যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ৩১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা
এমপিদের হস্তক্ষেপে অকার্যকর উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়। মহৎ উদ্দেশ্যে এ পদ্ধতি প্রবর্তন করা হলেও আইনের দুর্বলতা এবং এমপিদের ‘অযাচিত’ হস্তক্ষেপের কারণে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আর এ দুটি প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দের ৭০ ভাগ অর্থই খরচ হচ্ছে এমপিদের ইচ্ছায়। শনিবার রাজধানীর হোটেল সেরিনায় ‘ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইডিজি), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়’ আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। বিআইডিজি’র তিনটি গবেষণাপত্রের ওপর আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় এমপিরা উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু, তারা করছেন উল্টো কাজ। নিজেদের ইচ্ছা ও অনিচ্ছা বাস্তবায়নে চেয়ারম্যানদের বাধ্য করছেন। বিআইডিজির নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত খ্রিস্টয়ান ফচ্। আলোচনায় অংশ নেন, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসক বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু প্রমুখ।
সেমিনারে ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব আহরণ ও পরিষদের নারীর প্রতিনিধিত্ব এবং উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত দফতরগুলোর জবাবদিহিতার বিষয়ে ৩টি পৃথক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপিত গবেষণাপত্রগুলোর ওপর বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন। সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা এসডিজির অর্থায়নে পরিচালিত স্থানীয় শাসন কর্মসূচি-শরিক প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, জনস্বার্থে দেশে কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সাংবিধানিক কমিটমেন্ট। সেহেতু এটা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করা উচিত নয়। বাংলাদেশ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে, ধাপে ধাপে এ ব্যবস্থাকে কার্যকর করে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে থেকে এ বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সব ধরনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নইলে তারা নিজেদের মতো করে কাজ করতে পারবেন না। সেহেতু বিদ্যমান অবস্থায় তাদের পক্ষে সঠিকভাবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সংরক্ষিত আসন সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রেখে ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে নারীদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করতে হবে।
বিআইডিজির নির্বাহী পরিচালক ড. হাফিজ রহমান বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নে এমপিদের ভূমিকা থাকতে পারে; আমেরিকায়ও এটা আছে। তবে আমাদের দেশে বিষয়টি রাজনীতিকীকরণের কারণে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে সরকারের ১৭টি বিভাগ উপজেলা পরিষদের অধীনে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল, সুযোগ-সুবিধা না থাকায় প্রত্যাশিত ফলাফল আসছে না। তিনি বলেন, এমপিরা উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু এখনকার এমপিরা তাদের পরামর্শ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করছেন।
উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বাস্তব অবস্থা বিশ্লেষণ করে অধ্যাপক হোসেন বলেন, বিকেন্দ্রীকরণ শুধু নামেই হয়েছে, বাস্তব চিত্র পুরো উল্টো। কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে ‘স্থানীয় সরকার সেবা’ চালু করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারের জেলা পরিষদ নির্বাচন দেয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উল্লেখ্য করে বলেন, জেলা পরিষদে নির্বাচন হলে সব স্তরে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালু হবে। এরপর ধাপে ধাপে আইনের দুর্বলতা নিরসন এবং কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উদাহরণ হতে পারে আমাদের জন্য। সেখানে নারীর ক্ষমতায়ন বেশ শক্তিশালী। আর অনেক বেশি শক্তিশালী তাদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো। ভারত থেকে শিক্ষা নিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা যেতে পারে।
বিআইডিজির গবেষণাপত্র প্রস্তুত টিমের নেতৃত্বদানকারী ড. মির্জা হাসান বলেন, আইনি দুর্বলতার কারণে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের জনবল নিয়োগ দেয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। এছাড়া অধীনস্থ সরকারি অফিসারদের শৃংখলা ভঙ্গের শাস্তি দেয়ারও কোনো সুযোগ নেই। এটা দুর্বলতা দূর করা ছাড়া উপজেলা পরিষদ শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ের জরিপ করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, যেখানে ফান্ড থাকে সেখানে এমপিরা হস্তক্ষেপ করেন। অন্য কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। আইনের শাসন না থাকায় স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হচ্ছে না বলে গবেষণা করে জানতে পেরেছেন তারা।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by