‘মালিকরাই সড়কে গাড়ি নামাতে ভয় পাচ্ছেন’

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১০:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ছবি- সংগৃহীত

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ এবং ঘাতক চালকের ফাঁসিসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়কে আন্দোলনে নামলে আজ শনিবারও রাজধানীসহ সারা দেশে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। 

রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়লেও নিরাপত্তার কারণে সকালে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতি।

শনিবার সকালে দোয়েল পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গুলজার হোসেন ভূইয়া জানান, গত রোববার থেকে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনে চারশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। এতে মালিকরা রাস্তায় গাড়ি নামাতে ভয় পাচ্ছেন। তারা গাড়ি চালানো নিরাপদ মনে করছেন না। তাই রাজাধানী ঢাকা ও ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার গাড়ি বন্ধ রয়েছে। 

এদিকে সকাল সোয়া ৯টা পর্যন্ত মিরপুর রোড, রোকেয়া সরণি, সাতমসজিদ রোড, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, মানিক মিয়া এভিনিউ, প্রগতি সরণি, এলিফ্যান্ট রোডে কোনো গণপরিবহন দেখা যায়নি।

সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চলাচল করছে। সেগুলোও অনেক কম। বেশি ভাড়াও অনেক দুর্ভোগে অফিস ও গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার মহাখালী বাস টার্মিনালে বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ সাংবাদিকদের বলেন, বাস মালিকরা রাস্তায় গাড়ি চালানো নিরাপদ মনে করছেন না বলেই তারা গাড়ি চালাননি।

তিনি বলেন, বাস মালিক বা শ্রমিক কাউকে গাড়ি বন্ধ করতে বলিনি। মালিকরাই নিরাপত্তাহীনতার কারণে গাড়ি চালাচ্ছেন না। কোনো ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে বাস মালিকরাও একমত। 

এদিকে সকাল থেকে হঠাৎ করেই বাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। অনেকেই বাস স্ট্যান্ডে এসে গন্তব্যে যেতে না পেরে ফিরে গেছেন। তবে মোটর শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাস চলা অব্যাহত থাকবে।

গত ২৯ জুলাই (রোববার) কর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। প্রধানমন্ত্রী ২ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে নিয়ে এসে তাদের সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী নিহত দুই শিক্ষার্থীর প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে মোট ৪০ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র দেন।