বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ
jugantor
বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ

  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১২:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম নিত্য-ব্যবহার্য পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি- ইউনিলিভার বাংলাদেশ (ইউবিএল)। সুদীর্ঘ এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি তার কর্মীদের জন্য সর্বক্ষেত্রে সমতা বিধান এবং বৈচিত্র্যময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অগ্রগামী নীতি বাস্তবায়ন করছে।

আর এক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য হলো- সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, বিশেষতঃ তৃতীয় লিঙ্গের ও প্রতিবন্ধীদের কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতায়িত করার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

আমাদের চলমান সমাজ ব্যবস্থায় সবচেয়ে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীগুলোর একটি হচ্ছে- তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়রা। শুধুমাত্র লৈঙ্গিক ভিন্নতার কারণে বৈচিত্র্যময় এই মানুষগুলোকে সর্বত্রই অবহেলা, অসম্মান ও অনাকাঙ্খিত ব্যবহারের সম্মুখীন হতে হয়।

সামাজিক কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণার বলি হয়ে পারিবারিক ভালোবাসা ও উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় দেশের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে নিজেদেরকে তারা সঠিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে পারছেন না।

বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখের বেশি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ রয়েছেন বলে বিভিন্ন বেসরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ায় বর্তমানে তারা নিজেদেরকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে পরিচয় নিবন্ধন করতে পারছেন। তবে তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতের সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরো বহুমুখী প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন বলে মনে করে ইউবিএল।

এই দর্শনকে সামনে রেখেই বাংলাদেশের তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়কে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতায়িত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যেই তার সুদক্ষ কর্মীদলে তৃতীয় লিঙ্গের কর্মী অন্তর্ভুক্ত করেছে। এছাড়া তাদের দক্ষতার বিকাশে উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতেও সজাগ রয়েছে কোম্পানিটি। ইউবিএলের বৈচিত্র্যতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির আওতায় প্রতিষ্ঠানটির কেয়ারলাইন রিপ্রেজেন্টেটিভ টিমে সমানতালে অবদান রেখে যাচ্ছেন সেখানে কর্মরত তৃতীয় লিঙ্গের কর্মীরা।

তেমনই একজন জেরিন মেহজাবিন নীল, যিনি আউটবান্ড সেলস প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন ইউবিএলের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড সার্ফ এক্সেলের আওতায় পরিচালিত একটি প্রজেক্টে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী জেরিন কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে ইউনিলিভার কেয়ারলাইন ফর সেলফ সাপোর্টে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন।

ইউনিলিভারে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, প্রতিদিনই নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি বলেই শত বাধা-বিপত্তি ও নানান প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে এতোটা পথ পাড়ি দিতে পেরেছি। জীবনযুদ্ধের এ পর্যায়ে ইউনিলিভারকে সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। লৈঙ্গিক সমতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

জেরিনের মতোই আরেকজন তৃতীয় লিঙ্গের ইউনিলিভারকর্মী মাশরিক আলম। উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী মাশরিক বর্তমানে- ইউনিলিভার’স এমপ্লয়ি কোভিড হেল্পলাইনে প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্নাতক শেষ হবার আগেই কর্মক্ষেত্রে মাশরিকের চমৎকার পেশাদারিত্ব, সেখানকার অন্য সহকর্মীদের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ছোটবেলা থেকেই অনাদরে-অবহেলায় বেড়ে উঠা মাশরিক জানান, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পর থেকে নিজের খরচ নিজেই চালিয়ে আসছেন।

তিনি আরো বলেন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পর থেকে আমাকে সংগ্রাম করে বাঁচতে হয়েছে। আর এটাই আমাকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা দেয়। ইউনিলিভারে কাজের অভিজ্ঞতা আমার জন্য বড় একটি অনুপ্রেরণা।

শুধু তৃতীয় লিঙ্গের কর্মী নয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার এবং অংশীদারিত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আসছে ইউবিএল। তাই ইউনিলিভারের বৈশ্বিক এজেন্ডাগুলোর একটি রাখা হয়েছে: ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজমেন্টে পাঁচ শতাংশ প্রতিবন্ধী কর্মী অন্তর্ভুক্ত করা। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করছে, যেমন- বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিজঅ্যাবেলিটি নেটওয়ার্ক (বিবিডিএন), অদম্য ফাউন্ডেশন, সাইটসেভার্স ইত্যাদির সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছে ইউবিএল।

গত দুই বছরে ‘ইউনিলিভার লিডারশিপ প্রোগ্রাম’ এর আওতায় ৬ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ইউনিলিভারে যোগ দিয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারিত বলয়ে কাজ করছে আরো ৪১ জন। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মেন্টরিং, কোচিং এবং অন্যান্য ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে ইউবিএল। শুধু তাই নয়, ‘এগেনিস্ট অল অডস’ নামের একটি প্রোগ্রামের আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সফল প্রতিবন্ধীদের আমন্ত্রণ জানায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ। সেখানে আমন্ত্রিতরা নিজেদের প্রতিবন্ধকতা জয়ের গল্প অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন। ইউবিএলের ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগ অন্য প্রতিবন্ধীদেরও উৎসাহিত করছে।

প্রতিষ্ঠানে সমতাভিত্তিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে নারীদের জন্য উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধার বাস্তবায়নও ইউনিলিভারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত নীতিগুলোর একটি। আর তাই আজ থেকে দশ বছর আগে নারী নেতৃত্বের জন্য পাইপলাইন তৈরির পদ্ধতিগত পরিকল্পনার মাধ্যমে ইউবিএল এর ডাইভার্সিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন (ডি অ্যান্ড আই) প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি তার ব্র্যান্ড, সাপ্লাইচেইন ও কমিউনিটির মধ্যে সমতার টেকসই কাঠামো বাস্তবায়নে সচেষ্ট রয়েছে।

এছাড়া কর্মজীবী বাবা-মায়েরা যাতে অফিস চলাকালীন তাদের সন্তানদেও যথাযথ যত্ন নিতে পারেন, সে সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউবিএল তার কর্পোরেট অফিসে ‘অপারেশনাল ক্র্যাশ ফ্যাসিলিটি’ চালু করেছে। টঙ্গীর হোম কেয়ার ফ্যাক্টরির জন্যও কোম্পানির তৃতীয় পক্ষের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে একই সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইউনিলিভার বাংলাদেশ ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের জন্য ‘স্ট্রাইড’ নামের একটি প্রকল্প শুরু করে। এর আওতায় নারীরা প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ‘ক্যারিয়ার ব্রেক’ বা চাকরিতে কর্মবিরতি নিয়ে পুনরায় কর্পোরেট সেক্টরে ফিরতে পারছেন।

বর্তমানে ইউবিএলের নেতৃত্বের ৪০%-ই রয়েছে নারীর অংশগ্রহণ। নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে: প্রথম কোম্পানি হিসেবে সেলস টিমকে নেতৃত্বদানে ‘ফিমেল রিজিওনাল ম্যানেজার’ নিয়োগ দেয়া, বাংলাদেশে নারীদের জন্য কাজের পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শীর্ষ আটটি সংস্থা থেকে ‘ইনস্পিরিট এক্সটার্নাল কাউন্সিল’ প্রোগ্রামের আওতায় পরামর্শকদের নিয়ে আসা, সম্মুখসারিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে তাদের জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রাত্রিকালীন শিফট চালু করা। প্রসঙ্গত: ইউনিলিভারের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে এটিই এ ধরনের উদ্যোগের প্রথম বাস্তবায়ন।

এছাড়া, কর্মক্ষেত্রে লৈঙ্গিক সমতা নিশ্চিত করতে ইউনিলিভারের লিঙ্গ নিরপেক্ষ নীতিগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি নীতি, পিতৃত্বকালীন ছুটি নীতি, ক্যারিয়ার ব্রেক বা কর্মজীবনে বিরতির নীতি, তীর্থযাত্রা কিংবা অবকাশকালীন ছুটি নীতি, যৌন হেনস্তা প্রতিরোধ নীতি, লাঞ্ছনা বা অবমাননার শিকার হওয়া কর্মীদের পাশে থাকার নীতি, পরিবর্তনযোগ্য ছুটির সমন্বয় নীতি, কেয়ারগিভার পলিসি বা স্বাস্থ্য পরিচর্যাসেবা নীতি ও অন্যান্য।

স্বনামধন্য ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনিলিভার তার কর্মীদের মৌলিক অধিকার এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে।

প্রতিষ্ঠানের সর্বক্ষেত্রে লৈঙ্গিক সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে ইউবিএলের। এসব উদ্যোগ সফল করার মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রতিশ্রুতিশীল সম্প্রদায়গুলোকে দেশের উন্নয়নের মূল ধারায় যুক্ত করতে সব সময় সরকারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ

 সংবাদ বিজ্ঞপ্তি 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম নিত্য-ব্যবহার্য পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি- ইউনিলিভার বাংলাদেশ (ইউবিএল)। সুদীর্ঘ এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি তার কর্মীদের জন্য সর্বক্ষেত্রে সমতা বিধান এবং বৈচিত্র্যময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অগ্রগামী নীতি বাস্তবায়ন করছে।

আর এক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য হলো- সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, বিশেষতঃ তৃতীয় লিঙ্গের ও প্রতিবন্ধীদের কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতায়িত করার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

আমাদের চলমান সমাজ ব্যবস্থায় সবচেয়ে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীগুলোর একটি হচ্ছে- তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়রা। শুধুমাত্র লৈঙ্গিক ভিন্নতার কারণে বৈচিত্র্যময় এই মানুষগুলোকে সর্বত্রই অবহেলা, অসম্মান ও অনাকাঙ্খিত ব্যবহারের সম্মুখীন হতে হয়।

সামাজিক কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণার বলি হয়ে পারিবারিক ভালোবাসা ও উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় দেশের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে নিজেদেরকে তারা সঠিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে পারছেন না।

বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখের বেশি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ রয়েছেন বলে বিভিন্ন বেসরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ায় বর্তমানে তারা নিজেদেরকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে পরিচয় নিবন্ধন করতে পারছেন। তবে তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতের সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরো বহুমুখী প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন বলে মনে করে ইউবিএল।

এই দর্শনকে সামনে রেখেই বাংলাদেশের তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়কে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতায়িত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যেই তার সুদক্ষ কর্মীদলে তৃতীয় লিঙ্গের কর্মী অন্তর্ভুক্ত করেছে। এছাড়া তাদের দক্ষতার বিকাশে উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতেও সজাগ রয়েছে কোম্পানিটি। ইউবিএলের বৈচিত্র্যতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির আওতায় প্রতিষ্ঠানটির কেয়ারলাইন রিপ্রেজেন্টেটিভ টিমে সমানতালে অবদান রেখে যাচ্ছেন সেখানে কর্মরত তৃতীয় লিঙ্গের কর্মীরা।

তেমনই একজন জেরিন মেহজাবিন নীল, যিনি আউটবান্ড সেলস প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন ইউবিএলের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড সার্ফ এক্সেলের আওতায় পরিচালিত একটি প্রজেক্টে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী জেরিন কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে ইউনিলিভার কেয়ারলাইন ফর সেলফ সাপোর্টে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন।

ইউনিলিভারে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, প্রতিদিনই নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি বলেই শত বাধা-বিপত্তি ও নানান প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে এতোটা পথ পাড়ি দিতে পেরেছি। জীবনযুদ্ধের এ পর্যায়ে ইউনিলিভারকে সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। লৈঙ্গিক সমতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

জেরিনের মতোই আরেকজন তৃতীয় লিঙ্গের ইউনিলিভারকর্মী মাশরিক আলম। উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী মাশরিক বর্তমানে- ইউনিলিভার’স এমপ্লয়ি কোভিড হেল্পলাইনে প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্নাতক শেষ হবার আগেই কর্মক্ষেত্রে মাশরিকের চমৎকার পেশাদারিত্ব, সেখানকার অন্য সহকর্মীদের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ছোটবেলা থেকেই অনাদরে-অবহেলায় বেড়ে উঠা মাশরিক জানান, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পর থেকে নিজের খরচ নিজেই চালিয়ে আসছেন।

তিনি আরো বলেন, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পর থেকে আমাকে সংগ্রাম করে বাঁচতে হয়েছে। আর এটাই আমাকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা দেয়। ইউনিলিভারে কাজের অভিজ্ঞতা আমার জন্য বড় একটি অনুপ্রেরণা।

শুধু তৃতীয় লিঙ্গের কর্মী নয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার এবং অংশীদারিত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আসছে ইউবিএল। তাই ইউনিলিভারের বৈশ্বিক এজেন্ডাগুলোর একটি রাখা হয়েছে: ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজমেন্টে পাঁচ শতাংশ প্রতিবন্ধী কর্মী অন্তর্ভুক্ত করা। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করছে, যেমন- বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিজঅ্যাবেলিটি নেটওয়ার্ক (বিবিডিএন), অদম্য ফাউন্ডেশন, সাইটসেভার্স ইত্যাদির সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছে ইউবিএল।

গত দুই বছরে ‘ইউনিলিভার লিডারশিপ প্রোগ্রাম’ এর আওতায় ৬ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ইউনিলিভারে যোগ দিয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারিত বলয়ে কাজ করছে আরো ৪১ জন। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মেন্টরিং, কোচিং এবং অন্যান্য ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে ইউবিএল। শুধু তাই নয়, ‘এগেনিস্ট অল অডস’ নামের একটি প্রোগ্রামের আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সফল প্রতিবন্ধীদের আমন্ত্রণ জানায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ। সেখানে আমন্ত্রিতরা নিজেদের প্রতিবন্ধকতা জয়ের গল্প অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন। ইউবিএলের ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগ অন্য প্রতিবন্ধীদেরও উৎসাহিত করছে।

প্রতিষ্ঠানে সমতাভিত্তিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে নারীদের জন্য উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধার বাস্তবায়নও ইউনিলিভারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত নীতিগুলোর একটি। আর তাই আজ থেকে দশ বছর আগে নারী নেতৃত্বের জন্য পাইপলাইন তৈরির পদ্ধতিগত পরিকল্পনার মাধ্যমে ইউবিএল এর ডাইভার্সিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন (ডি অ্যান্ড আই) প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি তার ব্র্যান্ড, সাপ্লাইচেইন ও কমিউনিটির মধ্যে সমতার টেকসই কাঠামো বাস্তবায়নে সচেষ্ট রয়েছে।

এছাড়া কর্মজীবী বাবা-মায়েরা যাতে অফিস চলাকালীন তাদের সন্তানদেও যথাযথ যত্ন নিতে পারেন, সে সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউবিএল তার কর্পোরেট অফিসে ‘অপারেশনাল ক্র্যাশ ফ্যাসিলিটি’ চালু করেছে। টঙ্গীর হোম কেয়ার ফ্যাক্টরির জন্যও কোম্পানির তৃতীয় পক্ষের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে একই সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইউনিলিভার বাংলাদেশ ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের জন্য ‘স্ট্রাইড’ নামের একটি প্রকল্প শুরু করে। এর আওতায় নারীরা প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ‘ক্যারিয়ার ব্রেক’ বা চাকরিতে কর্মবিরতি নিয়ে পুনরায় কর্পোরেট সেক্টরে ফিরতে পারছেন।

বর্তমানে ইউবিএলের নেতৃত্বের ৪০%-ই রয়েছে নারীর অংশগ্রহণ। নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে: প্রথম কোম্পানি হিসেবে সেলস টিমকে নেতৃত্বদানে ‘ফিমেল রিজিওনাল ম্যানেজার’ নিয়োগ দেয়া, বাংলাদেশে নারীদের জন্য কাজের পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শীর্ষ আটটি সংস্থা থেকে ‘ইনস্পিরিট এক্সটার্নাল কাউন্সিল’ প্রোগ্রামের আওতায় পরামর্শকদের নিয়ে আসা, সম্মুখসারিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে তাদের জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রাত্রিকালীন শিফট চালু করা। প্রসঙ্গত: ইউনিলিভারের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে এটিই এ ধরনের উদ্যোগের প্রথম বাস্তবায়ন।

এছাড়া, কর্মক্ষেত্রে লৈঙ্গিক সমতা নিশ্চিত করতে ইউনিলিভারের লিঙ্গ নিরপেক্ষ নীতিগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি নীতি, পিতৃত্বকালীন ছুটি নীতি, ক্যারিয়ার ব্রেক বা কর্মজীবনে বিরতির নীতি, তীর্থযাত্রা কিংবা অবকাশকালীন ছুটি নীতি, যৌন হেনস্তা প্রতিরোধ নীতি, লাঞ্ছনা বা অবমাননার শিকার হওয়া কর্মীদের পাশে থাকার নীতি, পরিবর্তনযোগ্য ছুটির সমন্বয় নীতি, কেয়ারগিভার পলিসি বা স্বাস্থ্য পরিচর্যাসেবা নীতি ও অন্যান্য।

স্বনামধন্য ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনিলিভার তার কর্মীদের মৌলিক অধিকার এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে।

প্রতিষ্ঠানের সর্বক্ষেত্রে লৈঙ্গিক সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে ইউবিএলের। এসব উদ্যোগ সফল করার মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রতিশ্রুতিশীল সম্প্রদায়গুলোকে দেশের উন্নয়নের মূল ধারায় যুক্ত করতে সব সময় সরকারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন