Logo
Logo
×

সারাদেশ

পাখির আবাস সুরক্ষার বার্তা নিয়ে শেরপুরে ব্যতিক্রমী দুর্গামণ্ডপ

Icon

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:২২ পিএম

পাখির আবাস সুরক্ষার বার্তা নিয়ে শেরপুরে ব্যতিক্রমী দুর্গামণ্ডপ

প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পাখি সুরক্ষা ও পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে ব্যতিক্রমী দুর্গামণ্ডপ সাজিয়ে এবার শারদীয় দুর্গাপূজা করা হচ্ছে।

আর এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে শেরপুর শহরের কালির বাজার মহল্লার ৫২ বছরের ঐতিহ্যবাহী মার্চেন্ট ক্লাব। পরিত্যক্ত বাক্স আর কার্টনের কাগজ, নারকেলের ছোবড়া, পাট, কাঠের গুঁড়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে প্রতিমা তৈরি করেছে ক্লাবটি।

শেরপুর শহরের কালিরবাজার মা ভবতারা কালিমন্দির চত্বরে স্থাপিত এ পূজামণ্ডপটি পূজা শুরুর আগে থেকেই ভক্তদের ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পুণ্যার্থী ও সাধারণ মানুষ পূজামণ্ডপটি এক নজর দেখার জন্য ভবতারা কালিমন্দিরে চত্বরে ভিড় করছেন।

সবাই সময়োপযোগী থিম ও পরিবেশবান্ধব উপাদানে তৈরি দুর্গামণ্ডপের জন্য মার্চেন্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এ পূজামণ্ডপে উপচেপড়া ভিড় হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

প্রতি বছরই ভিন্ন থিম ও বৈচিত্র্যের ওপর ভিত্তি করে শহরের নয়ানী বাজার-কালিরবাজার-তিনানী বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে গড়া মার্চেন্ট ক্লাব শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করে আসছে। মার্চেন্ট ক্লাবের সার্বজনীন দুর্গাপূজাটি এবার ৫২ বছর অতিক্রম করছে।

ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারের পূজামণ্ডপটি পাখি সুরক্ষা এবং পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়কে তুলে ধরা হয়েছে। মণ্ডপে প্রবেশের পথে পাখির পালকের মোটিফ তৈরি করা হয়েছে। নারকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি বাবুই পাখির বাসার আদলের ভেতরে দক্ষিণ ভারতের স্টাইলে নির্মিত দেবী দুর্গাসহ মণ্ডপের প্রতিমাগুলোকে বসানো হয়েছে।

মণ্ডপের তিন পাশেই পরিত্যক্ত বাক্স, কাঠের গুঁড়া আর কার্টনের কাগজে তৈরি করা হয়েছে অনেকগুলো পাখির বাসা। সেখানে কাগজে তৈরি করা হয়েছে বাসায় আশ্রয় নেওয়া এবং উড়ে বেড়ানো শত শত পাখির মোটিফ। পূজামণ্ডপকে ঘিরে বর্ণিল আলোকসজ্জা করায় রাতে বেলায় সব শ্রেণির ভক্ত-পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের বিনোদনে পরিণত হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, স্থানীয় গৌড় মালাকার ও নিতাই মালাকার নামে প্রতিমা কারিগর তরুণ দুই ভাই মার্চেন্ট ক্লাবের এ ব্যতিক্রমী দুর্গামণ্ডপটি তৈরি করেছেন। মণ্ডপের সব প্রতিমা এবং সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে পরিত্যক্ত বাক্স, কার্টন বাক্সের কাগজ, নারকেলের ছোবড়া, পাট, কাঠের গুঁড়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব উপাদান। মণ্ডপের সাজসজ্জায় পাখির পালকে দেবীপক্ষের আগমনের বিষয়টির প্রতীকী অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে।

মার্চেন্ট ক্লাবের সভাপতি বিপ্লব সরকার বলেন, আমাদের ক্লাব ৫২ বছরে পদার্পণ করেছে। মার্চেন্ট বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন থিম নিয়ে পূজা করে থাকে। এবার আমাদের থিম পাখির বাসা। পাখি আজ বিলুপ্তির পথে। নগর সভ্যতার কারণে পাখির আবাসস্থল আমরা নিজেরাই নষ্ট করে ফেলেছি। পাখির আবাসস্থল রক্ষার জন্য আমার-আপনার সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের এই পাখিকে, পাখির আবাসস্থলকে, প্রকৃতিকে রক্ষা করার থিম নিয়ে আমরা এবার আমাদের পূজামণ্ডপকে সাজিয়েছি। যেন ধর্মীয় পুণ্যকর্মের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পাখি, প্রকৃতি, পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন হয়। নতুনত্ব এই থিম নিয়ে এবার আমরা পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করব বলে আশা করছি।

মার্চেন্ট ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন কারুয়া ও অসিত সাহা বলেন, এবারও মার্চেন্ট ক্লাব ব্যতিক্রম ধর্মী আয়োজন করেছে। এবার পাখি ও পাখির আবাসস্থল সুরক্ষা এবং প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দিয়ে পূজামণ্ডপ তৈরি করায় ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। বর্তমানে যত্রতত্র গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। পাখির অভয়ারণ্য না থাকার কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা পূজা মণ্ডপের মাধ্যমে বুঝাতে চাইছি প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার জন্য পাখিদের প্রয়োজন আছে। আমাদের পূজামণ্ডপে ব্যবহার করা হয়েছে পরিত্যক্ত বাক্স আর কার্টনের কাগজ, তুলা, নারকেলের ছোবড়া, পাট, কাঠের গুঁড়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব উপকরণ।

ক্লাবের প্রচার সম্পাদক শান্তনু পাল বলেন, আমাদের মার্চেন্ট ক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা বরাবরই নতুনত্ব কিছু করার চেষ্টা করি। এবার আমরা মূর্তির পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে উপকরণ ব্যবহার করেছি। যা ইতোমধ্যে সব ধরনের দর্শনার্থীদের মন কেড়ে নিয়েছে। সবাই অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের কাজকে সবাই উপভোগ করছে।

 

দর্শনার্থী শিশির ও প্রত্যয় বলেন, মার্চেন্ট ক্লাবের প্রতিমা দেখতে এসেছিলাম। পূজামণ্ডপের নতুনত্ব দেখে আমরা খুব মুগ্ধ হয়েছি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম