যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
এমসিসিআই’র সভায় জ্বালানি উপদেষ্টা
আগামী বছর থেকে দেশে গ্যাস সংকট থাকবে না
ভারত থেকে আসছে এলএনজি * ৫-৬ বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, শিল্প খাতে গ্যাস সংকট দূর করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আগামী বছরের প্রথম থেকেই ভারত থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু হবে। প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্যাস আমদানি করা হবে। এ কারণে আগামী বছর থেকে শিল্প-কারখানায় গ্যাসের আর কোনো সংকট থাকবে না। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতের উন্নয়নে আগামী ৫-৬ বছরে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার রাজধানীর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) তৃতীয় ত্রৈমাসিক মধ্যাহ্নভোজ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এমসিসিআই’র মধ্যাহ্নভোজ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির। উপস্থিত ছিলেন এমসিসিআই’র সাবেক সভাপতি লায়লা রহমান কবির, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান আনিস এ খান, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি কামরান টি রহমান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম প্রম–খ।
তৌফিক-ই-ইলাহী আরও বলেন, এলএনজি আমদানির মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। তবে প্রাথমিকভাবে ব্যবহারকারীদের গ্যাসের বাড়তি দাম দিতে হবে। এজন্য এখন থেকেই তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম মধ্য মেয়াদে স্থিতিশীল হয়ে আসবে এবং তা সবার কাছে সহনীয় হবে। তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে অনেকগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে। আবার অনেকগুলোর বাস্তবায়ন চলছে। এসব প্রকল্প পুরোপুরি চালু হলে সুফল পাওয়া যাবে। তবে ২০১৮ সালের পর দেশে আর গ্যাসের সংকট থাকবে না।
নিহাদ কবির বলেন, বর্তমানে ব্যবসায়ীরা তিনটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। প্রথমটি হল নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গুণগত সরবরাহ বজায় রাখার ঝুঁকি। দ্বিতীয়টি হল স্থিতিশীল ও দাম সহনীয় রাখার ঝুঁকি। তৃতীয়টি হল লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের অপর্যাপ্ততা ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহের চাপ কম থাকার ঝুঁকি। তিনি বলেন, কিভাবে এসব ঝুঁকি কমানো হবে সে সম্পর্কে সরকারকে নিশ্চয়তা দিতে হবে। তপন চৌধুরী বলেন, দেশে গ্যাসের সংকট প্রকট। শিল্প-কারখানায় গ্যস সংযোগ থাকলেও সরবরাহের চাপ থাকে খুব কম। ফলে সীমিত চাপের গ্যাসে আধুনিক মেশিন চালানো যায় না। ২০১৮ সালের মধ্যে দেশে আর গ্যাস সংকট থাকবে না- এমন দাবি কতটা বাস্তবভিত্তিক সরকারের তা স্পষ্ট করা উচিত। নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে শিল্প উদ্যোক্তারা তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্থির করতে পারবেন। একইসঙ্গে গ্যাসের দাম স্থিতিশীল রাখা ও ভবিষ্যতে দাম কত হবে তার পূর্বাভাস দেয়ার ব্যবস্থা রাখারও অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বলেন, পূর্বাভাস জানা সম্ভব হলে ব্যয় নিয়ে পরিকল্পনা করা সহজ হয়। সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, শিল্পের মূল উপকরণ হল গ্যাস-বিদ্যুৎ। এ জন্য গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন ও গুণগত সরবরাহ দেখতে চাই।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত