পাহাড়ি ঢলের পানিতে লাকড়ি তুলতে গিয়ে প্রাণ গেল দুজনের
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৩২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে আকস্মিক বন্যার উজানে উন্নতি হলেও ভাটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে পানিতে জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় চেল্লাখালী নদীতে লাকড়ি তুলতে গিয়ে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীতে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ভেসে আসা লাকড়ি তুলতে গিয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে ইসমাইল হোসেন নামে ১৭ বছরের এক তরুণ ঢলের তোড়ে ভেসে নিখোঁজ হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে ঝিনাইগাতীর তামাগাঁও এলাকার মহারশি নদী থেকে স্থানীয়রা নিখোঁজের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর তার লাশ উদ্ধার করেছে। সে স্থানীয় তামাগাঁও এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-আমিন ইসমাইল হোসেনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালি নদীতে বুরুঙ্গা এলাকায় পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ১০ বছরের স্কুল ছাত্র হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর হুমায়ুনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
হুমায়ুন স্থানীয় বুরুঙ্গা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। সে বুরুঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা ইসমাইল হোসেনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে সদর বাজারসহ নিম্নাঞ্চল বৃহস্পতিবার আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ও উপজেলা সদর বাজারে পানি ঢুকে পড়ে। এদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বেড়ে গোল্লারপাড় এলাকা প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার রাতে বৃষ্টি না হওয়ায় এবং নদীর পানি কমতে শুরু করায় আকস্মিক বন্যার উন্নতি হয়েছে। তবে উজানের পানি নেমে যাওয়ার পর ভাটি এলাকার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, ঝিনাইগাতীর মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে ৫৭৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান আংশিক এবং ৩৪৫ হেক্টর জমির সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে। আগামী ৬ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টি না হলে পানি সরে যাবে। তাতে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে। তবে পলি পড়ার কারণে যেসব কৃষকের রোপা আমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের প্রণোদনার আওতায় এনে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল জানান, পানি নেমে যাওয়ায় আকস্মিক বন্যার উন্নতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঘরবাড়ি হারা ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবারের ২৫ সদস্যকে থাকার নিরাপদ ব্যবস্থা করাসহ তাদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য ঢেউ টিনসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
