Logo
Logo
×

রাজধানী

মাইলস্টোনে চলছে কাউন্সিলিং, শিশুদের চোখে ভয়

Icon

তুরাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫, ১২:২৪ এএম

মাইলস্টোনে চলছে কাউন্সিলিং, শিশুদের চোখে ভয়

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় কিছুতেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। চোখের সামনে আগুন আর হতাহতের ভয়াবহতায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকেরা।  আর এসব শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ক্যাম্পাসের কক্ষে চলছে বিশেষ কাউন্সিলিং ও মেডিকেল ক্যাম্পেইন।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে মাইলস্টোন ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, মেইন গেটের পাশেই কাউন্সিলিং ক্যাম্প পরিচালনা করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।  সেই হায়দার আলী ভবনের পাশে থাকা একতলা বিশিষ্ট ভবনের দুটি কক্ষে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মেডিকেল টিমের সদস্যরা।

এ সময় কথা হয় কাউন্সিলিং ক্যাম্পে থাকা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া সন্তান হাসিন আবরারকে নিয়ে আসা অভিভাবক লিমা আক্তারের সঙ্গে। বিমান দুর্ঘটনার পর ছেলে একেবারে চুপচাপ হয়ে গেছে জানিয়ে এ মা বলেন, ‘ওর বন্ধু আরিয়ান মারা গেছে, জুনায়েদ অসুস্থ। ছেলে সারাদিন শুধু ওদের কথাই বলে। ওই ঘটনার পর ছেলে এখন খুব ভয় পাচ্ছে। স্কুল থেকে কল দিয়ে জানাল মেডিকেল ক্যাম্পের কথা তাই নিয়ে আসলাম ‘

কাউন্সিলিং সেন্টারের ১ নম্বর কক্ষে থাকা মারিয়াম রেজা মাধুর্য নামের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ে হায়দার আলী ভবনের তৃতীয় শ্রেণির স্কাই শাখায় পড়ে। ওইদিন শরীর খারাপ থাকায় ও স্কুলে আসেনি। বিমান দুর্ঘটনায় ওর তিন বন্ধু নিধি, আফিয়া ও রাইসা মারা গেছে। বাসায় মেয়েটা ওদের কথা মনে করে কান্না করে। কিছুতেই বন্ধুদের কথা ভুলতে পারছে না।’

নিলুফা আক্তার নামের অপর অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলের নাম মাশরুর। ওইদিন ও নিজ চোখে যে ভয়াবহতা দেখেছে তা কিছুতেই ভুলতে পারছে না। ওই ঘটনার পর রাতে কিছুতেই ঘুমাতে পারছে না। চোখ বন্ধ করলেই আগুন দেখে। সে জন্য এ কাউন্সিলিং ক্যাম্পে নিয়ে এসেছি।’

অভিভাবকদের সঙ্গে কাউন্সিলিং ক্যাম্পে আসা মাইলস্টোনের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বলছে, সেদিনের ঘটনার পর সবকিছুতেই ভয় লাগছে তাদের। মায়ের সঙ্গে কাউন্সিলিং শেষে কক্ষ থেকে বের হয়ে আসা মাইলস্টোনের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সানা জাবিন আফরিন বলেন, সামনে দিয়ে এতগুলো লাশ যাওয়া কিছুতেই ভুলতে পারছি না। ওইদিন আমার একটা বন্ধু মারা গেছে। স্কুলে আসলে ওই দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভাসে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসিন আবরার বলে, ‘বিমান দেখলে অনেক ভয় লাগে। আমার বন্ধু আরিয়ান মারা গেছে। আমার বন্ধুর সঙ্গে আর কোনো দিন দেখা হবে না।  এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘হায়দার আলী ভবনে ক্লাস চালু হলে আমি আর স্কুলেই আসবো না। প্রয়োজনে অন্য স্কুলে চলে যাবো।’

এদিকে, দুপুর আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে কাউন্সিলিং ক্যাম্পে এসেই জ্ঞান হারান মাইলস্টোনে আয়া হিসেবে কাজ করা লিপি আক্তার। এ বিষয়ে খাদিজা নামের এক শিক্ষিকা বলেন, ‘বিমান দুর্ঘটনার সময় ও কিছুটা আহত হয়েছিল। আজ ক্যাম্পে এসে মানসিকভাবে বিমর্ষ হয়ে পড়ে। বিমানবাহিনীর মেডিকেল টিম তাকে সিএমএইচ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।’

শিশুদের মানসিক ভীতি কাটিয়ে তুলতে কি ধরণের কাউন্সিলিং করানো হচ্ছে জানতে চাইলে কাউন্সিলিং ক্যাম্পের ১ নম্বর কক্ষের দায়িত্বে থাকা মাইলস্টোন কলেজের স্টাফ কাউন্সিলর শাহ পার নেওয়াজ বলেন, ‘যাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা তাদের কাছ থেকে শুনছি। এরপর সেভাবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরকে আমরা মোটিভেশন করছি। আশা করি ধীরে ধীরে ওরা ঠিক হয়ে যাবে।’

জানা যায়, মাইলস্টোন ক্যাম্পাসের আলাদা আলাদা চারটি ভবনে চলছে এসব কাউন্সিলিং কার্যক্রম। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সমস্যাগ্রস্তদের মানসিক অবস্থার উন্নয়নে টানা চতুর্থ দিনের মতো কাউন্সিলিং ক্যাম্প চালু রেখেছে বিমানবাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ ও ব্র্যাক ইনস্টিউট অব এডুকেশনাল ডেভলপমেন্টের সমন্বয়ে চলছে বিশেষ কাউন্সিলিং কার্যক্রম।

ক্যাম্পে অবস্থানরত বিমানবাহিনীর মেডিকেল টিমের এক কর্মকর্তা বলেন, আজ দুপুর পর্যন্ত আমরা ১১৪ জনকে সেবা দিয়েছি। কার্যক্রমের প্রথম দিন ১১৮, দ্বিতীয় দিন ২০০ ও তৃতীয় দিন ১৭২ জন বিভিন্ন সমস্যা নিয়েই ক্যাম্পে এসেছে। ক্যাম্প আরও তিনদিন চলবে। 

এদিকে, মাইলস্টোনের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল বলেন, ক্লাস শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আগামী শনিবারে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। শিগগিরই ছবিসহ নিহতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

ঘটনাপ্রবাহ: উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম