Logo
Logo
×

সারাদেশ

মসজিদের ভেতরে দুই সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১০

Icon

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৫৮ পিএম

মসজিদের ভেতরে দুই সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১০

ঢাকার ধামরাইয়ে কমিটি গঠন নিয়ে ২ সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মসজিদের ভেতরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন মুসল্লি।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের মাদারপুর মসজিদে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন তার কার্যালয়ে বসে কয়েক দিন আগে জনতা ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অফিসার শামসুল ইসলামকে সভাপতি ও মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর (ম্যাপ) সদস্য বর্তমানে বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে সাধারণ সম্পাদক করে মাদারপুর মসজিদ কমিটির খসড়া করেন। শুক্রবার মসজিদে উপস্থিত থেকে এ কমিটি ঘোষণা করার জন্য দায়িত্ব দেন বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে। 

তিনি শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ওই মাদারপুর জামে মসজিদে আসেন কমিটি ঘোষণা করার জন্য। জুমার নামাজ আদায় শেষে বিকাল ৩টার দিকে একটি ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার শামসুল ইসলামকে সভাপতি এবং মো. আব্দুর রাজ্জাককে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

এরপর রাজ্জাক বলয়ের সুজন মাহমুদ রামদা নিয়ে এ কমিটি মানি না বলে মসজিদের ভেতরে স্লোগান দিতে থাকেন। বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলয়ের লোকজনও এই স্লোগান ধরে পরিস্থিতি উত্ত্যক্ত করে ফেলে।

এরপর এ ব্যাপারে শামসুল ইসলাম বলয়ের লোকজন প্রতিবাদমুখর হলে উভয় দলের মধ্যে মসজিদের ভেতরেই সংঘর্ষ হয়। এতে আব্দুর রশিদ, মোশারফ হোসেন, মীর হোসেন, আলী হোসেনসহ কমপক্ষে ১০ জন মুসল্লি আহত হন। পরে ওই বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে বর্তমানে দুই গ্রুপের লোকজন দুদিকে গিয়ে অবস্থান নেন। 

এ ব্যাপারে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আসলে আমি কখনো নিজে থেকে সভাপতি হতে চাইনি। আমাদের নেতা তমিজ উদ্দিন যেভাবে কমিটি গঠন করে দিয়েছেন আমি এটাই মেনে নিয়েছি। গ্রামের অধিকাংশ লোকজন আমাকে সভাপতি হিসেবে চান। তারাই প্রতিবাদ জানাতে গেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

এ ব্যাপারে মো. শামসুল ইসলাম বলেন, সারা জীবন ব্যাংকে চাকরি করেছি, মানুষকে সেবা দিয়েছি। এখন অবসরে এসেছি তাই মসজিদের ও গ্রামবাসীর খেদমত করতে চাই। গ্রামের লোকজন আমাকে সভাপতি দাবি করেছেন- তাই আমি তাদের কথায় একমত পোষণ করেছি। এছাড়া আমাদের নেতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মাস্টারকে আমাদের মাদারপুর মসজিদে পাঠিয়েছেন। আর তিনি এ কমিটি ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই আব্দুর রাজ্জাকের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে বহু লোকজন আহত হন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। মসজিদের ভেতরেই সংঘর্ষ ও ঝগড়া বিবাদ খুবই দৃষ্টিকটু।

এ ব্যাপারে বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মাস্টার বলেন, আমাদের নেতা তমিজ উদ্দিন কমিটি গঠন করে ঘোষণা দেওয়ার জন্য আমাকে মাদারপুর মসজিদে পাঠিয়েছেন। কমিটি ঘোষণা করামাত্রই আমার উপস্থিতিতেই এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা মোটেও উচিত হয়নি। এ আমাদের কাম্য নয়। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম