Logo
Logo
×

সারাদেশ

নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগেই ডিভাইসসহ আটক ১০

Icon

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগেই ডিভাইসসহ আটক ১০

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে উত্তর সংগ্রহের প্রস্তুতিকালে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিভাইস ও প্রক্সি পরীক্ষার্থীসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে নাগেশ্বরী উপজেলার শহরের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আটকদের মধ্যে একজন মিনারুল ইসলাম। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। আসন্ন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেও জানা গেছে। অন্যরা হলেন- রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে আব্দুল লতিফ, খামার নকুলা গ্রামের আহাদুজ্জামানের ছেলে শাহজামাল, কাজীপাড়ার মৃত আবুল কাশেম ছেলে বাবু ইসলাম, বাগডাঙ্গা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের মেয়ে জান্নাতুন নাইম, ফুলবাড়ি উপজেলার ভাঙামোড় ইউনিয়নের বোয়ালভির গ্রামের মৃত নাজির হোসেন সিদ্দিকির ছেলে আরিফুজ্জামান সিদ্দিকি, মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাঁশখালি গ্রামের আব্দুল মালেক মৃধার ছেলে হিমেল মাহমুদ, রাজৈর থানার টেকরহাট গ্রামের ইদ্রিস মোড়লের কন্যা চামেলী আক্তার, আরাজি কোমরপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে বেলাল হোসেন ও চরদামাল গ্রামের ময়নাল হকের ছেলে আনেয়ার হোসেন।

নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসা থেকে ছয়জনকে এবং পরে আরও পাঁচজনসহ মোট ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং উত্তরপত্রের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীও রয়েছেন। অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় জানান, আজ বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, উলিপুর ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৩৮টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নেন ২৪ হাজার ২৭৪ জন পরীক্ষার্থী।

পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতি ২৫ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে পরিদর্শক নিয়োজিত ছিলেন। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

এদিকে ঘটনার পর জেলার অন্যান্য পরীক্ষা কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ সতর্ক ছিল।

এ ঘটনায় স্থানীয় ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন জাহান লুনা বলেন, ১১ জনকে আটকের বিষয়টি জেনেছি। আটক ব্যক্তিরা থানা পুলিশের হেফাজতে আছে। বর্তমানে আমরা পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানাতে পারব।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম