‘রাজাকার স্তম্ভ’ বানিয়ে শিক্ষার্থীদের ঘৃণা প্রদর্শন
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাগুরায় বিজয়ের মাসে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বুধবার সকালে কলেজের প্রধান ফটকে অস্থায়ীভাবে একটি ‘রাজাকার স্তম্ভ’ স্থাপন করে দিনভর ঘৃণা প্রদর্শন করেন।
সকাল থেকে তারা ওই স্তম্ভে স্যান্ডেল নিক্ষেপ, থুতু, কফ ও ইট-পাটকেল ছুড়ে রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে তাদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের এই প্রতীকী প্রতিবাদ কলেজ ক্যাম্পাসসহ সারা জেলায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
বিজয়ের মাসে এমন প্রতিবাদী উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিকে সময়োপযোগী ও সাহসী উদ্যোগ হিসেবে সাধুবাদ জানান। পাশাপাশি কলেজগামী ও পথচলতি সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তারাও নানাভাবে তাদের ঘৃণা প্রদর্শন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কলেজ শিক্ষার্থীরা জানান।
মাগুরার সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী জুলফিকার আলি বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে এই দেশের মানুষ হয়েও যারা বিরোধিতা করেছে সেইসব রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর প্রতি ঘৃণা জানাতেই প্রতীকী স্তম্ভ বানানো হয়েছে। আমরা চাই সারা দেশের মানুষ, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই বিশ্বাসঘাতকদের ঘৃণা জানাক।
আতিক ফয়সাল সাইফ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা একাত্তর দেখিনি। রাজাকারদেরও দেখিনি; কিন্তু ২৪ সালে এসে তাদের অপকর্মের অনেক নমুনা দেখতে পাচ্ছি। একাত্তরে তারা যেভাবে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে এখনও সেটি অব্যাহত রয়েছে। আমরা তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে যেতে চাই।
অপর শিক্ষার্থী ইমন মোল্যা বলেন, একাত্তরে যারা আমাদের মা-বোনের ওপর নির্যাতন করেছে। লাখ লাখ মানুষকে অন্যায়ভাবে নির্বিচারে হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ঘৃণা জানাই। সারা দেশে একইভাবে সবাই ঘৃণা জানাবে সেই প্রত্যাশা করছি।
