সায়েন্স ল্যাবরেটরি-ঝিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ-ছাত্রলীগের হামলা

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ১৫:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও ঝিগাতলা এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদর ওপর হামলা করেছে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ।

হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ অন্তত ১৫ জনকে পুলিশ আটক করেছে।

রোববার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত দফায় দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

বর্তমান ধানমণ্ডির ১ ও ২ নম্বর সড়ক থেকে ঝিগাতলা পর্যন্ত সড়কে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে সায়েন্সল্যাব-ঢাকা কলেজ-মিরপুর রোড এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন।

তাদের অনেকেই হেলমেট পরা। প্রায় সবার হাতে লাঠি ও রড রয়েছে। কারও কারও হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছ বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলর ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হচ্ছে হামলাকারীরা। তারা বেসরকারি নাগরিক টেলিভিশনের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

হামলায় বেশ কয়েকজন ফটোসাংবাদিক আহত হয়েছেন। এরমধ্যে বার্তা সংস্থা এপির ফটোসাংবাদিক এম এন আহাদকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ হাসপাতালের সামনে থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সিটি কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সংঘর্ঘে জড়ালে তা পুরো ২ নম্বর সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ১ নম্বর সড়কেও এটি বিস্তৃত হয়।

পরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের একদল নেতাকর্মী এসে সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

হামলার মুখে প্রায় দুইশত শিক্ষার্থী পপুলার হাসপাতালে আশ্রয় নেয়। কিন্তু সেখানে ঢুকেও তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে সংঘর্ষ পুরো সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও ঝিগাতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের একদল নেতাকর্মী মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিতে থাকেন। ওই সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশেরও উপস্থিতি দেখা যায়।

পরে বেলা ১১টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষিপ্তভাবে ওই এলাকায় জড়ো হতে থাকেন।

একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগ থেকে ঢাকা সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজসহ বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। তাদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী যোগ দেন।

পরে শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে ঝিগাতলা অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওনা হন।

দুপুর ১টার দিকে মিছিলটি ঝিগাতলায় পৌঁছলে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতি কার্যালয়ের চারপাশে অবস্থানরত পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

ওই কাঁদানে গ্যাস থেকে বাঁচতে অনেক শিক্ষার্থী ধানমণ্ডি লেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তখন লেকের পাড়ে অবস্থান নিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে ও ঢিল ছোড়ে। সেখান থেকে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।

এরপর পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায় তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে ল্যাবএইডের সামনে থেকে ১২-১৫ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুরে শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে তারা এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটির সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে সেখানে তাদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ সময় উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে চলে আসেন।