রাজধানীতে বাস উধাও

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৮, ১৭:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

বিমানবন্দর সড়কে দৃশ্য। ছবি: যুগান্তর

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে রেডিসনের বিপরীতে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। আর এ কারণে সড়ক থেকে বাস সরিয়ে নিয়েছেন পরিবহন মালিকরা।

ফলে বিক্ষোভে সড়ক আটকে থাকায় রাজধানীবাসীর স্বাভাবিক চলাচল যেমন আটকে গেছে; অন্যদিকে গণপরিবহন না পেয়েও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

গত রোববার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর বিমানবন্দর সড়কে গাড়ি ভাংচুরের পর রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করেছিল শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা।

পরদিন তাদের পাশাপাশি ধানমণ্ডিতে কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরাও সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখায়। মঙ্গলবার ওই দুটি স্থানের পাশাপাশি ফার্মগেইট, মতিঝিল, শ্যামলী, জসিমউদ্দিন ও কাকরাইল এলাকায়ও সড়ক অবরোধ হয়; ভাংচুর হয় কিছু গাড়িও।  

এর মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুর থেকে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে বাসের সংখ্যা কমে যায়। মিরপুর, শ্যামলী, মহাখালী, বিজয় সরণি, উত্তরা, ফার্মগেইট এলাকা দেখা গেছে, বাসের জন্য হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। কয়েকটি বাস এলেও তাতে ধাক্কা ধাক্কি করে সবাই উঠতে পারছেন না।

সড়কে বাস কম থাকার ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ খান গণমাধ্যমকে জানান, ভাংচুরের কারণে চালকরা বাস চালাতে চাইছেন না।  

সড়কে বাস বের করলেই সেগুলো ভাংচুর করা হচ্ছে। এজন্য সকালে বাস বের হলেও নিরাপত্তার কারণে বাসগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভয়ে বাস চালকরা রাস্তায় বাস বের করতে চাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বাস ভাংচুরের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তিনি সড়কে শিক্ষার্থী মৃত্যুরি ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের বিচার আমরাও চাই।

সকাল থেকে উত্তরা, ঢাকা কলেজের সামনে, শ্যামলী ও স্টাফ রোডে বহু গাড়ি ভাঙা হয়েছে বলে দাবি করেন এই পরিবহন শ্রমিক নেতা।

এদিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত হয়ে ক্লাসে ফিরে যেতে বলেন। আর দোষী চালকদের বিচারের আশ্বাসও দিয়েছেন।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দোষী চালকের ফাঁসিসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছে।

তারা পরিবহন শ্রমিক নেতা ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধ করার দাবিও রয়েছে তাদের।