বাসশূন্য ঢাকার সড়ক, ভোগান্তি চরমে

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি- যুগান্তর

রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে আজ শনিবারও কোনো যাত্রীবাহী বাস চলছে না। ফলে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরশেনের (বিআরটিসি) কয়েকটি বাস চললেও সেগুলোতে উঠতে হচ্ছে অনেক কষ্ট করে।
সকাল সোয়া ৯টা পর্যন্ত মিরপুর রোড, রোকেয়া সরণি, সাতমসজিদ রোড, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, মানিক মিয়া এভিনিউ, প্রগতি সরণি, এলিফ্যান্ট রোডে কোনো গণপরিবহন দেখা যায়নি।

সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চলাচল করছে। সেগুলোও অনেক কম। বেশি ভাড়াও অনেক দুর্ভোগে অফিস ও গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী শিমুর জানান, আমি বসুন্ধরা এলাকায় যাব, কোনো গাড়ি নেই। দুই একটি বিআরটিসির বাস আসছে। তবে সেখানেও উঠতে পারছি না। পরে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিলাম।

উত্তরা থেকে বিশ্বরোডে কর্মস্থলে যাবেন শামসুল হাবিব। তিনি বলেন, বাসের অপেক্ষায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রয়েছি। কখন গন্তব্যে যেতে পারব জানি না।

গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। 
এ ছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এরই মধ্যে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় বাস চলাচল একেবারেই কমে যায়। এমনকি আন্তঃজেলা বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নয়টি দাবি করেছে। তাদের সব দাবি মেনে নেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। এখন তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার উচিত। 

এরই মধ্যে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা বলেছেন, নিরাপত্তার কারণে তারা রাস্তায় বাস নামাবেন না। ফলে অঘোষিত ধর্মঘট চলছে।