‘সোনার দেশ গড়তে হলে সোনার মানুষ গড়তে হবে’
jugantor
‘সোনার দেশ গড়তে হলে সোনার মানুষ গড়তে হবে’

  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি  

২১ জানুয়ারি ২০২২, ২২:২৩:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আগে সোনার মানুষ তৈরি করতে হবে। কারণ একটি দেশের প্রধান সম্পদই হচ্ছে মানবসম্পদ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নই ছিল দেশের মানুষকে সম্পদে পরিণত করা। তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে হলে দেশের মানুষের দক্ষতা বাড়াতে হবে। এজন্য শুধু সরকারি উদ্যোগ নিলেই চলবে না, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

বুধবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (বিএসএইচআরএম) আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর মানব উন্নয়ন দর্শন ও আজকের বাংলাদেশ : প্রেক্ষিত মুজিব শতবর্ষ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ড্যাফোডিল এডুকেশন নেটওয়ার্কের ৭১ মিলনায়তনে এ গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম লুৎফর রহমান। বৈঠকে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান, গাজী টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাণিজ্য ও উদ্যেক্তা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, এবং বিএসএইচআরএম এর সাধারণ সম্পাদক এম নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএইচআরএম এর সভাপতি এম মাশেকুর রহমান খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে মানুষ। পবিত্র ধর্মগ্রন্থেও বলা হয়েছে, মানুষকে শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায় (আশ্রাফুল মখলুকাত) হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই মানুষকেই সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে বর্তমান সরকারও মানবসম্পদ তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে এ কাজ সফল করা সম্ভব না বলে মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এজন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বেকারত্ব আছে এটা সত্যি আবার দক্ষ কর্মীরও অভাব আছে। আমাদের গার্মেন্টস সেক্টরে এখনো ১৮% শ্রমিক সংকট রয়েছে। তার মানে যে ধরনের শিক্ষা আমাদের প্রয়োজন নেই, যে ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন নেই, তা অর্জন করে আমরা বসে আছি। তাহলে বেকারত্ব তো বাড়বেই। আমাদের দরকার বাজারচাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ও দক্ষতা। এসব ব্যাপারে সম্মিলিতভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে। এছাড়া দেশে নায্যতা ও উদারতা অভাব আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য নায্যতা ও উদারতার প্রয়োজন। এসব ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মো. সবুর খান বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাজীবন এ দেশের মানুষকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষই সম্পদ। আমাদেরকেও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আগেকার দিনে একটি দেশ কি পরিমান ধনী তা বোঝা যেত তার অস্ত্রসস্ত্র ও গোলাবারুদ দেখে। এখন মানব সম্পদ উন্নয়ন সূচক দেখে বোঝা যায় কোনো দেশ কি পরিমান সমৃদ্ধশীলী । সুতরাং দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই। এ সময় তিনি বলেন, মানুষকে সম্মান করতে হবে তার দক্ষতা দেখে। কে কার লোক, কী তার পদবী, কী তার রাজনৈতিক পরিচয়, এসব দেখে সম্মান করলে চলবে না। এই মানসিবকা যতদিন না তৈরি হবে ততদিন দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি হবে না।

‘সোনার দেশ গড়তে হলে সোনার মানুষ গড়তে হবে’

 সংবাদ বিজ্ঞপ্তি 
২১ জানুয়ারি ২০২২, ১০:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আগে সোনার মানুষ তৈরি করতে হবে। কারণ একটি দেশের প্রধান সম্পদই হচ্ছে মানবসম্পদ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নই ছিল দেশের মানুষকে সম্পদে পরিণত করা। তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে হলে দেশের মানুষের দক্ষতা বাড়াতে হবে। এজন্য শুধু সরকারি উদ্যোগ নিলেই চলবে না, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। 

বুধবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (বিএসএইচআরএম) আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর মানব উন্নয়ন দর্শন ও আজকের বাংলাদেশ : প্রেক্ষিত মুজিব শতবর্ষ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ড্যাফোডিল এডুকেশন নেটওয়ার্কের ৭১ মিলনায়তনে এ গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম লুৎফর রহমান। বৈঠকে  আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান, গাজী টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাণিজ্য ও উদ্যেক্তা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, এবং বিএসএইচআরএম এর সাধারণ সম্পাদক এম নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএইচআরএম এর সভাপতি এম মাশেকুর রহমান খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে মানুষ। পবিত্র ধর্মগ্রন্থেও বলা হয়েছে, মানুষকে শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায় (আশ্রাফুল মখলুকাত) হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই মানুষকেই সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে বর্তমান সরকারও মানবসম্পদ তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে এ কাজ সফল করা সম্ভব না বলে মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এজন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বেকারত্ব আছে এটা সত্যি আবার দক্ষ কর্মীরও অভাব আছে। আমাদের গার্মেন্টস সেক্টরে এখনো ১৮% শ্রমিক সংকট রয়েছে। তার মানে যে ধরনের শিক্ষা আমাদের প্রয়োজন নেই, যে ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন নেই, তা অর্জন করে আমরা বসে আছি। তাহলে বেকারত্ব তো বাড়বেই। আমাদের দরকার বাজারচাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ও দক্ষতা। এসব ব্যাপারে সম্মিলিতভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে। এছাড়া দেশে নায্যতা ও উদারতা অভাব আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য নায্যতা ও উদারতার প্রয়োজন। এসব ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মো. সবুর খান বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাজীবন এ দেশের মানুষকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষই সম্পদ। আমাদেরকেও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আগেকার দিনে একটি দেশ কি পরিমান  ধনী  তা বোঝা যেত তার অস্ত্রসস্ত্র ও গোলাবারুদ দেখে। এখন মানব সম্পদ উন্নয়ন সূচক দেখে বোঝা যায় কোনো দেশ কি পরিমান সমৃদ্ধশীলী । সুতরাং দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই। এ সময় তিনি বলেন, মানুষকে সম্মান করতে হবে তার দক্ষতা দেখে। কে কার লোক, কী তার পদবী, কী তার রাজনৈতিক পরিচয়, এসব দেখে সম্মান করলে চলবে না। এই মানসিবকা যতদিন না তৈরি হবে ততদিন দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি হবে না।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর