মারমাদের ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব, রং লেগেছে পাহাড়ে

  বান্দরবান প্রতিনিধি ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ২১:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

পুরাতন রাজবাড়ী মাঠ আকাশে ফানুস বাতি উড়ানো
পুরাতন রাজবাড়ী মাঠ আকাশে ফানুস বাতি উড়ানো। ছবি: বান্দরবান প্রতিনিধি

মারমা সম্প্রদায়ের ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবে রং লেগেছে পাহাড়ে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে বান্দরবানে মঙ্গলবার থেকে তিন দিনব্যাপী ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব শুরু হয়েছে।

পুরাতন রাজবাড়ী মাঠ আকাশে ফানুস বাতি উড়ানো এবং ময়ুর আকৃতির মঙ্গল রথযাত্রায় প্রদ্বীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

উদ্বোধনের পর আকর্ষণীয় রথটি রশি দিয়ে টেনে মারমা তরুণ-তরুণীরা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ ক্যায়াংএ নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানস্থল ছাড়াও আশপাশের ক্যায়াং এবং মারমা পল্লীগুলো থেকে গৌতম বুদ্ধের স্মরণে রংবেরঙের শতশত ফানুস বাতি আকাশে উড়ানো হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদারসহ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের পরিচালক মংনুচিং, উৎসব আয়োজক কমিটির সভাপতি তিংতিং ম্যা, সাধারণ সম্পাদক মংমং সিং উপস্থিত ছিলেন।

উৎসব উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মংমং সিং বলেন, ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব হচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবে এবারো ৩ দিনব্যাপী নানান অনুষ্ঠানমালার আয়োজন হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে মঙ্গল রথযাত্রা, হাজার প্রদ্বীপ প্রজ্বলন, পিঠা তৈরি প্রতিযোগিতা, ফানুস বাতি উড়ানো, পঞ্চশীল গ্রহণ, ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা জানায়, তিন মাস বর্ষাবাস (উপোস) থাকার পর পাহাড়ি মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) উৎসব পালন করে আসছে প্রতি বছর।

প্রচলিত আছে, বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিল। তাই আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় শত শত ফানুস বাতি। পাহাড়ি মারমা সম্প্রদায়েরা নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী ফানুস বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করেন।

মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস: আকাশে উঠার আগেই যে ব্যক্তির ফানুস মাটিতে পড়ে যায় তাকে পাহাড়িরা পাপী লোক হিসেবে চিহ্নিত করে। ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবে ফানুস উড়িয়ে পাহাড়িরা নিজেদের পাপমোচন ও পাপী মানুষ খুঁজে বের করে।

এ কারণে ফানুস আকাশে উড়ানোর সময় পাহাড়িরা মারমা ভাষায় “সাও দো” “সাও দো” বলতে থাকে। অর্থাৎ শুভমুক্তি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter