দুই শিক্ষার্থী নিহতের মামলায় বাসচালকসহ ৪ জন কারাগারে

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৮, ১৯:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়া সেই জাবালে নুর বাস। ছবি-যুগান্তর

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাসচালকসহ চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে এদিন মামলার কেস ডকেট (সিডি) না থাকায় আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ৬ আগস্ট দিন ধার্য করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম এএইচএম তোয়াহা এ আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন, মো. এনায়েত হোসেন (চালকের সহকারী), মো. সোহাগ আলী (বাসচালক), মো. রিপন হোসেন (চালকের সহকারী) ও মো. জোবায়ের (বাসচালক)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই রিয়াদ আহমেদ রিমান্ড আবেদনে বলেন, প্রতিযোগিতায় লিপ্ত বাসগুলোর মধ্যে ওই চার জনের নাম পেয়ে র‌্যাবের সহযোগিতায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। 

তিনি বলেন, জাবালে নূর পরিবহনের মূল ঘাতক বাসের অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিসহ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত আরও চালক ও হেলপারদের নাম, ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেফতার করা এবং মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

বাসচাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন, শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজিব ও একই কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম। এ ছাড়াও আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবদুল্লাহপুর-মোহাম্মদপুর রুটে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের রেষারেষিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

ওই ঘটনায় রোববার রাতেই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্র জানায়, শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু’র বিপরীত পাশে ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে যে বাসস্ট্যান্ড সেখানে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। 

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস সেখানে আসে। কিছুক্ষণ পর একই পরিবহনের আরেকটি বাস দ্রুতগতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে টার্ন নেয় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। 

নিমেষে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায় বাসটি। কেউ চাকার নিচে পিষ্ট হয়, কেউ ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে করিম ও মিমকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।