প্রাণের দুধে জীবন্ত ট্যাংরা মাছ!

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

প্রাণের দুধে জীবন্ত ট্যাংরা মাছ!
প্রাণের দুধে জীবন্ত ট্যাংরা মাছ!

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুরে প্রাণের ভেজাল দুধের মধ্যে জীবন্ত ট্যাংরা মাছ পাওয়া গেছে। কৃষক পর্যায়ে সস্তায় দুধ কিনে তা উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে গিয়ে ভেজাল আর অন্যায়ের আশ্রয় নিচ্ছে প্রাণ ডেইরি।

সিরাজগঞ্জে কোম্পানিটির জন্য সংগ্রহ করা তরল দুধে নোংরা পানি মেশানোর প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন। দুধ পরীক্ষার সময় তাতে জীবন্ত মাছও মিলেছে।

এসব অপরাধ চক্রের হোতা আটকের পর ভোগ্য পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান জানান, দুধে ভেজাল দেয়ার খবরে উপজেলার দহকুলা নদী ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান।

এ সময় সেখানে নৌকার ৮মন দুধের মধ্যে প্রতি ৪০ কেজি দুধের পাত্রে প্রায় ৮ কেজি করে নদীর পানি মেশাচ্ছিল রায়গঞ্জের ঘুরকা বেলতলার দুধ ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালেব।

এ সময় তাকে হাতে নাতে আটক করে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। প্রকাশ্য ভেজাল দুধ ধ্বংস করার সময় তার ভেতর থেকে একটি জীবন্ত টেংরা মাছ বেরিয়ে আসে।

সিরাজগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে দুধ ব্যবসায়ীদের ভেজালের কারবার ওপেন সিক্রেট। ৪০ লিটার দুধে ৮ লিটার মিশ্রণ দেয়া হচ্ছে। সেই মিশ্রণ তৈরি হচ্ছে নদীর পানির সঙ্গে খাবার সোডা সহকারে।

প্রশাসনের আকস্মিক অভিযানে শনিবার এই চক্রের অন্যতম হোতা মোতালেব আটক হয় হাতেনাতে। তার জবানবন্দিতে উঠে আসে ভেজাল দুধের গন্তব্য।

আব্দুল মোতালেব জানান, প্রাণ কোম্পানিতে দুধ দিয়ে আসি। তারা লিটার ধরে কিনে নেয়। তারা এই দুধ দিয়ে পাউডার করে, ছানা কাটে। লিটারে দাম দেয় ৩৫ টাকা।

উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এসএম শহিদুল ইসলাম রন্টু, উল্লাপাড়া থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকীসহ পুলিশ সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন।

উল্লাপাড়া থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আটক মোতালেব স্বীকার করেছে যে, তারা দুধে নদীর পানি মিশিয়েছে। এই দুধ প্রাণ কোম্পানিসহ বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে।

প্রশাসনের নজরদারি আর কঠোর অভিযানেও এদের নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত কৌশল আর অবস্থান পাল্টে অভিনব সব প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে সিন্ডিকেট।

কোম্পানির অতি মুনাফার যোগানদার এই সিন্ডিকেট সদস্যরা এতটাই বেপরোয়া যে, খাল বিলের উন্মুক্ত জল মিশিয়ে দিচ্ছে অবলীলায়। তাই প্রাণের জন্য রাখা ভেজাল দুধের ভেতরেই মিলছে ময়লা, আবর্জনা এমনকি জীবন্ত মাছও।

নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মকর্তা এস এম শহিদুল ইসলাম রিন্টু জানান, যখন দুধ ঢেলে ফেলে দিচ্ছিলাম তখন একটা ক্যান থেকে তাজা একটা ট্যাংরা মাছ পাই।

এছাড়া নদীর পানিতে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া থাকে এবং দুধে ব্যাকেটেরিয়া দ্রুত বাড়ে তাই এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে গেলে শীতলীকরণ কেন্দ্রে দায়িত্বরত কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষ যাতে বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে সেজন্য আমরা জানাবো।

এদিকে, প্রাণের বিরুদ্ধে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে ভেজালের অভিযোগ পুরনো। সবশেষ গত এপ্রিলে শীতলীকরণ কেন্দ্রে ল্যাব সুবিধা না থাকায় এবং ভেজাল দুধ কেনার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রাণ ডেইরিকে জরিমানা করে।

আরও পড়ুন-

সিরাজগঞ্জের ‘খাঁটি’ দুধের গোমর ফাঁক!

ঘটনাপ্রবাহ : প্রাণ আরএফএলের অনিয়ম-দুর্নীতি

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×