পরিবারে শোকের মাতম

কথা ছিল ছুটিতে আসার, আসবে তার নিথর দেহ

  হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

কথা ছিল ছুটিতে আসার, আসবে তার নিথর দেহ
স্ত্রীর সঙ্গে জাকির প্রধানিয়া। ছবি: সংগৃহীত

আগামী নভেম্বর মাসে বাহরাইন থেকে ছুটিতে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, চিরদিনের ছুটি মিলল তার। দেশে তার আসা হবে ঠিকই, কিন্তু কফিনে করে প্রাণহীন দেহ।

বলছিলাম হতভাগা জাকির প্রধানিয়ার কথা। গত ৯ অক্টোবর বাহরাইনের মানামা সিটিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভবনধসে নিহত হন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের এই যুবক। তার নিহতের খবর দেশে আসামাত্রই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

বৃহস্পতিবার বিকালে হাজীগঞ্জের কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের জাকিরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবার-স্বজনদের আর্তনাদ। নিহত জাকির হাজীগঞ্জের কালোচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের বকাউল বাড়ির আব্দুল রশিদ বকাউলের ছেলে।

এদিকে জাকিরের লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার।

সূত্র জানায়, গত ৯ অক্টোবর বাহরাইনের মানামা সিটির কুমিল্লা হোটেলের বিপরীতে একটি ভবনে বাস করতেন কয়েকশ বাংলাদেশি। এই ভবনের দ্বিতীয়তলায় থাকতেন হাজীগঞ্জের জাকিরসহ অন্য সব নিহত বাংলাদেশি।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, জাকির ও তার অপর ভাই জুলহাস থাকতেন একই রুমে। ওই দিন সন্ধ্যা রাতে জাকিরকে রুমে রেখে বড় ভাই জুলহাস যান বাজার করতে। এর কিছু পরেই ঘটে ওই দুর্ঘটনা।

জাকির প্রায় ৩ বছর পূর্বে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন খাটরা বিলওয়াই গ্রামের আবদুল মালেকের মেয়ে লিপিকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে কোনো সন্তান হয়নি। নভেম্বর মাসের ৫ তারিখে জাকির দেশে আসার কথা ছিল।

হাজীগঞ্জের জাকিরের বাড়িতে দেখা যায়, পরিবারের ছোট ছেলেকে হারিয়ে শোকের মাতম চলছে পুরো পরিবারে। জাকিরের স্ত্রী লিপিকে এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি জাকির মারা গেছেন। পরিবার স্ত্রীকে জানিয়েছে জাকির সামান্য আহত হয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

জাকিরের বয়োবৃদ্ধ বাবা আব্দুল বাসার বলেন, ৬ ছেলে ১ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট জাকির। প্রায় ১০ বছর হতে চলল ছেলে বিদেশ করছে। প্রায় ৮ বছর পূর্বে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ধেররা গ্রামের আ. মালেকের মেয়ে লিপির সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে বছর তিনেক আগে জাকির দেশে এসেছে। আসছে নভেম্বরে সে দেশে আশার কথা ছিল।

তিনি বলেন, ছেলের মৃত্যুর খবর বউমাকে জানানো হয়নি। আমার আরেক ছেলে জুলহাস জাকিরের সঙ্গে একই রুমে ছিল। জুলহাস বাজার করতে যাওয়ার পরেই এই ঘটনা ঘটে। জুলহাস ইতিমধ্যে জাকিরের কাজগপত্র দূতাবাসে জমা দিয়েছে। কিন্তু লাশ আমরা কবে পাব বা আদৌ পাব কিনা তার কিছুই আমরা বলতে পারছি না।

কালোচোঁ দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষে লাশ দেশে আনার কোনো সুযোগই নেই। সরকার লাশ আনার ব্যবস্থা করলে পরিবারটি অন্তত সন্তানের লাশ দেখতে পারত।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×