুই চালক ও দুই হেলপারকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

এদিকে দুই শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের পরিবারকে এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা (টোকেন মানি) করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার জন্য বিআরটিএ এবং জাবালে নূর পরিবহন কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।