কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত

  কক্সবাজার প্রতিনিধি ১২ অক্টোবর ২০১৮, ২১:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত
ছবি: যুগান্তর

চার দিনের টানা বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা, টেকনাফ উপজেলার সেন্ট মার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপ, কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরুং, উত্তর ধুরুং তবেলারচর, চকরিয়া উপজেলার মাতামহুরিসহ কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া, চরপাড়া এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।

এছাড়া জোয়ারের পানিতে পুরোদমে তলিয়ে গেছে ওই এলাকার ৮০-৯০টির মতো বসতবাড়ি। পাশাপাশি ব্যাপকহারে ক্ষতি হয়েছে আমন ফসল ও আগাম শীতকালীন সবজির বীজতলাসহ প্রায় শতাধিক হেক্টর জমির ফসল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ঘূর্ণিঝড় তিতলি ভারতের উড়িষ্যা ও রুদ্র এলাকা অতিক্রমের সময় কক্সবাজারের উপকূল আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও দিনের জোয়ারে পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট বেড়ে যাওয়ায় জেলার উপকূলীয় এলাকা ব্যাপক প্লাবনের শিকার হয়।

এদিকে টেকনাফ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান ও সহকারী কমিশনার ভূমি প্রণয় চাকমা।

পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, শাহপরীর দ্বীপের ভাঙন এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে প্লাবনের শিকার হয়ে যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের ব্যবসায়ী নুরুল আলম জানান, বৃষ্টির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিনের জোয়ারে ৩-৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সেন্ট মার্টিন ও সাবরাংয়ের শাহপরীরদ্বীপে প্রায় ১০-১২টি গ্রাম প্লাবনের শিকার হয়েছে। অনেকেই বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলেন, বর্তমানে সাবরাংয়ে শতাধিক বসতবাড়ি পানির নিচে রয়েছে। আবার অনেক এলাকা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। মূলত ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও জোয়ারের পানিতে সাগরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় সাবরাংয়ের জনসাধারণকে। কারণ শক্ত বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে প্রায় সময় কয়েকটি এলাকা সাগরের নিচে ডুবে থাকে।

কুতুবদিয়া উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, উপজেলার তাবলেরচর, উত্তর ধুরুং, দক্ষিণ ধুরুং, আলী আকবর ডেইলসহ আরও একাধিক ইউনিয়নের মানুষ ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে জোরের পানিতে প্লাবনের শিকার হয়েছে। বর্তমানে অসংখ্য পরিবারের বসতবাড়ি পানির নিচে রয়েছে।

কুতুবদিয়ার উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রমতে, ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে প্লাবনের শিকার হয়ে আমন ফসল ও আগাম শীতকালীন সবজির বীজতলাসহ শতাধিক হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আশিক জামিল মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের দিনের জোয়ারে উপকূলের নিম্নাঞ্চল সাগরের নোনাজলে প্লাবিত হয়। উপজেলার ছয় ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে জোয়ারের পানিতে ৬০ হেক্টর জমির আমন ফসল নোনা জলে প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ২৫০ হেক্টর জমির শীতকালীন শাকসবজি ৩০ হেক্টর জমির বীজতলা। এতে প্রান্তিক কৃষকদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোয়ারা বেগম বলেন, কুতুবদিয়া উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধের ২১ কিলোমিটার ভাঙা রয়েছে। ফলে তিতলির প্রভাবে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শীতকালীন সবজির বীজতলার চরম ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, শাহপরীর দ্বীপ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১০৬ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। এর মধ্যে জোয়ারের প্রভাবে এলাকার কিছু বসতঘর সাগরে বিলীন হয়েছে বলে শুনেছি। বর্ষার পরে বেড়িবাঁধ সংস্কারকাজ পুরোদমে শুরু হবে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ড. মো. শহিদুল ইসলাম জানান, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বাতাসের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় উপকূলের লোকজনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এদিকে ইলিশ প্রজননের কারণে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলায় সাগরে মাছ ধরার ট্রলার নেই বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ড. মো. রইস উদ্দিন মুকুল বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ অতিক্রমকালে উপকূলের কোথাও ক্ষতি হয়নি। তবে পূর্ণিমার তিথি ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়ায় কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা পাঠাতে সংশ্লিষ্ঠদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তালিকা প্রণয়ন শেষে হলে সহযোগিতা করা হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×