বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত

এবার জাবালে নূর মালিকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ১৯:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

গ্রেফতার জাবালে নূরের মালিক মো. শাহাদত হোসেন। ছবি-যুগান্তর

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঘাতক বাস জাবালে নূরের মালিক মো. শাহাদত হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

স্বীকারোক্তিতে তিনি বাসচালক মো. মাসুম বিল্লাহর ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই-বাছাই না করেই নিয়োগ দেয়ার কথা বলেন। 

তিনি বলেন, জাবালে নূর পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের (ঘাতক বাস) মালিক তিনি। তিনি জাবালে নূর কোম্পানির সভাপতি মো. জাকির হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নোমান ও ডিএমডি অলি আহম্মদদের দৈনিক ৭০০ টাকা দিতেন। তাদের সহযোগিতায় ও অনুরোধে জ্ঞাতসারে তার বাসটি চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই-বাছাই না করেই নিয়মবহির্ভূতভাবে উপযুক্ত চালক না দিয়ে অনুপযুক্ত চালক মো. মাসুম বিল্লাহকে নিয়োগ দেন। এ কারণে বাস চালানোর সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. গোলাম নবীর আদালতে বাস মালিক শাহাদত হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। 

এদিন সাত দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম। 

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর হাকিম ওই জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের ২ আগস্ট শাহাদাত হোসেনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবদুল্লাহপুর-মোহাম্মদপুর রুটে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাসের রেষারেষিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজিব ও একই কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম নিহত হন। এছাড়াও আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। 

ওই ঘটনায় ওই রাতেই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

সূত্র আরও জানায়, শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু’র বিপরীত পাশে ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে যে বাসস্ট্যান্ড সেখানে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস সেখানে আসে। 

কিছুক্ষণ পর একই পরিবহনের আরেকটি বাস দ্রুতগতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে টার্ন নেয় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিমেষে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায় বাসটি। কেউ চাকার নিচে পিষ্ট হয়, কেউ ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে। 

আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে করিম ও মিমকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এর আগে বুধবার ঘাতক বাসের চালক মো. মাসুম বিল্লাহ বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটনা বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

এছাড়া জাবালে নূরের অপর বাসের চালক মো. সোহাগ আলী, চালকের সহকারী মো. এনায়েত হোসেন, আরেক চালক মো. জোবায়ের ও চালকের সহকারী মো. রিপন হোসেন বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।