রাজধানীতে বাস উধাও, যাত্রী দুভোর্গ চরমে

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৮, ১৬:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

রাজধানীতে বাস উধাও, ছবি সংগৃহীত

বিমানবন্দর সড়কে  জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় চতুর্থ দিনেও রাজধানীজুড়ে চলছে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, বাস ভাঙচুর ও বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা। ফলে রাজধানীতে কোনো গণপরিবহন চলছে না। তাই বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবি মানুষ। 

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে রাজধানীবাসীর স্বাভাবিক চলাচল যেমন আটকে গেছে; অন্যদিকে গণপরিবহন না পেয়েও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জসিমউদ্দিন সড়কে বাস না পা পেয়ে পায়ে হেটেই অফিসে রওনা হয়েছেন বীনা আকতার। তিনি যমুনা ব্যাংকে কর্মরত আছেন। তিনি বলেন, বাস না পেয়ে চার দিন ধরে তিনি জসিমউদ্দিন থেকে পায়ে হেটে কুড়িল বিশ্বরোডে অফিস করছেন। 

তিনি বলেন, যদিও দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমার কাছে যৌত্তিক মনে হয়। 

এদিকে রাজধানীতে বাস না থাকায় যাত্রীরদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে রিকসা ও অন্যান্য পরিবহন।এই সুযোগে উবার, পাঠাওসহ অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবার চালকরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিনগুণের বেশি ভাড়া আদায় করছেন। তারা নির্দিষ্ট অ্যাপস চালু না করেই ইচ্ছে মতো ভাড়া চাইছেন। কোনো উপায়ন্তর না দেখে এক প্রকার বাধ্য হয়েই চলাচল করছেন কর্মমূখী সাধারণ মানুষ।

অন্দোলনের চতুর্থ দিনেও বুধবার সকাল থেকেই বিমানবন্দর সড়কে অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।এছাড়া ফার্মগেইট, মতিঝিল, শ্যামলী, জসিমউদ্দিন ও কাকরাইল, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ি এলাকায়ও সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।  

সড়কে বাস কম থাকার ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ খান গণমাধ্যমকে জানান, ভাংচুরের কারণে চালকরা বাস চালাতে চাইছেন না।

সড়কে বাস বের করলেই সেগুলো ভাংচুর করা হচ্ছে। এজন্য সকালে বাস বের হলেও নিরাপত্তার কারণে বাসগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভয়ে বাস চালকরা রাস্তায় বাস বের করতে চাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বাস ভাংচুরের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।তিনি সড়কে শিক্ষার্থী মৃত্যুরি ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের বিচার আমরাও চাই।

উল্লেখ্য, গত রোববার দুপুরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম ওরফে মীম নিহত হন। বাসচাপায় আহত হন আরও ১৩ জন।

এ ঘটনা কেন্দ্র করে চার দিন ধরে রাজধানীজুড়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় জড়িত পরিবহনকর্মীদের বিচার ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানান।