অযৌক্তিক ভয়েস কলরেট বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে “ভয়েস কলরেট বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব সম্মুখে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে শুধুমাত্র অপারেটরদের স্বার্থ বিবেচনা করে ভয়েস কলের কলরেট ২৫ পয়সা থেকে বৃদ্ধি করে ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে। 

বর্তমানের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে গ্রাহকদের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত গ্রাহককে মানতে বাধ্য করা একটি অগণতান্ত্রিক ও অনৈতিক সিদ্ধান্ত। 

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া যায় কি না তা আমাদের জানা নেই। যদিও এমএনপি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে দুর্বল অপারেটরদের বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিটিআরসি নিয়েছে বলে আমরা মনে করি। 

অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সরকার বাজেট ঘোষণায় ইন্টারনেটের মূল্যের ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করলেও বাজেট পাস হওয়ার দেড় মাস পার হওয়ার পরও বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে কলরেটের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ জারি হলো।

মানববন্ধনে সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, শুধুমাত্র অপারেটরদের আবেদনের প্রেক্ষিতে লোকচক্ষুর অন্তরালে এই মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেয়া যায় না। অতিদ্রুত মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করে জনগণের কাছ থেকে নেয়া অতিরিক্ত অর্থ জনগণকে ফেরত প্রদান করার দাবি জানাচ্ছি।

গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, নতুন এই কলরেটের ফলে গ্রাহকের পকেট থেকে বছরে ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হবে। তাই মোবাইল ফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সরকারকে দ্রুত নতুন কলরেট বাতিল করা আহ্বান জানাই।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য কাজী আমান উল্যাহ মাহফুজের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান কাজী ছাবের আহমেদ ছাব্বীর, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান, নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. সামছুল আলম প্রমুখ।