পুলিশের ওপর গুলির পরদিন পাহাড়ে চিরুনি অভিযান
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজারের মহেশখালীতে বুধবার গভীর রাতে মাতারবাড়ীর কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় পুলিশের টহলদলের ওপর দুর্বৃত্তরা অতর্কিত গুলি চালায়। এতে তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে র্যাব, নৌবাহিনী ও পুলিশের যৌথ বাহিনী মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিরুনি অভিযান চালায়। অভিযানে সন্ত্রাসীদের পাঁচটি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ১০টি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল কার্তুজ ও রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাতারবাড়ী ইউনিয়নের কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকার মীর আকতার কোম্পানি ব্রিজের কাছে টহলরত পুলিশকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন মহেশখালী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সেলিম উদ্দিন, কনস্টেবল মো. সোহেল ও আরও একজন পুলিশ সদস্য। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের প্রথমে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে গুলির ঘটনার পর মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাজারো শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষ এখন ভয় আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রকল্প–সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী শ্রমিকদের অনেকে পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবছেন।
পাহাড়ে চিরুনি অভিযান
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কালারমারছড়া ইউনিয়নের ফকিরজুম পাড়া, আঁধার ঘোনা ও মিজ্জির পাড়ার পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। এতে র্যাব-১৫, নৌবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
র্যাব-১৫–এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান বলেন,মহেশখালীর পাহাড়ে সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে আস্তানা গড়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল। ডাকাতি, খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসা—সবকিছুতেই তারা জড়িত। বুধবার পুলিশের ওপর হামলার পরপরই আমরা বৃহৎ অভিযান শুরু করি।
তিনি আরও জানান, অভিযানে সন্ত্রাসীদের পাঁচটি টংঘর আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিপুল অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কেউ আটক হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বহু বছর ধরেই ছোট-বড় সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয়। ইয়াবা পাচার, ডাকাতি, খুন, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরেও তারা নানা চাঁদাবাজিতে জড়িত।মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হওয়ার পর এসব গ্রুপ আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। পাহাড়কে আড়াল করে তারা টংঘর বানিয়ে নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করে এবং সেখান থেকেই অস্ত্র ও মাদক বাণিজ্য চালানো হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ওসি মঞ্জুরুল হক বলেন, মহেশখালীর পাহাড়ে অপরাধীদের আর সুযোগ দেওয়া হবে না। যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
র্যাব কর্মকর্তা লে. কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, অস্ত্র উদ্ধারই শেষ লক্ষ্য নয়। সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
