ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ রিব্র্যান্ডিং কার্যক্রম উদ্বোধন
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘এমক্যাশ’ রিব্র্যান্ডিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দেশের প্রথম ইসলামিক মোবাইল ব্যাংকিং ‘এমক্যাশ’ রিব্র্যান্ডিং কার্যক্রমটি উদ্বোধন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ইসলামী ব্যাংকের একটি শক্তিশালী গ্রাহক ভিত্তি রয়েছে। ৩ কোটির অধিক গ্রাহক এ ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত। ইসলামী ব্যাংকের ৪০০টি শাখা, ২৭১টি উপশাখা, প্রায় ২৮০০টি এজেন্ট আউটলেট-এর বৃহৎ নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে এমক্যাশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবাহেও এমক্যাশকে কাজে লাগাতে হবে। ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে এমক্যাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ডিজিটাল লেনদেনে দেশে দুর্নীতি কমার সঙ্গে ২ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, এমক্যাশকে শক্তিশালী করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। গ্রাহকদের প্রণোদনা ও ক্যাশব্যাক দিয়ে উৎসাহিত করতে হবে। এমক্যাশকে রিটেইল মার্কেট ও এসএমই সেক্টরে ফোকাস করে তাদেরকে কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেনে অন্তুর্ভুক্ত করার চেষ্টা করতে হবে। ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউটের পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের জন্য সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে। ডিজিটাল লেনদেন হলে দেশে দুর্নীতি কমে আসবে, ২ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে সচ্ছলতা আসবে।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা চাই মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মার্কেটটা এককেন্দ্রিক না থেকে আরও প্রসারিত হোক। যা দেশের অর্থনীতি ও গ্রাহকদের জন্য সুবিধাজনক।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমান বলেন, ৩ কোটি গ্রাহক নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়াও এমক্যাশ লেনদেনে সবাইকে উৎসাহিত করার আহবান জানান তিনি।
এমক্যাশের সুবিধাসমুহ
প্রযুক্তি এবং আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সমন্বয়ে এমক্যাশ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে নিরাপদ, দ্রুত এবং সহজ করেছে। এমক্যাশ থেকে এমক্যাশ-এ সেন্ডমানির ক্ষেত্রে কোন ফি নেই এবং ক্যাশআউট চার্জ প্রতি হাজারে মাত্র ১৩.৯০ টাকা। ইসলামী ব্যাংকের যেকোন শাখা, উপ-শাখা ও এটিএম থেকে উত্তোলনের ক্ষেত্রে ক্যাশ আউট চার্জ হাজারে মাত্র ৭ টাকা। বিদেশ থেকে রেমিট্যান্সের টাকা সরাসরি এমক্যাশে সরাসরি পাঠানো যায় যা সাথে সাথে জমা হয়ে যায়। রেমিট্যান্সের ক্যাশ আউট চার্জ হাজারে মাত্র ৭ টাকা। যেকোন ভিসা/মাস্টারকার্ড থেকে হাজারে মাত্র ৫ টাকা খরচে অ্যাড মানি করা যায়। এমক্যাশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিলসহ বিভিন্ন বিল ও মেট্রোরেলের র্যাপিড পাশের রিফিল করা যায়। এমক্যাশের মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভাতা যেমন বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি ও বিধাব ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা গ্রহণ করা যায়। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এমক্যাশের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছে। গ্রাহকরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এমক্যাশ এজেন্ট পয়েন্ট, ইসলামী ব্যাংকের সব শাখা, উপ-শাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ব্যাংকের নিজস্ব এটিএম ও সিআরএম বুথ থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারছেন।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আরিফ হোসেন খান। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ওমর ফারুক খান। ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, এফসিএ, এফসিএস, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম মাসুদ রহমান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুল জলিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও ব্যাংকের সব জোনপ্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকরা উপস্থিত ছিলেন।
