যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ভারত বিরোধিতা রাজনৈতিক কৌশল
ভারত বিরোধিতা রাজনৈতিক কৌশল। এটিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এ পাকিস্তানি মনোজগতের আস্ফালন ঘটে। পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত সেটি বহন করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে নতুন করে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বেশকিছু চুক্তি ও সমঝোতা হচ্ছে। এখন সেগুলো নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনার আয়োজন করে আই ক্ল্যাডস নামের একটি সংগঠন। এতে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন আই ক্ল্যাডসের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ।
ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ভারত বিরোধিতা রাজনৈতিক কৌশল। তাই এটিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পরও বাংলাদেশ বেশি সময় শাসিত হয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির দ্বারা। এ অপশক্তি পার্বত্য শান্তি চুক্তির সময়ও বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত সেটি বাতিল করেনি। এখন প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর উপলক্ষে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে। সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব বলেন, ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পাকিস্তানি মনোজগতের আস্ফালন ঘটে। এখন এটিকে কেউ কেউ চাঙ্গা করতে চাচ্ছে। এই ভারত বিরোধিতা রাজনৈতিক। শক্তভাবে তা রুখে দাঁড়াতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, শুধু তিস্তা চুক্তি নয় প্রধানমন্ত্রীর সফরে আন্তঃনদী সংযোগপ্রবাহ ও টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আলোচনা করা দরকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দের উত্তরণ ঘটাতে চাইলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে।
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, যে কোনো সম্পর্কে বহুমাত্রিকতা রয়েছে। এটা বাদ দিয়ে সম্পর্ক হয় না। তিস্তা চুক্তি ছাড়াও অন্য অনেক নদীতে বাঁধ হয়ে গেছে। গঙ্গা চুক্তির সুফল নিতে পারছি না। জলবিদ্যুৎ নেপাল বা ভুটান থেকে আনা হলে ভারতের ভূমি ব্যবহারের বিষয়েও তৎপর হতে হবে।
জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনুদ্দীন খান বাদল বলেন, প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বাস্তবিক কারণে তাড়াহুড়ার কিছু নেই। সহজভাবে দু’দেশের সম্পর্কের ভিত্তিতে যতটুকু করা যায় সেটাই ঠিক আছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহজাবিন খালেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে ৫ বিলিয়ন ডলারের লাইন অব ক্রেডিট স্বাক্ষরিত হবে। যেসব চুক্তি হচ্ছে সেটাকে উৎসাহ না দিয়ে শুধু তিস্তা নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
বিআইআইএসএসের চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়বে- এ ধরনের ছাড়া অন্য যে কোনো চুক্তি করা যায়। মনে হয়, সরকারও এ বিষয়ে সচেতন আছে।
সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক বলেন, ভারত আমাদের ভালো বন্ধু। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ শাসন করেছে পাকিস্তানপন্থীরা। তারা মুক্তিযুদ্ধে ভারত যে আমাদের সাহায্য করেছে সেটা কাউকে জানতে দেয়নি। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য আবদুল মান্নান, শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরীন আফরোজ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, এয়ার কমোডর (অব) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী প্রমুখ।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by