ঝিনাইদহে পুজোয় মদ খেয়ে ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

কালীগঞ্জে অতিরিক্ত মদ খেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থদের মধ্যে একজন। ছবি: যুগান্তর

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অতিরিক্ত মদপানে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।  এছাড়া আরও দুজন অসুস্থ হয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে মদ খেয়ে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন, কালীগঞ্জ শহরের বলিদাপাড়া গ্রামের নির্মল কুমারের ছেলে বিকাশ কুমার ওরফে বাপ্পি (৩৫), কলেজপাড়ার অখিল দাসের ছেলে মুন্না দাস (৩২) এবং শহরের কালীবাড়ির পাশে বিমল মিত্রের ছেলে শুভঙ্কর মিত্র ওরফে টিটো কর্মকার (৪৫)।  এ ঘটনায় পুলিশ বলছে তারা এখনো বিষয়টি জানে না। 

এছাড়া মদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে শহরের নিমাই দাসের ছেলে তপন দাস (৩৮), শহরের কলেজপাড়ার বানচারামের ছেলে পিন্টু (৩০) ও নির্মল দাস (৫৫)। এর মধ্যে শনিবার সকালে বৃদ্ধ নির্মল দাস হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

তবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে মদ খাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তারা মারা গেছে বলে তাদের দাবি। এছাড়া তারা বিষয়টি নিয়ে সংবাদ না করার জন্যও দাবি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দে তারা মদ খেয়েছিলেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে বিকাশ দাস মদ খেয়ে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি হন।  রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিকাশ।  এছাড়া শুক্রবার রাতে মদ খেয়ে অসুস্থ হয় বিকাশ কুমার ও শুভঙ্কর মিত্রসহ আরও কয়েকজন।  তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর শুভঙ্কর মিত্র ও বিকাশ কুমার মারা যান। 


নিহত মুন্না দাসের ভাই অন্তর দাস জানান, দুর্গাপূজার উৎসবে অতিরিক্ত মদ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে মুন্না। তাকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুন্না।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা সাফায়াতে হুসাইন জানান, হাসপাতালে সবাই মদ খেয়ে অসুস্থ অবস্থায় এসেছিল। এদের মধ্যে গত দুদিনে তিনজন মারা গেছে। 

কালীগঞ্জ থানার ওসি ইউনুস আলী জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না। তিনি বলেন, মদ খেয়ে মারা গেছে এমন কোনো সংবাদও আমাদের কেউ দেয়নি।  তবে প্রত্যেক পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে মিটিং করে মদ পান না করার জন্য বলা হয়েছিল যোগ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।