গ্যাস সংযোগের ৩৮ দিন পর ঘোড়াশালে ইউরিয়া উৎপাদন

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৮, ২২:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি

দীর্ঘ ১৮ মাস গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার পর ১৩ সেপ্টেম্বর পুনরায় গ্যাস সংযোগ দিলেও উৎপাদন শুরু করতে পারেনি ঘোড়াশাল ইউরিয়া সারকারখানা কর্তৃপক্ষ।

গ্যাস সংযোগের ৩৮ দিন পর রোববার রাত ৮টায় সার উৎপাদন শুরু করেছে বলে ঘোড়াশাল সারকারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাজ্জাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রীষ্মকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রণাধীন দেশের বৃহত্তম ১ হাজার ৪২২ টন ঘোড়াশাল ও  ৩০০ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পলাশ ইউরিয়া সারকারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়।
 
সারকারখানা দুটিতে সরকারি সিদ্ধান্তে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় পেট্রোবাংলা। এরপর থেকে ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া সারকারখানার সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সরকারি সিদ্ধান্তে পেট্রোবাংলা এ দুটি সারকারখানায় গ্যাস সংযোগ চালু করে।

গ্যাস সংযোগ চালুর ৩ দিন পর থেকে পলাশ সারকারখানায় সার উৎপাদন শুরু করলেও ঘোড়াশাল সারকারখানায় যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে উৎপাদন চালু করতে পারেনি সারকারখানা কর্তৃপক্ষ।

ঘোড়াশাল সারকারখানার উৎপাদন বিভাগ জানায়, প্রতি টন সার উৎপাদনে খরচ হয় ১৪ হাজার টাকা। আর একই সার বিদেশ থেকে আমদানি করলে প্রতি মেট্রিক টনে খরচ হয় ৪০ হাজার টাকা। এ বছর ঘোড়াশাল ইউরিয়া সারকারখানার বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার টন। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

তিতাসের ঘোড়াশাল সঞ্চালন ও বিতরণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াশাল সার কারখানায় দৈনিক ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট ও পলাশ সার কারখানায় ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়।

ঘোড়াশাল ইউরিয়া সারকারখানার সিবিএ সভাপতি আমিনুল হক ভূইয়া জানান, দীর্ঘদিন কারখানাটি বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছিল সরকার অন্যদিকে দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল অনেক যন্ত্রপাতি। আমাদের কারখানার প্রকৌশলীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে রোববার রাত ৮টায় উৎপাদন শুরু করতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে কারখানার শ্রমিক কর্মচারীরা গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পরও কারখানার উৎপাদন চালু করতে না পারায় হতাশার মধ্যে পড়েছিল। রোববার রাতে উৎপাদন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারখানার শ্রমিক কর্মচারীরা আনন্দ-উল্লাস করতে থাকে।