Logo
Logo
×

সারাদেশ

পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে ব্রিজ, ভোগান্তিতে দশ গ্রামের মানুষ

Icon

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:৫২ পিএম

পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে ব্রিজ, ভোগান্তিতে দশ গ্রামের মানুষ

ছবি: যুগান্তর

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের চেল্লাখালি নদীর উপর আমবাগান–বাতকুচি ঘাটের ষ্টীল ব্রিজটি গত বছরের পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে। জনদুর্ভোগের এক বছর পার হলেও ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে রশিটানা নৌকাই এখন হাজারো মানুষের নদী পারাপারের ভরসা হয়ে উঠেছে। দ্রত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।

সারেজমিনে দেখা যায়, চেল্লাখাল নদীর মধ্যে রয়েছে একটি কাঠের নৌকা। নৌকাটির দুই মাথা রয়েছে রশি দিয়ে বাঁধা। রয়েছে পারাপারের টাকা তোলার জন্য একজন কিশোর মাঝি। সাধারণ মানুষ নৌকায় উঠে কখনও নিজেরাই রশি টেনে পার হয়, আবার কখনও ওই কিশোর মাঝি রশি টেনে পার করে দেয়। জনপ্রতি ভাড়া নেয় পাঁচ টাকা। মাঝে মধ্যে রশি টানার মতো মানুষ না থাকলে শিশু শিক্ষার্থীসহ নারীরা এসে বসে থাকে। যখন রশি টানার মতো মানুষ আসে তখন তাদের সাথে তারা নদী পার হয়। নেই কোনো ঘাট। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের নৌকায় উঠানামা করতে হয়। 

উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে চেল্লাখালি নদী। এই নদীর দুই পাড়ের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে হাটবাজার। যার একটি আমবাগান, অপরটি বারোমারী বাজার। আশেপাশের বাতকুচি, টিলাপাড়া, লক্ষিকুড়া, মেছকুড়া, তোয়ালকুচি, ছাইছাকুড়া, ধোপকুড়া সহ অন্তত দশ গ্রামের মানুষ এই দুটো বাজারে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে। অত্র এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এই বাজারসহ আশেপাশের বাজারে বাজারজাত করে। 

ব্রিজ থাকার সময় নদীর অপর তীরের কৃষকরা সহজে যাতায়াত করতে পারতো। গত বছরের পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে ব্রিজটি ভেসে যায়। এখন ব্রিজ না থাকায় ১০–১২ কিলোমিটার ঘুরে তাদের কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে হয়। ফলে বেড়ে যায় কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য। যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগিদের।                                      

স্থানীয়রা জানায়, নদীর দুই তীরের মানুষের কষ্ট লাঘবে উপজেলা পরিষদ ২০১৬–২০১৭ অর্থবছরে এডিবি’র অর্থায়নে কংক্রিটের পিলারের উপর দুইশো মিটার দীর্ঘ ষ্টীল ব্রিজটি নির্মাণ করেছিল। ২০২৪ সালের পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ব্রিজটি ভেসে যায়। তারপর আর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।        

স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাতেম আলী বলেন, বাতকুচি ঘাটে ষ্টীল ব্রিজটি আমাদের অনেক সময় বাঁচিয়ে দিত। ব্রিজটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রশি টানা নৌকায় চলতে হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আসমত আলী বলেন, ব্রিজটি ভেসে যাওয়ার এক বছর পেরিয়েও, এখনো কেউ খোঁজ নিতে আসে নি। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে, কৃষকদের কৃষিপণ্য নিতে, দৈনন্দিন বাজার হাট করতে, অসুস্থ রোগিকে চিকিৎসার জন্য নিতে আমাদের কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়।

পোড়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাও. জামাল উদ্দিন জানান, এই ইউনিয়নের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের বন্ধন ছিল এই ষ্টীল ব্রিজটি। ব্রিজটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এলকাবাসীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। আমি এই ব্রিজটি নির্মাণের জন্য বন্যায় ক্ষতির তালিকায় ব্রিজের নাম উপজেলা পরিষদে জমা দিয়েছি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার গোলাম কিবরিয়া পিয়াল জানান, যাতায়াতের জন্য সেতুটি খুব প্রয়োজন। আমরা সেতুটি নির্মাণের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছি। বরাদ্দ পেলেই সেতুটি নির্মাণ করা হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম