‘গুলি করে মারুন, তবু এমন কাজ করব না’

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

‘গুলি করে মারুন, তবু এমন কাজ করব না’
প্রতীকী ছবি- যুগান্তর

‘এক র‌্যাব কর্মকর্তা স্বামীকে (কামরান) ফোন করে এলাকার অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন। স্বামী উত্তরে বলেছেন- ‘আমি সবাইকে চিনি না, আপনারা প্রয়োজনে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলুন, তবু আমি এমন কাজ করতে পারব না। আমি ধরিয়ে দিতে পারব না।’

কামরান মোহাম্মদপুর আজিজ মহল্লা এলাকার জেনেভা ক্যাম্পের নিখোঁজ কামরান হোসেনের (২৫) স্ত্রী পলি আক্তার এ কথাগুলো বলেন।

২৯ আগস্ট মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প থেকে কামরান হোসেন নিখোঁজ হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার নিখোঁজের ২৮ দিন পার হলেও তার হদিস পাচ্ছেন না স্বজনরা। এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুর থানায় জিডি হয়েছে।

পুলিশ কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না। তবে কামরানের স্বজনদের অভিযোগ- তাকে র‌্যাব পরিচয়ে ফোনে ডেকে নিয়ে গুম করা হতে পারে। তারা কামরানকে ফিরে পেতে সরকার ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

কামরান মোহাম্মদপুর আজিজ মহল্লা এলাকার জেনেভা ক্যাম্পের মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে। জেনেভা ক্যাম্পে তার নিজের এবং তার ভাইদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

কামরানের স্ত্রী পলি আক্তার যুগান্তরকে বলেন, ২৯ আগস্ট দুপুরে জেনেভা ক্যাম্প এলাকা থেকে নিখোঁজ হন কামরান। ওই দিন সকাল ৭টায় বাসা থেকে বের হয়ে দুপুর পর্যন্ত জেনেভা ক্যাম্প মার্কেট এলাকায়ই ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে ছিল বন্ধু শাকিল।

দুপুর দেড়টায় আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয় স্বামী কামরানের। বলেছে- ভাত রেডি করে রাখ, আমি আসছি। এর পর দুপুর ২টার দিকে কল দিয়ে ফোন বন্ধ পাই। এর আগের রাতে আমাকে বলেছিল- র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা তাকে ডেকেছেন। তার সঙ্গে দেখা করতে উত্তরায় যাবে। যদি আমি কোনো মসিবতে পড়ি তা হলে তুমি র‌্যাব-১-এ গিয়ে যোগাযোগ করবে।

পলি আক্তারের দাবি, কামরান তাকে জানিয়েছে- এক র‌্যাব কর্মকর্তা কামরানকে ফোন করে এলাকার অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন। কামরান উত্তরে বলেছেন- ‘আমি সবাইকে চিনি না, আপনারা প্রয়োজনে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলুন, তবু আমি এমন কাজ করতে পারব না। আমি ধরিয়ে দিতে পারব না।’

পলি আক্তার বলেন, জয় নামে ডিবি পুলিশের এক সোর্স আছে। সে জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় বিয়ে করেছে। তার সঙ্গে কামরানের বিরোধ ছিল। কয়েক দিন আগে জয় কামরানকে হুমকি দেয়। ওকে নাকি ডিবি দিয়ে অবস্থা খারাপ করে দেবে। এ বিষয়ে আমরা জিডিও করেছি। তিনি বলেন, আমি দুই-তিনবার ডিবি অফিসে গেছি। র‌্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কামরানকে নিয়েছে বলে কেউ স্বীকার করে না।

এ ছাড়া সে নিখোঁজের পর ৩০ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি, যার নং- ২৩১৩০। পুলিশও তার কোনো হদিস দিতে পারছে না। পলি আক্তার বলেন, ফারহান (৫) তার বাবার জন্য শুধুই কাঁদে। বাবাকে না পেয়ে সে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। আমার ধারণা, কামরান র‌্যাব হেফাজতে আছে। কামরান যেখানেই থাকুক, আমি তাকে ফেরত চাই।

ঘটনার দিন কামরানের সঙ্গে থাকা শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, দুপুর দেড়টা পর্যন্ত কামরান আমার সঙ্গেই ছিল। দেড়টার পর একটা ফোন এলো। তখন সে আমাকে বলল- তুই একটু দাঁড়া। আমি কলেজগেটে যাচ্ছি। ১০ মিনিটের মধ্যেই চলে আসব। কামরান যখন আসছিল না, তখন ফোন দিয়ে তার ফোন বন্ধ পাই।

কামরানের বড় ভাই মাহতাব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে সে উত্তরায় কোনোভাবেই যেতে পারে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×